সোমবার , ১৪ আগস্ট ২০২৩ | ৬ই আশ্বিন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তরুণ উদ্যোক্তা
  8. ধর্ম
  9. নারী ও শিশু
  10. প্রবাস সংবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  13. বহি বিশ্ব
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

ইসরাইলিদের দেশ ছাড়ার হিড়িক

প্রতিবেদক
bdnewstimes
আগস্ট ১৪, ২০২৩ ২:২৯ অপরাহ্ণ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরাইলের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত একটি আইনের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে ইসরাইলের প্রতি তিনজনের একজন নাগরিক দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। নতুন এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সেদেশের অধ্যাপক চেন হফম্যান একজন। তার স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় একসঙ্গে খাবার খেয়ে ইহুদি সাবাথ পালন করেন। সম্প্রতি বিক্ষোভের তীব্রতার কারণে নিয়মিত এই অভ্যাস ব্যহত হচ্ছে তার।

বিবিসিকে তিনি বলেন, রাস্তায় গিয়ে প্রতিবাদ করা আমাদের সংস্কৃতি নয়। কিন্তু আমরা বাধ্য হয়েছি কারণ আমাদের দেশটিকে হারিয়ে ফেলছি। আমরা এভাবেই ভাবছি।

শীর্ষস্থানীয় ইসরাইলি এই রেডিওলজিস্ট এখন যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সকলেরই অবশ্য ইউরোপীয় পাসপোর্ট রয়েছে। তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, আমি একটি অবসরের জন্য লন্ডন যাচ্ছি। ইসরাইলের বাইরে আমি থাকতে পারি কি না সেটাও পরীক্ষা হবে। যদি পরিস্থিতি এত খারাপ হয় এবং খারাপ হতে থাকে, আমরা থাকার জন্য একটি নতুন জায়গা খুঁজে নেব।

ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করে একটি বিলে গত ২৪ জুলাই সম্মতি দিয়েছে পার্লামেন্ট নেসেট। এই আইন অনুযায়ী, সরকার, মন্ত্রিপরিষদ এবং সরকারি কর্মকর্তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটিকে সুপ্রিম কোর্ট ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করতে পারবে না। বিরোধীরা এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের দাবি, এমন আইন সরকারের ভারসাম্য বিনষ্ট করবে এবং সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমাবে।

আইনটি বাতিলের দাবিতে গত কয়েক মাস ধরে ইসরাইলে ব্যাপক প্রতিবাদ চলছে। তাদের আশা, শেষ পর্যন্ত আইনটি বাতিল হবে। তবে এমন পরিস্থিতিতে অনেক ইসরাইলি দেশত্যাগের কথা বিবেচনা করছেন।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সারা বলেন, আমি আমার বাচ্চাদের এমন অগণতান্ত্রিক একটি দেশে বড় করতে চাই না। একজন তরুণি হিসেবে আমার মেয়ের অধিকার নিশ্চিত না হলে আমি এদেশে থাকব না।

ইমিগ্রেশন বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েকমাসে থিতু হওয়ার জন্য বিদেশে যেতে চাওয়া ইসরাইলির সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। সরকারের বিচারিক পরিবর্তনের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক পতন এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের চলে যেতে বাধ্য করছে।

পর্তুগালভিত্তিক স্থানান্তর বিশেষজ্ঞ রুথ নেভো জানান, প্রথমবারের মতো ইসরাইলি গ্রাহকদের দেখতে পাচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, এটি একেবারেই পাগলামির মতো। বছরের পর বছর ধরে এখানে কোনো ইসরাইলি বাস করতে আসেনি। কিন্তু এখন দিনে ২৫টির মতো আবেদন আসছে।

তিনি বলেন, যারা আবেদন করছে তারা উচ্চশিক্ষিত। আইনজীবী, বিচারক, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার, আইটি সেক্টরের লোক বেশি আসছে। তারা (ইসরাইলে) যা ঘটছে তা নিয়ে খুব চিন্তিত।

ওশান রিলোকেশন নামের একটি ফার্মের সিইও শে ওবাজানেক বলেন, কোন দেশে গেলে ভালো, কিভাবে প্রক্রিয়া শুরু করব— এসব তথ্যের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। যাদের বিদেশি পাসপোর্ট আছে তারা আমাদের কাছে পরামর্শ চাচ্ছেন।

যদিও সাধারণত দেখা যায়, যারা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশ ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন তাদের বেশিরভাগই একসময় এই পরিকল্পনা ত্যাগ করেন। যেমন, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বহু আমেরিকান দেশ ছাড়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, প্রায় সবাই এমন পরিকল্পনা ত্যাগ করেছেন।

তবে ইসরাইলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির জনগণকে গভীরভাবে বিভক্ত করে ফেলেছে। বর্তমান জোট সরকার অতি-অর্থোডক্স ইহুদি এবং ধর্মীয় জাতীয়তাবাদীদের সমর্থনে গঠিত। এ সরকার সামাজিকভাবে রক্ষণশীল মূল্যবোধের এবং জনসংখ্যার তুলনামূলকভাবে উচ্চজন্মহারের মানুষরা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ফলে জোট সরকার দেশটির দ্রুত বর্ধনশীল অংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

এদিকে, ধর্মনিরপেক্ষ ইসরাইলিরা দেশে সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়ায় তাদের উদার জীবনধারা হুমকির মুখে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, আদালত আর তাদের নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে পারবে না।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যালন তাল বলেন, গত ছয় মাসে যা ঘটেছে তা হলো একটি ধীরগতির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাগত বিভক্তি হঠাৎ করে স্পষ্ট হয়ে উঠা।

তিনি বলেন, ইসরাইলের করের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদিরা। এদের বেশিরভাগ বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবায় যুক্ত হয়। অতি-অর্থোডক্স কমিউনিটির মানুষরা সেনাবাহিনীতে যায় না। কয়েক দশক আগেই তাদের সেনাবাহিনীতে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এখন তারা এর সুবিধা ভোগ করছে।

ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের উপকণ্ঠে শেবা মেডিক্যাল সেন্টারের অধ্যাপক হফম্যান জানান, তিনি ইসরাইলে ভ্রূণের নিউরোডিওলজির মাত্র চারজন বিশেষজ্ঞের একজন।

ইসরাইলের প্রতি তিনজনের একজন বিদেশ চলে যেতে চান এমন এক জরিপের ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে বলেন, এখনই চিকিৎসকদের সংকট। আমাদের পাঁচ শতাংশ চিকিৎসকও যদি বিদেশে চলে যায় তাহলে তা একটি বিপর্যয় হবে।

সারাবাংলা/আইই





Source link

সর্বশেষ - খেলাধুলা