সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
20 shots to none: How Spain utterly owned Argentina in FIFA World Cup 2026 final and rendered Lionel Messi irrelevant | Football News Shabana Azmi Backs NEET Protesters At Jantar Mantar; Arjun Kapoor, Sahiba Bali Spark Dating Rumours | Bollywood News বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ভূঞাপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খাসি ভোজ, আমন্ত্রণ সব দলের ভক্তদের হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৫১ জুলাই সনদে সই বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল তিতুমীর কলেজ: হলের ফি কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের একাংশ জর্ডানে ইরানি হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ Jude Bellingham breaks all-time England goalscoring record with sensational strike in World Cup bronze thriller win against France | Football News From Ithacan Seas To Ayodhya: How Christopher Nolan’s The Odyssey Mirrors Ramayana & Mahabharata | Explainers News ‘বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুকরণের দিকেই ধাবিত হচ্ছে’

এক্সপেক্টেশন

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০২৩
  • ১৬২ সময় দেখুন

জাকিয়া জিহান নিপু

কখনওই কাউকে আপনার নিজের প্রত্যাশা এবং স্বপ্নের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবেন না। প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই নিজস্ব কিছু ভাবনা এবং সুখের জায়গা থাকে। সেগুলি আপনার সাথে মিলবে না, এবং এটাই স্বাভাবিক। প্রকৃতি প্রত্যেকটা প্রাণীকেই নিজের মতো করে একটা সুখের জগত তৈরি করতে শিখিয়ে দেয়। সে জগতটাতে বাঁচতে পারাতেই সকল স্বাচ্ছন্দ্য। দিনের শেষে সবাইই মিলিয়ে নেয়, সে কতটুকু নিজের মতো করে নিজের স্বপ্নের জীবনটাতে বাঁচতে পেরেছে। যদি না পারে, তবে সে খুব কষ্ট পায়, যেটা সে কাউকেই দেখাতে পারে না। বেঁচে থাকাটা তখন তার কাছে স্রেফ একটা অভ্যস্ততা ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনার কাছে কিন্তু ওই ব্যাপারটা অতোটা চোখে পড়বে না। কারণ, আপনি আপনার স্বপ্নের মতো করে ওকে বাঁচতে বাধ্য করেছেন। মজার ব্যাপার হল, আপনি বিশ্বাস করে বসে আছেন, ওর ভালর জন্যই আপনি সেটা করছেন, কারণ, আপনি জানেন, ও ওরকম করে বাঁচলে ও ভালো থাকবে। আপনি ভাবছেন, ও যা ভাবে, ও যা করে, সেসব ভুল। আচ্ছা, আপনি কীকরে জানলেন, ও ভুল? আপনি আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা আশেপাশের পৃথিবী থেকে শুনে, ধার করে, বুঝে সবার ব্যাপারেই একটা গৎবাঁধা রায় দিয়ে ফেলতে পারেন না। যা আপনার জন্য ভাল, তা সবার জন্যই ভাল হতেই হবে কেন? অন্য কারওর জীবনে বেঁচে দেখেছেন কি কখনও ওর মতো করে? অন্য কাউকে নিয়ে ভাবতে হয় ওর মতো করে, আপনার মতো করে নয়।

রাস্তার ডাস্টবিনের পাশে যে কুকুরটা শুয়ে আছে, কোনও এক অসীম মমত্ববোধে ও যাতে আরও ভালভাবে ঘুমাতে পারে, সেজন্যে ওকে ধরে ঘরের এসি’তে নিয়ে আসবেন না, প্লিজ। বিশ্বাস করুন, ও সেখানেই পরম সুখে আছে। কারওর সুখের সমীকরণ আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। কারণ, আপনি কখনওই ওর জীবনটাতে বেঁচে দেখেননি, ওটাতে কেমন করে বাঁচলে ভাল লাগে। আপনার প্রতি ভালোবাসা কিংবা দায়বদ্ধতার এক অদৃশ্য দেয়াল ভাঙতে পারে না বলে আপনি দিনের পর দিন একটা মানুষকে আপনার প্রত্যাশামাফিক বাঁচতে বাধ্য করতে পারেন না। It’s a crime! আপনি ওকে সুখের ঠিকানা ঠিক করে দিচ্ছেন আপনার মতো করে, ওর মতো করে না। এতে আসলে আপনি আপনার নিজের সুখের ঠিকানাটাই ওকে কষ্ট দিয়ে ওর জীবনের বিনিময়ে খুঁজে নিলেন। বুকের ভেতরে যন্ত্রণা লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে আপনার চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তটাই ও মেনে নেয় আর দিনের পর দিন স্রেফ বেঁচে থাকে খাদ্যগ্রহণ করে বলে।

কে কখন কীভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে, কেউই বলতে পারে না। মৃত্যুর আগে নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার সবারই আছে। একটা মানুষ যদি আপনার জন্য, শুধু আপনার মুখে হাসি ফোটাবার জন্য, আপনাকে মুখের উপরে ‘না’ বলতে পারে না বলে আপনার বেঁধে-দেয়া পৃথিবীটাতে বেঁচে থাকে, আর আপনি মনেমনে খুশি হয়ে ওঠেন এই ভেবে যে, ও তো ভাল আছে, এইভাবে করেই তো মানুষ ভাল থাকে; তবে আমি বলবো, আপনি একটা স্বার্থপর মানুষ ছাড়া আর কিছুই নন। আপনি ওকে যে সুখের পৃথিবীতে বাঁচতে বাধ্য করতে চাইছেন, সেটা আপনার নিজের ভাবনায় গড়া সুখের পৃথিবী, ওর নয়। একেকটা মানুষের সুখের পৃথিবীর চেহারা একেকরকমের। এবং, সেগুলির কোনওটাকেই ভুল বলে দেয়ার অধিকার আপনাকে দেয়া হয়নি, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই পৃথিবী আপনার পৃথিবীটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে না। আপনার পৃথিবীটা সুন্দর, তাই বলে ওর পৃথিবীটা অসুন্দর হবে কেন? কেন ওর পৃথিবীটাকে আপনার পৃথিবীর মতো করেই সাজাতে হবে? আপনাকে তো আর ওটাতে থাকতে হচ্ছে না, ওকে থাকতে হচ্ছে। কেন ওকে জোর করে আপনার ভাবনায় গড়া একটা ছকে ওর নিজের জীবনটাকে বেঁধে ফেলতে বাধ্য করছেন? যদি সেটা করেন, এবং সেই ছকেই ও ওর জীবনটা টেনেহিঁচড়ে যায়, তবে আমি বলবো, আপনি ওর ভেতরটাকে খুব নির্দয়ভাবে হত্যা করে ফেলেছেন। ও মৃত্যুর আগে সত্যিকার অর্থে বেঁচে থাকতে পারেনি। এর জন্য আপনি, আপনি এবং শুধুই আপনি দায়ী! প্লিজ ওর মৃত্যুর পর ওর জন্য কষ্ট পেয়ে কাঁদবেন না। আপনার এই কান্না অত্যন্ত বিশ্রী ও অর্থহীন। ও যখন বেঁচে ছিল, তখন আপনি ওর কথা ভাবেননি, ওর জন্য কাঁদেননি। মৃত মানুষ কান্নার শব্দ শুনতে পায় না, চোখের জল দেখতে পায় না। আশেপাশের সবাই ভাববে, আহা! ও বেঁচে থাকতে আপনি ওর কথা কত ভাবতেন, ওর মৃত্যুর পরেও আপনি ওর শোকে মুহ্যমান। কিন্তু আর কেউ না জানুক, বিধাতা তো জানেন, আপনার নিজস্ব ছকের অসহ্য সুখের ব্যাকরণে জীবনটা কাটাতে গিয়ে ও কতটা মরে বেঁচেছে! ও এখন একজন সুখী মৃত মানুষ যে আপনার হাত থেকে বাঁচতে পেরে সুখে ঘুমিয়ে আছে। আপনার চোখের অর্থহীন জলের আলপনায় ওর ঘুমটাকে বিষাদমাখা করে দেবেন না, প্লিজ!

যতদিন বেঁচে আছে, সবাইকেই নিজের মতো করে বাঁচার সুযোগ দেয়া উচিত। নাহলে মৃত্যুর আগে একটা আফসোস বুকের মধ্যে রয়ে যাবে—-যতদিন বেঁচে ছিলাম, নিজের মতো করে বাঁচতে পারলাম না। আপনি যাদের কথায় প্রভাবিত হয়ে কাউকে ওর নিজের মতো করে বাঁচতে দিচ্ছেন না, একটু ভাবুনতো, ওর এই মৃত্যুর আগের আফসোসগুলিতে ওদের আদৌ কিছু এসে যায় কি না? আফসোসগুলি হয়তো আপনি কোনওদিনই জানতে পারবেন না। জানতে পারলে, একটুখানিও অনুভব করতে পারলে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যেতেন! প্রত্যেকটা জীবকেই তার নিজের মতো করে বাঁচতে দেয়া উচিত। কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল, মানুষ, যা-ই হোক না কেন। সবার সবকিছু খেতে ইচ্ছে করে না, সবার সব জায়গায় যেতে ইচ্ছে করে না, সবার সব কাজ করতে ইচ্ছে করে না। সবারই সেরা হতে ইচ্ছে করে না। সেরা হওয়ার ধকল নিয়ে জীবনটাকে বিষিয়ে ফেলতে কেন সবাইই চাইবে
?

একইসময়ের একইরকমের পরিবেশে একেকজন একেকরকমভাবে বাঁচে। আপনার ভালথাকাটা বৃষ্টি নিয়ে, আমার ভালথাকাটা রোদ্দুর নিয়ে, আর ওরটা? বৃষ্টি, কিংবা রোদ্দুর যা-ই হোক না কেন, ও ভাল থাকে। আপনি কোন অধিকারে বলে বসেন, “শুধু বৃষ্টি নিয়ে থাকাই ভালথাকা! বাকি সব বাজে ফালতু ভুয়া!” ওরকম একটা মনগড়া ভাবনায় আপনার বসবাস হলে আপনি সত্যিসত্যিই একটা যত্তোসব টাইপের মানুষ! আপনি সত্যিই জানেন না, আপনি আপনার ভালথাকার নিজস্ব সমীকরণগুলির ফাঁদে ফেলে নিজের অজান্তেই কারওর-কারওর ভালথাকাটাকে গলাটিপে হত্যা করছেন! হ্যাঁ, আপনি খুনি, আপনি খুনি, আপনি খুনি!

পৃথিবীর সবচাইতে জরাজীর্ণ শব্দ হচ্ছে: এক্সপেক্টেশন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom