মঙ্গলবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তরুণ উদ্যোক্তা
  8. ধর্ম
  9. নারী ও শিশু
  10. প্রবাস সংবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  13. বহি বিশ্ব
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

শখের বাইক ‘কাল হল’, ৫৪ লাখ টাকা হাতিয়ে ধরা

প্রতিবেদক
bdnewstimes
জানুয়ারি ২৪, ২০২৩ ২:০৬ পূর্বাহ্ণ


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের এক সুপারভাইজার। ব্যবসায়ীকে সিগারেট মজুতের লোভের ফাঁদে ফেলে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা হাতিয়ে ‘এক কাপড়ে’ চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছিল রাজশাহী। সেখানে গিয়ে কিনেন একটি মোটর সাইকেল। এদিকে মামলার সূত্রে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাজশাহী শহরে মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করে বসেন। অনলাইনে মামলার সূত্রে তার নাম-নম্বর পেয়ে যায় পিবিআই। অবস্থান শনাক্ত করে রোববার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার ছোট বনগ্রামে বাসায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাকে এবং তার বাবাকে। ওই বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয় ৩৭ লাখ টাকা।

গ্রেফতারের পর হাসিব শেখ (২৭) ও তার বাবা হেদায়েত শেখকে (৫৫) সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পিবিআইয়ের কার্যালয়ে আনা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের মূল বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। তবে মা-বাবাসহ হাসিব দীর্ঘসময় ধরে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় থাকতেন। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ভূগোল বিষয়ে অনার্সের ছাত্র ছিল হাসিব। তৃতীয় বর্ষে ওঠার পর পড়ালেখা ছেড়ে দেন। ‘এম এস জাওয়াদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সিগারেট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করছিলেন।

গত ১৭ অক্টোবর সুপারভাইজার হাসিব শেখ এবং তার অধীন একই প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি রুবেল ও ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে নগরীর ইপিজেড থানায় প্রতারণার মাধ্যমে ৫৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ইপিজেড এলাকার দোকান মালিক মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মাসুদ রানা সারাবাংলাকে জানান, সিগারেট কোম্পানিগুলো বছরের বিভিন্নসময় কম দামে বিক্রির অফার দিলে তারা বেশি পরিমাণে সিগারেট কিনে মজুত করে রাখেন। হাসিব তার দোকানে দীর্ঘদিন ধরে সিগারেট সরবরাহ করে আসছিলেন। গত বছরের এপ্রিলে ৩৬ লাখ টাকার ‘বিশেষ অফারের’ সিগারেট কিনে মজুত করেন। সেই সিগারেট সঠিক সময়ে সরবরাহ করায় হাসিবের ওপর বিশ্বাস জন্মে। এরপর গত ৯ অক্টোবর রাতে হাসিব ফোন করে মাসুদকে আবারও বিশেষ অফারের কথা জানান। এজন্য কিছু টাকা নগদে পরিশোধ করার কথা বলে।

‘যেহেতু আগেরবার ৩৬ লাখ টাকার সিগারেট নিয়ে কোনো প্রতারণা করেনি, বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমি তাকে ৫৩ লাখ ৮৮ টাকার সিগারেটের অর্ডার দিই। ডারবি, বেনসন, গোল্ডলিফ এবং গোল্ডলিফ সুইস- চার ব্র্যান্ডের সিগারেট দেয়ার কথা ছিল। পরদিন সকালে আরও দুই বিক্রয় প্রতিনিধিসহ হাসিব দোকানে এসে নগদ ২০ লাখ এবং পূবালী ব্যাংকের ১০ লাখ ও ব্র্যাক ব্যাংকের ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার দুইটি চেক নিয়ে যায়। রুবেল পূবালী ব্যাংক থেকে এবং ইমতিয়াজ ব্র্যাক ব্যাংকে চেক ও নিজেদের জাতীয় পরিচয় পত্র জমা দিয়ে টাকা তুলে নেয়।’

কিন্তু এরপর থেকে হাসিবের আর কোনো হদিস মিলছিল না বলে জানান দোকানি মাসুদ রানা। তার দায়ের করা মামলাটির তদন্তভার গত ২৮ ডিসেম্বর পিবিআই নেয়।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ’১০ অক্টোবর টাকাগুলো তুলে সেদিনই মা-বাবাকে নিয়ে হাসিব চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যায়। ঢাকা পৌঁছেই আরেকটি বাসে উঠে তারা রাজশাহী চলে যায়। চট্টগ্রামের বাসা থেকে একটি সূতাও নেয়নি। এমনকি তার মায়ের ওষুধ পর্যন্ত নেয়নি। শুধু একটি স্যূটকেসে টাকাগুলো নিয়ে চলে যায়। চট্টগ্রামে দুই বোন আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। কোনো আত্মীয়স্বজন, পরিচিত সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।’

‘যেহেতু চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী দূরে, সেজন্য হাসিব সেখানে আত্মগোপন করে থাকলে গ্রেফতার এড়াতে পারবে ভেবেছিল। রাজশাহী গিয়ে তিন মাসে তিনবার বাসা বদল করে। হাসিব আগে একটি মোবাইল কোম্পানিতেও চাকরি করেছিল। এজন্য মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের হাত থেকে কিভাবে নিজেকে এড়ানো যায়, সে বিষয়ে তার ভালো ধারণা ছিল। যার কারণে সে তার মোবাইল বন্ধ করে ফেলে এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এজন্য তার অবস্থান শনাক্ত করাটা দুরূহ হয়ে পড়ে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্তের সব পথ যখন সে বন্ধ করে দেয়, তখন আমরা ভিন্ন কৌশলে আগাতে থাকি। জানতে পেরেছিলাম, মোটর সাইকেল চালানো তার শখ। আত্মসাৎ করা টাকায় মোটর সাইকেল কিনবে- এমন একটা ধারণা আমাদের ছিল। আমরা বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে ট্রাফিক আইনে মামলাগুলো নজরে রাখছিলাম। গত ২০ জানুয়ারি অনলাইনে দেখতে পাই, রাজশাহী মহানগর পুলিশে হাসিব নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনে একটি মামলা হয়েছে। সেটা ধরে আমরা রাজশাহী গিয়ে ‘কেইস স্লিপে’ একটি মোবাইল নম্বর পাই। সেই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে হাসিবের সন্ধান পাওয়া যায়।’

পিবিআই পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিন আরও জানান, হাসিবকে তার বাসা থেকে গ্রেফতারের পর ওই বাসাতেই অভিযান চালিয়ে নগদ ৩৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকার মধ্যে হাসিব রাজশাহীতে তার বাসার জন্য কিছু ফার্নিচার, নিজের জন্য একটি মোটর সাইকেল এবং ভাড়ায় চালানোর জন্য দুইটি টমটম কিনেছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমি কেনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

হাসিবের বাসা থেকে বাবা হেদায়েত শেখ এবং মা নুরজাহান বেগমকেও আটক করা হয়। হেদায়েত শেখ তার ছেলেকে আত্মসাত করা টাকা হেফাজতে রাখা ও পালাতে সহায়তা করায় তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। নুরজাহান বেগমকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পিবিআই পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিন।

ভারতীয় টেলিভিশন সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে টাকা আত্মসাত ও আত্মগোপনে থাকার কৌশল হাসিব রপ্ত করেছিল বলে জানান পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা।

সারাবাংলা/আরডি/এনইউ





Source link

সর্বশেষ - খেলাধুলা