বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন

দূর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে চাই নারীর ক্ষমতায়ন

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৩২ সময় দেখুন
দূর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে চাই নারীর ক্ষমতায়ন

পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স কর্মসূচি সিলেট, সুনামগাঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং কক্সবাজার জেলায় নারী ও মেয়েদের নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে “দিশারি”- এডভান্সিং দি লিডারশিপ অব উইমেন অ্যান্ড গার্লস টুয়ার্ডস বেটার হেলথ অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স নামে নতুন একটি প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে।

এই লক্ষ্যে গত ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৩, মঙ্গলবার, কক্সবাজার-এর হোটেল কক্স টুডে-এ অংশীদারদের নিয়ে দিনব্যাপি একটি সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। জনাব মোহাম্মদ আবুল কালাম, উপ পরিচালক, কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা(ভারপ্রাপ্ত), বিভাগ-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব মুহম্মদ শাহীন ইমরান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. মাহবুব-উল-আলম, কান্ট্রি ডিরেক্টর, পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল।

জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দূর্যোগকালীন সময়ে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যসহ প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া দূর্যোগকালীন সময়ে লিঙ্গ-বৈষম্য এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার ফলে নারীর সক্ষমতা এবং কমিউনিটির উন্নয়ন কাজে অংশগ্রহন বাধাগ্রস্থ হয়। এই প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তন জনিত এইসকল পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং তা থেকে উত্তরনের লক্ষ্যে কমিউনিটিকে সহায়তা করবে।

“তথ্য-উপাত্ত ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, আগামী দিনগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আমাদের নারী এবং কিশোরীরা আরও সংকটে পড়বে। সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণ, ক্ষমতায়ন, এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারীর নেতৃত্বে কার্যক্রম বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।” বলেন জনাব মো. মাহবুব-উল-আলম, কান্ট্রি ডিরেক্টর, পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল।

পাথফাইন্ডারের সমন্বিত পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, পুষ্টি-উন্নয়ন এবং পানি, স্যানিটেশন, এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন। প্রকল্পটি বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে। নারী ও মেয়েদের নেতৃত্বের বিকাশ এবং সেই সাথে দূর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অংশিদারদের সাথে আলোচনা এবং কর্মপরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

এ বিষয়ে প্রকল্পের ম্যানেজার জনাব আলমগীর হায়দার বলেন “দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা পরিকল্পনায় নারীকে বিবেচনায় রাখা হলেও মাঠ পর্যায়ে এর প্রতিফলন মূল বিবেচ্য বিষয়। আমরা আশা করছি এই প্রকল্পটি সরকারী দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা পলিসি এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগী ভুমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, “এক সময় দূর্যোগ হলে আমরা যেটা করতাম তা হল মানুষকে আশ্রয়ন কেন্দ্রে নিয়ে আসা। কিন্তু বর্তমানে অনেক কিছুর পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু আশ্রয়ন কেন্দ্রে নিয়ে আসাটা মূল বিষয় না। আশ্রয়ন কেন্দ্রে যাতে সকল সুযোগ সুবিধা গুলোর ব্যবস্থা থাকে সেটার প্রতিও নজর দেওয়া হচ্ছে।“ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো গর্ভবতী নারী এবং শিশু বান্ধব করার জন্য গুরুত্ব প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব মোহাম্মদ আবুল কালাম, উপ পরিচালক, কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা(ভারপ্রাপ্ত) বলেন, “দূর্যোগের কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্য সেবা যোগপযোগী করতে হবে যেন দুর্যোগের সময় সেবা চলমান থাকে। দিশারী প্রকল্প সেই লক্ষ্যে কাজ করবে। আশা করি এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতা উপকৃত হবে।” প্রকল্পে স্বর্বাত্বক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, কৃষি, মৎস্য, জনস্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প,প্রাণী সম্পদ ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহন করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁদের গুরুত্বপুর্ণ মতামত, পরামর্শ, এবং দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা’র সহযোগিতায় প্রকল্পটি কক্সবাজারে বাস্তবায়িত হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর