রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

আজ ৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের চার উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত দিবস

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৫৯ সময় দেখুন
আজ ৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের চার উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত দিবস


মোঃ আজিজুর রহমান ভূঁঞা বাবুল, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ::

আজ ৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলপুর, ত্রিশাল ও গফরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের এ দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এসব উপজেলা থেকে পাকবাহিনীকে বিতাড়িত করে নিজ নিজ উপজেলাকে শত্রু মুক্ত করেন। রক্তঝরা সেই উত্তাল দিনে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার দামাল ছেলেরা মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার দীপ্ত শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদাদের ওপর। নিজ থানা শত্রুমুক্ত করতে ১৬ অক্টোবর রাতে কাজী আলম, আলতাফ ও হাবিবুল খান-এ তিন কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা মাইজহাটি রেলওয়ে ব্রীজ ও টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে। বর্তমান ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রামগোপালপুর সংলগ্ন কটিয়াপুরী ব্রীজটি বিধ্বস্ত করতে গেলে রাত প্রভাত হয়ে যায়। পরে দিনের বেলায় আক্রমণ না করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুক্তিযোদ্ধারা।

কিন্তু স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হাসিম উদ্দিন আহামেদ দিনের বেলাতেই থানা আক্রমণ করতে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেন। পরবর্তীতে তিন কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা মিলে সড়ক পথে অগ্রসর হয়ে দত্তপাড়া শ্মশান ঘাটে এসে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
ওইসময়ে তিন গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন যথাক্রমে কাজী হাসানুজ্জামান হিরো, হাবিবুর রহমান আকন্দ হলুদ ও মতিউর রহমান। আক্রমণের রূপরেখা অনুযায়ী কোম্পানি কমান্ডার আব্দুস সালামের নির্দেশনায় মতিউর রহমান ও আব্দুস ছাত্তার গ্রুপ চরহোসেনপুর নলুয়াপাড়া জামে মসজিদের পাশ থেকে এক যোগে আক্রমণ করবে। কিন্তু রূপরেখা অনুযায়ী থানা সদরে প্রশে করতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ভেঙ্গে পড়ে চেইন অব কমান্ড। ফলে অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

এ ব্যর্থতার কারণ ছিল দিনের বেলায় থানা আক্রমণ এবং মুক্তিযোদ্ধারা স্থানীয় হওয়ায় যথাসময়ে আক্রমণ শুরু না করা। এ অবহেলার করণে ওই দিন যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছু, মান্নান, আনোয়ার, তাহের, মতিউর, আঃ খালেক ও হাতেম আলী পাক বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন।

৮ ডিসেম্বর পুনরায় মুক্তিযোদ্ধারা সু-সংগঠিত হয়ে থানায় আক্রমণ করে। আক্রমণের ভয়াবহতায় ভীত হয়ে পাকহানাদার ও তাদের দোসর রাজাকাররা গভীর রাতে থানা প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ৯ ডিসেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ পাকহানাদার মুক্ত হয়। তাই ওই দিনটি ঈশ্বরগঞ্জবাসীর কাছে অত্যন্ত গর্বের ও অহংকারের দিন। এ দিন থানা শহরে বেদনা বিধূর পরিস্থিতিতেও ফুটে উঠেছিল বিজয়ের মহা আনন্দ। ওই দিন সকালে শহীদদের স্বজনরা ও থানার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা সম্মিলিত ভাবে ঈশ্বরগঞ্জকে মুক্ত দিবস ঘোষণা করে স্বাধীনতার প্রতীক জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড পতাকা
উত্তোলন করেন।

১৯৭১ সালে ফুলপুর উপজেলায় শেষ যুদ্ধ হয় ৭ ডিসেম্বর। সেদিন সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট থানা থেকে হানাদার বাহিনী পিছু হটার পথে, মধ্যনগরে মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা ও দু’জন মিত্রবাহিনীর সদস্য শহীদ হন। মধ্যনগরের এ যুদ্ধেই পতন ঘটে হানাদার বাহিনীর। ফলে ৯ ডিসেম্বর ফুলপুর থানা পাক হানাদার মুক্ত হয়।

এদিন ১১ নম্বর সেক্টরের মেজর আফসর বাহিনীর এফজে সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার আ. বারী মাস্টারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ৮ ডিসেম্বর রাতে ত্রিশাল থানা আক্রমণ করেন। গভীর রাতে ত্রিশাল থানাকে ঘিরে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কঠিন যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা ৯ ডিসেম্বর ভোরে ত্রিশাল থানা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

আর গফরগাঁওয়ের মশাখালী স্টেশনের দক্ষিণে শীলা নদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ উপজেলায় সর্বশেষ যুদ্ধ হয় ৫ ডিসেম্বর। এখানে মুক্তিযোদ্ধারা জয়ী হলে পাকবাহিনী পিছু হটে। তখন ইকবাল কামালের নেতৃত্বে কামাল কোম্পানি ও আফসার বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ধাওয়া করে গফরগাঁও সদরসহ উপজেলার সমস্ত এলাকা হানাদার মুক্ত করেন। ৯ ডিসেম্বর গফরগাঁওয়ের আকাশে উদিত হয় রক্তিম লাল সূর্য। ওড়ানো হয় বাংলাদেশের পতাকা। হানাদার মুক্ত হয় গফরগাঁও। ১৯৭১ সালের এ দিনে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার আলবদর ও আলশামস তথা পাকবাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় গফরগাঁও উপজেলা।

স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবিছর এইদিনটি পালন উপলক্ষ্যে জেলার ৪টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।

দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের কবর জিয়ারত, র‌্যালি, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, স্মৃতি চারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর