শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মিথ্যা মামলা, হামলা, বাড়িঘর হারিয়েও থেমে নেই সত্যের সৈনিক রিয়াজ উদ্দিন রানা Ghamasaan Review: Pratik Gandhi, Arshad Warsi’s Thriller Starts Slow, Builds Tension, Ends Too Soon | Bollywood News 23 years after Rakesh Yadav, Tanya Chaudhary keeps Baghpat’s hammer-throw legacy alive with national record | More sports News শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও দেশে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন রাজশাহীতে চুরি যাওয়া স্বর্ণের আংশিক উদ্ধার কুমিল্লায় হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমতা প্রতিষ্ঠায় সংস্কার চলছে: ধর্মমন্ত্রী কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটের কারনে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত বিপাকে কারখানার মালিক ব্রিকস সম্মেলন: ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী ‘It’s A Compliment’: Taapsee Pannu On Jaya Bachchan Comparison Over ‘Rude’ Behaviour With Paparazzi | Exclusive | Bollywood News

প্রেমিকের কাছে সহপাঠীদের ছবি পাঠানো সেই ইবি ছাত্রী হল থেকে বহিষ্কার, তদন্ত কমিটি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭৮ সময় দেখুন
প্রেমিকের কাছে সহপাঠীদের ছবি পাঠানো সেই ইবি ছাত্রী হল থেকে বহিষ্কার, তদন্ত কমিটি


ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হলে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া এক ছাত্রীর প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত জানানো হয়।

এছাড়া, এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। কমিটিতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে আহ্বায়ক এবং দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম।

এ ছাড়া হলের প্রভোস্ট স্বাক্ষরিত পৃথক আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-৩৬ হলের সব আবাসিক ছাত্রীকে অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, অভিযুক্ত ছাত্রীর বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা আগামী ৯ আগস্ট অফিস সময়ের মধ্যে প্রভোস্ট বরাবর লিখিতভাবে জমা দিতে হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী। তিনি জুলাই-৩৬ হলের একজন আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে ছবি পাঠানোর বিষয়টি হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে জানাজানি হলে তারা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ ঘটনার জেরে রাতভর হলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তার দোষ স্বীকার করায় তাকে প্রাথমিকভাবে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও রুমমেটদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলে থাকা কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হলে কিছু ছবি ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান আবিদ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, আবিদ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঐশীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সময়ই তার কাছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করেছি। কিছু স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করেছি।’ এ ঘটনার পর এখন অনেক শিক্ষার্থী হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী বলেন, ‘আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে এসব ছবি তাকে পাঠিয়েছি। সে আমাকে একের পর এক ভিডিও কল দিত। আমি কোন পরিস্থিতিতে আছি, সেটা বোঝাতে রুমমেটদের ছবি পাঠাতাম। এছাড়া তারাও (রুমমেট) ওই ছেলেকে চিনত। এমনকি সে দেশে এলে তারা তার সঙ্গে দেখা করে ট্রিটও নিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে সে আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আমি পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়েতে রাজি হইনি। তাই সে এখন আমার বিভিন্ন সময়ে পাঠানো ছবিগুলো নিয়ে প্রত্যেককে ইনবক্স করে এসব শুরু করেছে। আমি খুব বাজেভাবে ফেঁসে গেছি। এখন আমার ‘সরি’ বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

ঐশীর প্রেমিক ও লন্ডনপ্রবাসী আবিদ বলেন, ‘ঐশীর একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সেসব ছবি ও ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ আমার কাছে আছে। সে যখন অন্য মেয়েদের ব্যক্তিগত ছবি আমাকে পাঠাত, তখন আমি তাকে বারবার নিষেধ করতাম। কিন্তু সে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উলটো হাসাহাসি করত। আমার কাছে মনে হতো, এসব করে সে এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পেত। কোনো সুস্থ মানসিকতার মানুষ এমন আচরণ করতে পারে না। তার জন্য আমি অনেক অর্থ ব্যয় করেছি। শুধু তার কথা ভেবেই দুই মাস আগে লন্ডন থেকে দেশে এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও গিয়েছিলাম। আশা করেছিলাম, সময়ের সঙ্গে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন তার প্রকৃত আচরণ সবার সামনে এসেছে। সে আমার জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার বলেন, ‘আমি অলরেডি কাজ শুরু করেছি। আগামীকাল শনিবার কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসব। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এ তদন্তের রিপোর্ট দেব, ইনশাআল্লাহ।’

এ বিষয়ে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনাটি আমি অনেক রাতে জানতে পেরেছি। সকালে হলে এসে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নিয়েছি। ভিন্ন ভিন্নভাবে সর্বমোট ৭টি অভিযোগ পেয়েছি। ​এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হল বডি, আবাসিক শিক্ষকদেরকে নিয়ে মিটিং করেছি। আমরা আগামী আরও তিনদিন অভিযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তাকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করছি। তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছি। কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নিজেও কিছুটা স্বীকার করেছে। তাই তাকে প্রাথমিকভাবে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’

 





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর