জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
মোঃ আল-আমিন,
শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন সরদারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের দোকান ঘরের দেয়াল ভাঙচুর করে ৭টি দোকান বন্ধ রেখে জমি দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী দোকান মালিক মামুন খান ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টায় শরীয়তপুর রিপোর্টাস ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে মামুন খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত ২১ আগস্ট প্রথমে তারা দেয়াল ভাঙচুর করে দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের লাঞ্চিত করে। পরে ২৪ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট আট দিন যাবত দোকান বন্ধ রেখে জমি দখল করেছেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন সরদার ও আমির সরদার গংরা। পুলিশ এসে দোকান খুলে দেওয়ায় প্রতিনিয়ত তারা জীবন নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
মামুন খান সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, সদর হাসপাতাল সংলগ্ন তুলাসার মৌজায় বিআরএস ২৬১০ নং দাগে ৫১ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন আমার বাবা মৃত সামাদ খান। ২০১৫ সালে বাবা আমাকে ৩১ শতাংশ ও আমার তিন বোনকে ২০ শতাংশ জমি লিখে দেন। ওই তিন বোনের মধ্যে রুমা খান জুরি ২০১৯ সালে ৩ শতাংশ জমি মো. আমির আলির কাছে রেজিষ্ট্রি বায়না করেন। কিন্তু সেই রেজিষ্ট্রি বায়নায় উল্লেখ্য ছিল ৩ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে জমি সাব কবলা দলিল করে নিতে হবে। ৩ মাস অতিক্রম হলে রেজিষ্ট্রি বায়না বায়না বাতিল হয়ে যাবে। ওই বায়না রেজিষ্ট্রির সময় থেকে ৪ বছর পার হয়ে গেছে এখন। যে ৩ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য বায়নাপত্র করা হয়েছিল সেই জমি আমার জমির দক্ষিণ পাশে। কিন্তু তারা ওই জমি সাব কবলা করে না কিনেই জমি ভরাট করার জন্য বাঁধ দেন ২ বছর আগে। এভাবেই তারা জোর পূর্বক জমি দখলের পায়তারা করে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন সরদারের নেতৃত্বে জামাল সরদার, আমির সরদার, বিল্লাল পাহাড়, সিরাজ সরদার আমার জমির উপর নির্মাণ করা দোকান ঘরের দেয়াল ভেঙে ফেলে। এছাড়াও রাস্তার পাশে থাকা ৭ টি দোকানের ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান বন্ধ করে দেয়। এসময় দোকানে থাকা বিদ্যুতের মিটারও খুলে দেয় তারা। এরপর তারা আমার জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেন ও জমির মালিকানা দাবী করে সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখে চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ দোকান খুলে দেয়। এরপর থেকে তারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমি আমার জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সুমাইয়া হোটেলের মালিক মো. শাহজাহান বলেন, আমার দোকানে প্রতিদিনের মালামাল প্রতিদিন বিক্রি করতে হয়, নয়ত নষ্ট হয়ে যায়। যুবলীগের সভাপতি হোসেন সরদার, জামালসহ আরো ১০-১৫ জন লোক এসে দোকান বন্ধ করতে বলে। তখন আমি তাদেরকে বলেছিলাম, আমার দোকানে সব কাচামালের জিনিস রয়েছে, এখন বন্ধ করে দিলে সব নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু তারা কোন কথা না শুনে জোর করে দোকান বন্ধ করে দেন। দোকান বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে এখন।
এবিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ৬ জন পার্টনার মিলে মামুন খানের বোনদের থেকে ১০ শতাংশ জমি ২০১৯ সালে বায়নাপত্র করি। রেজিস্ট্রি বায়নার কোন মেয়াদ নাই, যতই লেখা থাকুক জীবনেও এর মেয়াদ যাবে না। ৮ দিন বন্ধ রাখি নাই ১ দিন বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে তারা অন্য কোনো কারণে দোকান বন্ধ রাখছে কিনা তা আমি জানিনা। আমি দোকানপাট বা কোন দেয়াল ভাঙচুর করি নাই। আদালত এই বিষয়টি সমাধান দিতে পারে না। চাইলেই স্থানীয় ভাই ব্রাদার থাকলেই সমাধান দেওয়া সম্ভব ।
পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, জেলা পুলিশ সুপার আমাকে ঘটনার বিষয়টি জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ভাঙচুর বন্ধ করে দিয়ে দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়।