সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

কর্ণফুলীতে খালের ওপর সাঁকো নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৬৭ সময় দেখুন
কর্ণফুলীতে খালের ওপর সাঁকো নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে খালের ওপর অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিকলবাহা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল নেতা মোহাম্মদ মামুন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে কর্ণফুলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুল আবছার।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩০ মে) মোহাম্মদ নুরুল আবছার কর্ণফুলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। জিডি নম্বর-১৬৫৬।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৯ মে সন্ধ্যার পর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তার সোনামিয়ার বাড়ি সংলগ্ন আয়েশা অ্যাগ্রো এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে তার গবাদিপশুর খামারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে শিকলবাহা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চিতার বাপের বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ মামুন, আবুল কালাম, মোহাম্মদ নবী ও মোহাম্মদ ইয়াছিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালের ওপর একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এলাকাবাসীর দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাঁকোটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি অপসারণ বা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ২৯ মে সন্ধ্যার পর বিষয়টি কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া সংঘর্ষের সময় একটি খামারের কয়েকটি গরু ইটের আঘাতে আহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি সেতু রয়েছে। এরপরও কিছু ব্যক্তি অস্থায়ী সাঁকোটি চালু রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সাঁকোটি ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও মাদক পাচার সহজ করার উদ্দেশ্যে এটি বহাল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী নুরুল আবছার বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মামুন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সাঁকো নির্মাণের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার এসআই ইমরান ফায়সাল বলেন, “অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom