বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

কালো কাপড়ে ঢাকা নিয়ে সন্দেহ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৩২ সময় দেখুন
কালো কাপড়ে ঢাকা নিয়ে সন্দেহ


উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় নাভানা সিএনজির সামনের সড়কে পার্ক করে রাখা একটি প্রাইভেটকার থেকে দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাড়ির ভেতর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই কিশোর যখন গাড়ির ভেতরে ঘুমাচ্ছিল তখন কে বা কারা বাইরে থেকে গাড়িটি কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল। এরপরপুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দুই কিশোরের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে অনুসন্ধানে নেমেছে।

জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় দুই কিশোরের মুখ ও নাক দিয়ে ফেনা জাতীয় কিছু বের হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে দুই কিশোর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই কিশোর যখন গাড়ির ভেতরে ঘুমাচ্ছিল তখন গাড়ির গ্লাস ও দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা ছিল। এরপরেও কালো কাপড় দিয়ে পুরো গাড়ি ঢেকে দেওয়ায় তীব্র বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালো কাপড় সরিয়ে দুই কিশোরকে ডেকে সাড়া না পেলে গ্যারেজের মালিক নিজেই কৌশলে দরজা খুলে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন। এরপর টহল পুলিশকে ডেকে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নাভানা সিএনজির সামনের সড়কে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য ও গোয়েন্দারা বিভিন্ন বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন। উৎসুক জনতা আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে কিভাবে দুইটা ছেলের মৃত্যু হলো তা জানার জন্য।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাজলরেখা নামে এক নারী। তিনি গৃহকর্মীর কাজ করেন। কাজল রেখা সারাবাংলাকে বলেন, জহির নামে তার এক ভাতিজা গ্যারেজে কাজ করেন । সেই হিসেবে গ্যারেজে মৃত দুজনসহ আরও অনেককে চেনেন। গতকাল (৩০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কাজ শেষ করে যখন ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখনও মৃত দুজনসহ অন্যান্যদের গাড়িতে রঙ করতে দেখেন। কাজল থাকা অবস্থাতেই মৃত দুজনকে জহির বলেন, তোমরা এখন যাও। তোমাদের এখন ছুটি। এরপর তিনিও চলে যান।

প্রাইভেটকার থেকে মরদেহ উদ্ধার: কালো কাপড়ে ঢাকা নিয়ে সন্দেহ

কাজলরেখা বলেন, আজকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বের হয়ে ওই গ্যারেজের সামনে অবস্থিত চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন। ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে গ্যারেজের মালিক বাচ্চু ও জহির এসে দুজনকে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে ডাকতে থাকেন। তাদের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আরও জোড়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। তাদের ডাকাডাকির কারণে আশেপাশের লোকজন এসে জড়ো হন। বটতলায় থাকা টহল পুলিশকেও ডেকে আনা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই বিকল্প উপায়ে গাড়ির দরজা খোলা হয়। এরপর তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে পাঠানো হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে কাজলরেখা বলেন, গাড়িটি কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া ছিল। এটা কে দিলো, সেটাই জানা দরকার আগে। সবার ধারণা গ্যাস জমে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

শাহবাগ থানার টহল পুলিশের কনস্টেবল শাহীন শাহ সারাবাংলাকে বলেন, আমরা সকাল থেকে বটতলায় ডিউটিতে ছিলাম। দুজন কাঁদতে কাঁদতে আমাদের কাছে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে এসে দরজা খুলে দেখি দুজন অচেতন অবস্থায় দুই সিটে পড়ে আছে। নাকে মুখে সাদা ফেনা ছিল। এরপর তাদের বের করে সিএনজিতে করে ঢামেকে পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৃত রাকিব ও সিয়াম দুজনই গাড়িতে রঙ করার কাজে সহযোগী হিসেবে কাজ করত। জহিরের সহযোগী হিসেবে কাজ করত সিয়াম আর বাচ্চুর সহযোগী ছিল রাকিব। গতরাতে তারা দুজনই মেরামত করার জন্য পার্কি করে রাখা একটি গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ে। নাভানা সিএনজির সঙ্গে এই গ্যারেজের কোনো সম্পর্ক নেই। বাচ্চু এবং জহির দুজন মিলে সড়কের উপর কোনো প্রকার দোকান বা গ্যারেজ না রেখেই গাড়ি মেরামত করতেন।

নাভানা সিএনজির নিরাপত্তারক্ষী ওমর ফারুক বলেন, নাভানা সিএনজির গ্যারেজের গেট বিকেল ৫টায় বন্ধ করা হয়। এরপর ছোট পকেট গেট খোলা থাকে। তবে সড়কে কোনো গাড়ি আমাদের গ্যারেজের নয়। সড়কের ফুটপাতে বাচ্চু ও জহির বিভিন্ন মানুষের গাড়ি মেরামত করতেন। তারা বিশেষ করে গাড়ির ও গ্লাস রঙ করতেন।

গ্যারেজের মালিক বাচ্চু বলেন, মৃত সিয়াম মজুমদারের বাড়ি কুমিল্লার লালমাই উপজেলায়। জহিরের সহকারী হিসেবে কাজ করত সে, আর ধোলাইপাড় এলাকায় চাচা জহিরুলের বাসায় থাকত। মৃত আরেকজন রাকিবের বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার মুন্সিডাঙ্গা গ্রামে। সে নন্দীপাড়া আমার বাসাতেই থাকত। গতকাল দুজনই গ্যারেজের গাড়িতে ঘুমায়।

জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদূত হাওলাদার সারাবাংলাকে বলেন, দুই জন কিশোরের মৃত্যুর ঘটনাটি একেবারে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। কি কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা জানতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্যারেজের মালিকসহ বেশ কয়েকজনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গাড়ির মালিককে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে মৃত্যুর মূল রহস্য উদঘাটন করা সহজ হবে।

সারাবাংলা/ইউজে/এসএসএ





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর