আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আগামী এক দশকের মধ্যে পৃথিবীতে ঘন ঘন বন্যার উপদ্রপ দেখা দেবে। আর এসব বন্যায় পৃথিবীর বহু দেশের উপকূলবর্তী জনপদ প্লাবিত হবে। এর জন্য দায়ী হবে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আর কয়েক বছরের মধ্যে চাঁদ কিছুটা অবস্থান পরিবর্তন করবে। চাঁদের এই নড়াচড়ায় এদিকে বিপর্যয় ঘটে যাবে পৃথিবীতে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এক গবেষণা প্রতিবেদনে ন্যাচার ক্লাইমেট চ্যাঞ্জ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে নুইস্যান্স ফ্লাড বা বন্যার উপদ্রবের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের বন্যা উপকূলবর্তী এলাকায় হয়ে থাকে। এসব বন্যায় সমুদ্রের তরঙ্গ গড় উচ্চতা থেকে ২ ফুট বেড়ে যায়। ফলে আস্তে আস্তে সমুদ্রের জল স্থলভাগে বাড়তে থাকে। উপকূলবর্তী এলাকা ডুবে যায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিজ কক্ষপথে চাঁদ একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ১৮.৬ বছর। এ সময়ের মধ্যে ৯ বছর লো টাইড বা নিম্ন জোয়ার হয়, আর বাকী ৯ বছর হাই টাইড বা উচ্চ জোয়ার বেড়ে যায়। এ সময় পৃথিবীর সব সমুদ্রে তরঙ্গ উচ্চতা বেড়ে গিয়ে স্থলে সমুদ্রজল ঢুকে পড়ে।
বর্তমানে চাঁদের টানে প্রথিবীতে জোয়ারের চেয়ে ভাটার প্রাবল্য বেশি। তবে ১৯৩০ সালের দিকে জোয়ারের প্রাবল্য বেড়ে যাবে। তাই সে সময় বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বন্য হবে প্রথিবীতে।
বিজ্ঞানীরা জানান, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই বন্য বাড়ছে। ২০১৯-২০ সালে পৃথিবীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। দুই মেরুতে উষ্ণতা বাড়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে স্থলভাগে জল ঢুকে পড়ে বহু শহর সমুদ্রে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায়। এর মধ্যে আগামী দশকে বন্যার আধিক্য পৃথিবীতে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
সারাবাংলা/আইই