শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

জবি শিক্ষার্থী খাদিজার জামিন

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩
  • ১০৬ সময় দেখুন
জবি শিক্ষার্থী খাদিজার জামিন


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে জামিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই আদেশের ফলে তার মুক্তিতে আর বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে খাদিজার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি ও জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

আদেশের বিষয়টি সারাবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি আবেদন আজ খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে খাদিজাতুল কুবরাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকবে।

এর আগে গত ১০ জুলাই খাদিজাতুল কুবরার জামিন শুনানি চার মাসের জন্য মুলতবি করেন আপিল বিভাগ। তারই ধারাবাহিকতায় আজ জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

তারও আগে গত গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট খাদিজাতুল কুবরার জামিন মঞ্জুর করেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত।

অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচার এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজাতুল কুবরা এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে করা দুটি মামলার এজাহারের অভিযোগ এবং বর্ণনা প্রায় একই রকম।

একটি মামলার বাদী নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম এবং অন্যটির কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন। দুই বাদীই দায়িত্ব পালনকালে মোবাইলফোনে ইউটিউবে ঘুরতে ঘুরতে খাদিজাতুল কুবরা ও মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেনের ভিডিও দেখতে পান। তারপর দুজনই নিজ নিজ থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন।

নিউমার্কেট থানার মামলায় ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা ২৫ মিনিটের সময় মোবাইলফোনে মেজর (অব.) দেলোয়ারের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও দেখতে পান। ‘হিউম্যানিটি ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামের ভিডিওর সঞ্চালক খাদিজাতুল কুবরার উপস্থাপনায় দেলোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বৈধ গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। মামলাটি রেকর্ড করা হয় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। মামলার এজাহারের সঙ্গে তিন পাতার স্ক্রিনশট ও ভিডিও–সংবলিত সিডি সংযুক্ত করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, খাদিজাতুল কুবরা ও দেলোয়ার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের বৈধ সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মনগড়া, বানোয়াট, মিথ্যা, মানহানিকর অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। আসামিরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ সৃষ্টির অপচেষ্টাসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রয়াস চালাচ্ছেন।

নিউমার্কেট থানায় মামলা করার আট দিনের মাথায় কলাবাগান থানায় আরেকটি মামলা করেন এসআই আরিফ হোসেন। কলাবাগান থানার মামলার এজাহারেও উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ৯টা ১৫ মিনিটে মোবাইলফোনে ইউটিউব দেখার সময় দেলোয়ার হোসেনের ইউটিউব চ্যানেল দেখতে পান। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি থানায় মামলা করেন। দুই মামলার অভিযোগের ভাষ্য প্রায় একই রকম।

# জবি শিক্ষার্থী খাদিজার মুক্তি চেয়ে ফের বিবৃতি অ্যামনেস্টির

# জবির খাদিজার মুক্তি চেয়ে রাবিপ্রবিতে ৩ শিক্ষার্থীর মানববন্ধন

# জবি শিক্ষার্থী খাদিজাতুলকে জামিন দেওয়ার আহ্বান সুজনের

# খাদিজার বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি ৩০ নভেম্বর

# জগন্নাথের শিক্ষার্থী খাদিজার জামিন ৪ মাস স্থগিত

সারাবাংলা/এনইউ





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর