শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে শিল্পাঞ্চল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পর অনেকটায় স্বাভাবিক কর্ণফুলীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫ অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী Ramayana Box Office Collection Day 1: Ranbir Kapoor, Yash’s Film Mints Rs 64.85 Crore On Opening Day | Bollywood News ‘Ordinary bowler’: Ex-India captain slams CSK’s ‘confusing’ trade, says SRH are the real winners | Cricket News শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে পলাতক আ.লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী মইজ্জ‍্যারটেকে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসার অভিযোগ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

কেন প্রতিদিন কফি পান করবেন?

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১২৩ সময় দেখুন
কেন প্রতিদিন কফি পান করবেন?


লাইফস্টাইল ডেস্ক

সারা দুনিয়ায় যদি জনপ্রিয়তার বিচার করা হয় তাহলে কফি নিঃসন্দেহে পছন্দ তালিকার শীর্ষে থাকবে। এতে শুধু অ্যান্টি অক্সিডেন্টই নয়, আছে নানারকম পুষ্টি উপাদান। কফির রয়েছে নানারকম গুণাগুণ। তাই একে বলা যায় স্বাস্থ্যকর পানীয়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত কফি পান করে তাদের গুরুতর অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

আজ বিশ্ব কফি দিবস। দিনটি কফি শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার কর্মপ্রচেষ্টার বৈশ্বিক স্বীকৃতিস্বরূপ। তবে দিনটির মূল উদ্দেশ্য কৃষক থেকে কোম্পানি পর্যন্ত সব স্তরের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা। ২০১৪ সালে ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। আর ২০১৫ সালের এদিনে ইতালিতে আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা এই দিবসটি প্রথমবারের মতো পালন করে।

বর্তমানে শহরকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থায় কফি পানের ব্যবস্থা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিদিন কাজ শুরুর আগে, দুপুরের লাঞ্চের পর অথবা অলস বিকেলে অনেকটা অভ্যাসগতভাবে কফি পান করার চল অনেকের মধ্যেই রয়েছে। কফি দিবসের বিশেষ ফিচারে রইলো কফির কিছু উপকারের বর্ণনা।

কার্যক্ষমতা বাড়ায়
কফিতে থাকা ক্যাফেইন মানুষের মস্তিষ্কে বাঁধাদানকারী নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাডেনোসাইনকে ব্লক করে। ফলে নোরপাইনফ্রাইন ও ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায় যা নিউরনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। কফি পান করলে এই ক্যাফেইন রক্তে মিশে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যা আমাদের কার্যক্ষমতা, মেজাজ ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নতিতে সাহায্য করে। ফলে আপনি তুলনামূলক কম ক্লান্ত অনুভব করবেন।

চর্বি ঝরায়
বাজারে ওজন কমানোর জন্য পাওয়া যায় এমন প্রায় সব ওষুধেই ক্যাফেইন থাকে। অল্প কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে ক্যাফেইন একটি যা চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। এর কারণ, ক্যাফেইন প্রায় ৩ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত আমাদের মেটাবোলিক রেট বা বিপাকের গতি বাড়ায়।

স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে
ক্যাফেইন আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে যা চর্বিকে ভাঙতে উৎসাহ জাগায়। একইসঙ্গে এটি আমাদের রক্তের এপিফ্রাইন (অ্যাদ্রেনালাইন) বাড়াতে সাহায্য করে। এই হরমোন আমাদের তীব্র শারীরিক পরিশ্রম করতে উদ্দীপনা জাগায়। এটি শরীরে জমা বাড়তি চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনে উৎসাহ জাগায়।

প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়
এক কাপ কফিতে নানারকম পুষ্টি উপাদান থাকে। এক কাপ কালো কফিতে প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ রিবোফ্লাভিন (ভিটামিন বি১২), ৬ শতাংশ প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৫), ৩ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ ও পটাশিয়াম, ২ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম ও নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩) থাকে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে রয়েছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। এটি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা ইনসুলিন প্রতিরোধের মাধ্যমে তৈরি হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কফি পান করে তাদের ২৩ থেকে ৫০ শতাংশের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৯২২ জন কফি পানে অভ্যস্ত ব্যক্তির উপর পরিচালিত ১৮ টি গবেষণায় দেখা গেছে তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিসের আক্রান্ত হওয়ার হার কমেছে অন্তত ৭ শতাংশ।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়
স্মৃতিশক্তি বাড়ায় কফি। ফলে এটি আলঝেইমার্সের মত স্মৃতিবিলোপকারী রোগ প্রতিরোধ করে। সাধারণত ৬৫ এর অধিক বয়সীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে যার আসলে কোন চিকিৎসা নাই। কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস এই রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে উপকার মেলে কফি পানেও।

পারকিনসন’সের ঝুঁকি কমায়
স্নায়ুতন্ত্রের আরও একটি পরিচিত রোগ হল পারকিনসন’স যাতে আক্রান্ত হওয়ার হার আলঝেইমার্সের ঠিক পরেই। এই রোগে আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণকারী নিউরন ধ্বংস হয়ে যায়। আলঝেইমার্সের মতই এই রোগেরও কোন চিকিৎসা না থাকলেও এটি প্রতিরোধ করা যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কফি পানের অভ্যাস আছে যাদের তাদের অন্তত ৩২ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পারকিনসন’স রোগের ঝুঁকি কম থাকে।

লিভারকে রক্ষা করে
আমাদের শরীরে লিভারের শত শত ভূমিকা। একইসঙ্গে বিভিন্ন রোগে সবার আগে আক্রান্ত হয় লিভার যেমন হেপাটাইটিস ও ফ্যাটি লিভারের মত রোগ। এসব রোগে সিরোসিস পর্যন্ত হতে পারে যার ফলে লিভারে ঘা হতে পারে। কফি এই সিরোসিস থেকে লিভারকে রক্ষা করে।

বিষণ্ণতা কমায়
বিষন্নতায় ভোগা ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চলেছে বিশ্বজুড়ে। এর থেকে রক্ষা পেতে অনেকটাই সাহায্য করে কফি। ২ লাখ ৮ হাজার ৪২৪ জনের উপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা দিনে ৪ কাপ বা তার বেশি কফি পান করে তাদের মধ্যে বিষণ্ণতায় ভুগে আত্মহত্যার প্রবণতা ৫৩ শতাংশ কম।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়
শরীরের কোন অংশে অনিয়ন্ত্রিত কোষের বৃদ্ধিকেই ক্যানসার বলে। বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার। আর সব ক্যানসারের মধ্যে লিভার ক্যানসার মারা যাওয়ার দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আর কলোরেক্টাল ক্যানসার আছে চতুর্থ অবস্থানে। লিভার ও কলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় কফি।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
ক্যাফেইন রক্তচাপ বাড়ায় বলে দাবি করেন অনেকে। কিন্তু নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় কফি পানে উপকার পাওয়া যায়। নানা গবেষণায় দেখা গেছে এটি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

আয়ু বাড়ায়
যেহেতু কফি পানে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে তাই এটি আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বড় দুটি সমীক্ষায় দেখা গেছে নিয়মিত কফি পানে নারীদের ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ মৃত্যুহার কমে আর পুরুষদের ক্ষেত্রে কমে ২০ শতাংশ। এর কারণ কফিতে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে কফিতে ফল ও শাকসবজির তুলনায় বেশি অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট রয়েছে। একারণেই এটি বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর পানীয়।

সারাবাংলা/এসবিডিই





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর