শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

গবেষণা সেক্টর ও শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপার পাবলিশ নিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ৩৫৫ সময় দেখুন
গবেষণা সেক্টর ও শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপার পাবলিশ নিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ


গত ২৫শে জুন, ২০২১সালে YSSE দ্বারা আয়োজিত তরুণদের দিকনির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা মূলক অনুষ্ঠান “আজকের তারুণ্য” এর ৫২তম পর্বের অতিথি হিসেবে আমাদের সাথে ছিলেন অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের অধিকারী একজন বিশিষ্ট প্রভাষক “এনায়েত চৌধুরী“।

“এনায়েত চৌধুরী” বাংলাদেশের খ্যাতনামা ও সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের “পানি ও বন্যা ব্যাবস্থাপনা ইন্সটিটিউট” এর বিশিষ্ট একজন প্রভাষক। তার জীবনে সঠিক লক্ষ্য কখনোই ছিলনা যে একজন ইউনিভার্সিটির শিক্ষকহয়ে উঠবেন। বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর ফার্স্ট ইয়ার থেকে রেজাল্ট ভালো করা হয়। আর তখনই এই ভাবনা আসে যে, সিজিপিএ যদি আরেকটু ভালো করা যায় তাহলে বুয়েটে ই শিক্ষক হিসেবে থেকে যেতে পারবেন। আর সেই ভাবনা নিয়েই থার্ড ইয়ার থেকে আস্তে আস্তে চেষ্টা চালিয়ে এই পর্যন্ত আসা। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন গবেষণার কাজে নিয়োজিত আছেন। সাথে রয়েছে তার কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের অসাধারণ যাত্রা ও উদ্যোগ। তার “Enayet Chowdhury” নামে ইউটিউব চ্যানেল এ রয়েছে নানা আকর্ষণীয় ও বিনোদনমূলক কন্টেন্ট যা প্রতিনিয়ত মানুষকে জানাচ্ছে নানা তথ্য ও সহায়তা করছে জ্ঞান অর্জনে। যার ফলে প্রতিনিয়ত সাবস্ক্রাইবার বেড়ে দাড়িয়েছে ৭৮,০০০+ যা তাকে ভবিষ্যতে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

 

শিক্ষক বলতেই আমরা বুঝি একটা গুরুগম্ভীর ভাব চলে আসা। সেই বিষয়টি কতটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করেন জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “গুরুগম্ভীর ভাব নিয়ে আমি কখনো চিন্তা করিনা কারণ কনটেন্ট ক্রিয়েশন এর যাত্রাটা শুরুই হয় গুরুগম্ভীর ভাব ভঙ্গ করার মাধ্যমে। একজন শিক্ষক যখন তার গুরুগম্ভীর ভাব নিয়ে কনটেন্ট বা ইউটিউবার এর যাত্রা শুরু করেন তাহলে সেই ফিল্ডে তার সফলতা পাওয়া অসম্ভব। কারণ একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এর ক্ষেত্রে ধনী, গরীব, ছাত্র, শিক্ষক এই বিষয়গুলো ম্যাটার করেনা। শুধুমাত্র কে একজন ভালো কনটেন্ট প্রোভাইড করছে সেটি ম্যাটার করে। আমি মনে করি, আমি কতটুকু ভালো কোয়ালিটির কনটেন্ট প্রোভাইড করি সেই অনুযায়ী আমার মানুষের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাওয়া উচিত(আমার পেশা হিসেবে না) আর সেটিই আমার একমাত্র পাওনা।”

 

গত ১বছর ধরে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে অনলাইনে শিক্ষা কতটুকু কার্যকর বলে মনে হয় জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “আমার মতে অনলাইন এবং অফলাইনের পড়াশুনা কখনোই তুলনা করা সম্ভব না। প্রথমত কারণ হচ্ছে, অনলাইনে ল্যাবরেটরির যে সুবিধাগুলো ১০০% ব্যবহার করা সম্ভব হয়না। তাছাড়া পড়াশুনার ক্ষেত্রে হাতে কলমে শেখানোর যে বিষয় থাকে সেটি কখনোই আসেনা। আশা করি খুব শীঘ্রই অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়ে উঠবে।”

গবেষণা সেক্টর ও শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপার পাবলিশ নিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ

গবেষণা সেক্টর ও শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপার পাবলিশ নিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ

তার সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমার গবেষণার বিষয় হচ্ছে flash flood(হরকাবান), যেটি মূলত হয়ে থাকে বাংলাদেশের উত্তর – পূর্ব জেলাগুলোর(সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার) দিকে। হরকাবান হচ্ছে হঠাৎ করে ৩-৪ দিনের জন্য ধানক্ষেতের মধ্যে পানি এসে চলে যায়। ২০১৭সালে বোরো ধানের এক ক্ষেতের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পানি এসে ভরে যায় ফলে সব ধান নষ্ট হয়ে যায় ওই বছর। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, কৃষকদের সেই পানি আসার কথা আগে থেকে অবগত করে দেওয়া যেন পাকা ধানগুলো পানির কারণে নষ্ট না হয়ে যায়। তাছাড়াও ভেজিটেবল, নদীভাঙন, ভূমিধ্বস নিয়েও কাজ হয়েছে আগে।”

 

শিক্ষার্থীদের জীবনে গবেষণা কতটা গুরুত্তপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে গবেষণার কাজে যুক্ত হতে পারেন জানতে চাওয়ায় তিনি, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত মাস্টার্স, পিএইচডি ভিত্তিক। সেক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ত দেওয়া হয়না আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর, যার কারণে গবেষণা ক্ষেত্রটা অনেক বেশি অবহেলিত। মাস্টার্স, পিএইচডি প্রোগ্রামে যেমন রিসার্চ জিনিসটা বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে আন্ডারগ্রাজুয়েটদের ক্ষেত্রে তা না হওয়াতে কষ্টকর হয়ে গিয়েছে এই বিষয়টা। তারপরও যদি কারো শেখার ইচ্ছা থাকে তাহলে তারা তাদের সিনিয়রদের সাথে থিসিস এ কো অর্ডিনেশনের মাধ্যমে শিখতে পারেন। আমি সবসময় আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকি। তারা যে থিসিসটা করবে সেটা থেকে যেন মিনিমাম একটা পেপার পাবলিশ করা যায় সেই উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করি সবসময়।”

 

বিশ্বের সকল ইউনিভার্সিটিগুলোর সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে কেন বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলো পিছিয়ে পড়ছে তা জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ” এই ক্ষেত্রে মূলত ৩টি কারণ কাজ করে বলে আমি মনে করি। তা হলো –
১. দেশের বাহিরে যারা পিএইচডি করতে যাচ্ছেন তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং তাদের জন্য যথাযথভাবে ভালো ল্যাব সুবিধা, বেতন, রিসার্চ ফান্ড এর ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এর কারণ হলো, তারা অনেক পেপার পাবলিশ করে থাকেন যা সাইটেশন বাড়াতে এবং ইউনিভার্সিটি রেঙ্কিং বাড়াতে সাহায্য করবে।
২. ইউনিভার্সিটিগুলোকে শুধুমাত্র মাস্টার্স, পিএইচডিভিত্তিক চিন্তা ভাবনা থেকে বের করে আনতে হবে যেন আন্ডারগ্রাজুয়েটদের দিকেও নজর দিতে পারেন ভালোভাবে। প্রচুর ডক্টরেট ডিগ্রী এর ব্যবস্থা করে দিতে হবে এবং সেজন্য যে সুযোগ সুবিধা দরকার হবে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজে উৎসাহিত করতে হবে এবং সে কাজের জন্য যে ফান্ডিং এর প্রয়োজন হবে তা দিতে হবে।”

 

সাধারণত কন্টেন্ট ক্রিয়েশন এর মধ্যে তার কন্টেন্টগুলো ভিন্নধরনের হয়ে থাকে। সেই ভিন্ন ধারণাগুলো কীভাবে আসে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “প্রথম থেকেই মাথায় ছিল কন্টেন্ট হিসেবে ভিন্নরকম কিছু নিয়ে আসার। আমি চিন্তা করেছি হাইব্রিডাইজেশন এ যদি হিউমর এর কিছু অ্যাড করা যায় কী না। কারণ হিউমর জিনিসটা প্রায় সবকিছুর মধ্যেই উপস্থিত থাকে সেটা রাজনীতি হোক বা শিক্ষা হোক বা অন্যকিছু হোক। আর আমি চেষ্টা করি হিউমরকে উপযুক্ত করে কনটেন্ট এর মধ্যে নিয়ে আসার যেন একটা ১০বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই যেন দেখে সহজভাবে জিনিসটা বুঝতে পারে। তাছাড়াও সম্প্রতি আমি গ্রাফিক্স, ভিজ্যুয়ালাইজেশন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।“

 

জার্নাল পাবলিশ করতে কী সবসময় শিক্ষকদের শরণাপন্ন হতে হয় কী না এবং অনেক শিক্ষকের আন্ডারে কাজ করলেও পেপারগুলোতে স্টুডেন্ট এর নাম সেখানে থাকেনা। এই বিষয়ে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “এই বিষয়টি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হতে দেখা যায় তবে বাংলাদেশে এমন অনেক শিক্ষক আছে যারা পেপার পাবলিশ হলে স্টুডেন্টদের তাদের কাজের ক্রেডিট দিয়ে থাকেন। আর শিক্ষকদের শরণাপন্ন হলে ভালো হয় কারণ একটি ভালো মানের রিসার্চ করতে গেলে এক্সপেরিয়েন্স এবং ল্যাব এর সুযোগ সুবিধার দরকার হয়। আর একজন শিক্ষক ছাড়া আর কারো কাছেই এই বিষয়ে কোনোরকম সাহায্য অন্য কেউ করতে পারেননা।”

 

শিক্ষকতা, গবেষণা, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন এর পাশাপাশি তিনি বই ও লিখেছেন। সেই বই নিয়ে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “আমার বইটি প্রকাশিত হয় ২০২০সালে কিন্তু সেটার লিখার কাজ অনেক আগে থেকেই চলে আসছিল। বইটি হচ্ছে পদ্মাসেতুর কাল্পনিক গঠনমূলক কাজে দিকগুলো নিয়ে এক্সপ্লেইন করা। বইটি আপাতত বিভিন্ন লাইব্রেরী পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে যাচ্ছি যেন বাচ্চারা বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের কাজ সম্পর্কে জানতে পারে। আশা করি পদ্মাসেতুর উদ্বোধন হওয়ার আগ পর্যন্ত বইটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে থাকবে। তাছাড়া ২০২২সালে আরো একটি বই প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে।”

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি আর কী করা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উচিৎ এই সময়গুলো কাজে লাগিয়ে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার সম্পর্কীয় ডিজিটাল স্কিলগুলোতে দক্ষতা বাড়ানো। যেমন – ইন্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে তারা পাইথন এবং প্রোগ্রামিং সম্পর্কীয় সফটওয়্যার গুলোতে তাদের দক্ষতা বাড়ানো। আর এসব শেখার জন্য তারা ইউটিউব এবং বিভিন্ন ফ্রি যে প্লাটফর্মগুলো সেগুলো ফলো করতে পারেন।”

 

এই লাইভ থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, শিক্ষার্থীদের জীবনে গবেষণা, জার্নাল পাবলিশ কতটা গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কীভাবে তারা গবেষণার সাথে সংযুক্ত হতে পারেন। তাছাড়াও কীভাবে গবেষণার কাজ শুরু করা যায় এবং কী কী কাজ করলে ইউনিভার্সিটিগুলো কীভাবে বিশ্বের বাকি ইউনিভার্সিটিগুলোর সাথে টপ এ থাকতে পারবেন তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে।

রাজিয়া রহমান
কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
ইন্টার্ন
ওয়াইএসএসই



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর