মঙ্গলবার , ৯ মে ২০২৩ | ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তরুণ উদ্যোক্তা
  8. ধর্ম
  9. নারী ও শিশু
  10. প্রবাস সংবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  13. বহি বিশ্ব
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

নির্বাচনি মাঠ শূন্য করতে সরকার ‘পুরনো খেলা’ শুরু করেছে: ফখরুল

প্রতিবেদক
bdnewstimes
মে ৯, ২০২৩ ৫:২৫ অপরাহ্ণ


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নির্বাচনি মাঠ শূন্য করতে সরকার আবারও ‘পুরনো খেলা’ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (০৯ মে) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়াপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকার, যারা নির্বাচিত নয়, যাদের জনগণের ম্যান্ডেট নেই তারা আবারও সেই আগের খেলায় মেতে উঠেছে। তারা যেভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় এখন বিরোধী দলকে সম্পূর্ণভাবে মাঠ থেকে সরে দিতে তারা নির্বাচনে ‘রিগিং প্রসেস দে স্টার্ট’ শুরু করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার সময় তারা শুরু করেছিল। এবার তারা অনেক আগে থেকে শুরু করেছে। মামলা-মোকাদ্দমা, সন্ত্রাস-ত্রাসসহ বিভিন্ন আইনে মিথ্যা মামলা ও গায়েবি মামলা করে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে মাঠ থেকে পুরোপুরিভাবে সরিয়ে দেওয়ার সেই কাজটি তারা শুরু করে দিয়েছে। তাদের (সরকার) লক্ষ্য হচ্ছে একটা নীলনকশার নির্বাচন করা। বিরোধী দলকে পুরোপুরি মাঠ থেকে বের করে দেওয়া এবং এরপর সেই নীলনকশার নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসা।

‘এবার কি পারবে?’- এক সংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একেবারেই পারবে না। কারণ, এবার জনগণ ইতিমধ্যে রাস্তায় নেমেছে, জনগণ আন্দোলন শুরু করেছে। ইতিমধ্যে আমাদের ১৭ জন মানুষ এই আন্দোলনে রাজপথে প্রাণ হারিয়েছে, আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী গ্রেফত্রা হয়েছে। আন্দোলন চলমান আছে, এই আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন আরও বেগবান হবে, আরও তীব্র হবে। এই সরকার বাধ্য হবে জনগণের দাবি মেনে নিতে।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন একটা ওয়েবের মতো। এটা কখনো ওঠে, কখনো নামে। জনগণের সব পরিপ্রেক্ষিত বুঝে নিয়ে আন্দোলনটা করতে হয়। যেমন রোজার মাস, রোজার মাসে তো স্বাভাবিকভাবে তো যারা রোজা রাখেন. সেটাতে খেয়াল রাখতে হয়। তখনও আমরা কর্মসূচি দিয়েছি এবং আপনারা দেখেছেন ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন হয়েছে, আমাদের পদযাত্রা হয়েছে, আমাদের সমাবেশ হয়েছে। যারা আন্দোলনের অংশীদার আছেন, শরিক দলগুলো আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা চূড়ান্ত পর্যায় এসেছি। খুব শিগগিরই নতুন করে কর্মসূচি জানতে পারবেন।’

পুরনো মামলার চূড়ান্ত রায় দিতে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধুমাত্র বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে তাই না। তারা যে সমস্ত মিথ্যা মামলা অতীতে দিয়েছিল সেই মিথ্যা মামলাগুলোর চূড়ান্তভাবে রায় দেওয়ার জন্যে খুব দ্রুততার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটা তালিকা প্রস্তুত করে সেই তালিকা অনুযায়ী দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে তারা (সরকার) ব্যবহার করতে শুরু করেছে ইনক্লুডিং জুডিশিয়ারি এন্ড এডমিনিস্ট্রেশন। বিরোধী দলের সিনিয়ন নেতৃবৃন্দ, নেতৃবৃন্দ এবং যারা এই চলমান আন্দোলনে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন তাদেরকে কীভাবে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য তারা কাজ করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারা দেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে ১ লাখ, ১১ হাজার, ৫৪৩টির অধিক মামলা দায়ের করেছে এই সরকার। আসামীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮১ অধিক। তার মধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ২ হাজার ৮৩০ এর অধিক মামলা রয়েছে, ঢাকাতেই আছে ১৫‘শ মামলা বিরোধী মত ও বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মুক্ত মত প্রকাশের মানুষের বিরুদ্ধে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচনকালীন সরকারের বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানোর ইঙ্গিতের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিকরা) কি বিশ্বাস করেন? ২০১৮ সালে প্রধান যিনি এই বাড়িতে (গণভবনে) আছেন শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে আমরা তাঁর সাথে সংলাপে বসেছিলাম। সেই সংলাপে যে সমস্ত কথা তিনি দিয়েছিলেন সেগুলোর একটাও রক্ষা করেননি। সুতরাং ওবায়দুল কাদেরের কথায় আস্থা রাখা,বিশ্বাস করা-এটার প্রশ্নই ওঠে না। এগুলোকে আমি মনে করি আরেকটি চক্রান্ত জনগনকে বিভ্রান্ত করবার। তারা বলবে যে এই তো আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, ওরা শুনছে না, যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা খুব পরিষ্কার-আমরা বিএনপিকে ক্ষমতায় নেওয়া বা বিরোধী দলকে ক্ষমতায় নেওয়া এজন্য আন্দোলন করছি না। আমাদের জনগণের যে ভোটের অধিকার কেড়ে ফেলেছে, মানুষের যেন ভোট দিতে পারে.. গত দুইটি নির্বাচনে মানুষ ভোটই দিতে পারেনি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও তারা ভোট দিতে পারে না।’

‘কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে একটা উপনির্বাচন হয়েছে নির্বাচন কমিশন বলছে যে, মাত্র ১৪% মানুষ ভোট দিয়েছে। তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে? যেখানে ভোটে মানুষ উৎসব করতো, সেই জায়গায় ১৪ শতাংশ লোক ভোট দিতে যায়.. মানুষের টোটালি ভোটের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কারণ, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পিতভাবে জনগণের সেই আগ্রহটাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে যাতে করে তারা নিজের মতো করে ব্যালট ভোট বাক্সে ভরতে পারে’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা না করলেও আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন, বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে তারা। গাজীপুরে এক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। একতরফা বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন করছে। সিলেটে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার ও বাসায় বাসায় তল্লাশি করছে। এই বিষয়টি সিলেটের নেতৃবৃন্দ সেখানকার পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করেছে।’

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে গতকাল বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা কাউকে কোনো নালিশ করি না, আমরা কাউকে কিছু বলতে যাই না, এটা মনে রাখতে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখানে বিদেশি যে সমস্ত মিশন আছে অথবা যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে রুটিন আলোচনা হয়, সেই আলোচনা হয়েছে।’

সারাবাংলা/ এজেড/ এনইউ





Source link

সর্বশেষ - খেলাধুলা