রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

গ্রামবাংলা পাঠাগারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শতাধিক তরুণের শপথ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ৯৭ সময় দেখুন
গ্রামবাংলা পাঠাগারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শতাধিক তরুণের শপথ


ইউনাইটেড নিউজ প্রতিবেদক.

বরিশাল জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত পতাং গ্রাম। এ গ্রামের একদল শিক্ষিত তরুন সমাজ পরিবর্তনের শপথ নিয়েছে। নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে একের পর এক দৃশ্যমান উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষিত এ তরুণরা “বইয়ের সাথে রাখবো রেশ, জ্ঞানের আলোয় গড়বো দেশ“ স্লোগানে পতাং গ্রামে গড়ে ২০১৬ সালের ৪ঠা অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ভাবে গড়ে তুলেছে গ্রামবাংলা পাঠাগার।  এ তরুণদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ গ্রামেরই সন্তান নূর হোসেন মামুন। তিনি পাঠাগারটির প্রধান উদ্যোক্তা। তিনি একজন ইউপি সদস্য। এছাড়াও তিনি স্বেচ্চাসেবী জাতীয় সংগঠন ‘জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন (জাপাআ)’ এর বরিশাল জেলা সদস্য।

অত্যন্ত আনন্দঘণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে গ্রামবাংলা পাঠাগার এর ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শতাধিক তরুণের শপথ নিয়েছে সমাজ পরিবর্তনের।  এ উপলক্ষ্যে এদিন পাঠাগার এর সদস্যরা মিলিত হয়েছে অভিন্ন পোষাকে। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে যেন পাঠাগার প্রাঙ্গণে আনন্দের হাঁট বসেছে। তাদের উৎসাহ দিতে এগিয়ে এসেছেন রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এসেছেন মুক্তিযোদ্ধারাও। ছিলেন সরকারের সাবেক আমলাও। সবাই যেন তরুণদের চোখে পরিবর্তনের আলো দেখতে পেয়েছেন।

পাঠাগারের জন্মদিন উপলক্ষে পাঠাগার পরিবার আয়োজন করেন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। ৯ নং টুংগীবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাদিরা রহমান এর সঞ্চালনায় এবং এ বি এম আজিজুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আলহ্বাজ সাইদুর রহমান রিন্টু। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল সদর উপজেলার নিবার্হী অফিসার মনিরুজ্জামান ও বন্দর থানার ওসি আসাদুজ্জান।

সারা দেশে সাহিত্য ও বিজ্ঞান চর্চার বড্ড অভাব বলে মনে করেন এ পাঠাগারের সাথে যুক্ত তরুণরা। গ্রামে গ্রামে ছেলে-মেয়েরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সিলেবাস ভিত্তিক বই ছাড়া আর কোন বই পড়তে আগ্রহী হোন না নানা কারনে। ফলে তাদের জ্ঞানের পরিধি সীমিত হয়ে পড়ছে ভেবে পাঠাগার দেয়ার পরিকল্পনা করেন মামুন। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান জানতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই শিল্প-সাহিত্য এবং আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে জড়িত থাকতে হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সেই সুযোগ সৃষ্টি করতেই গ্রামবাংলা পাঠাগার গতে তোলেন।

প্রতিষ্ঠাতা নুর হোসেন মামুন বলেন,  এই বিজ্ঞানের যুগে এদেশে এখনো নানান কুসংস্কার প্রচলিত। মানুষ এখনো ধর্মের নাম দিয়ে বিভিন্ন কুসংস্কারে ঢুবে আছে। গ্রামে গ্রামে অদ্ভুত সব কু-সংস্কারকে আমরা শিক্ষার আলো দিয়ে দূর করতে চাই। পাঠাগারে আমরা সেরকম বই রাখতে চাই। সবাইকে পাঠাগার মুখি করতে চাই। প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় সাহিত্য-বিজ্ঞান চর্চার আয়োজন করতে চাই। প্রত্যেক গ্রামে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের মাধ্যমে একটি করে পাঠাগার গড়ে তুলতে চাই।

এ আয়োজনে সার্বিকভাবে আয়োজক সহযোগী ছিলো জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন(জাপাআ)। বাস্তবায়ন ও উদ্যোগে ছিলো গ্রামবাংলা পাঠাগার।

Print Friendly, PDF & Email



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর