আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মানুষের কারণে জলবায়ুর ‘নজিরবিহীন’ পরিবর্তন ঘটেছে, সামনে আরও ‘মারাত্মক’ পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে— জলবায়ু বিষয়ে এতদিন ধরে বিজ্ঞানীদের এমন মন্তব্য ও আশঙ্কা পুরোপুরি সত্য এবং এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার (৯ আগস্ট) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে এযাবতকালের সবচেয়ে বিস্তৃত ও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ৪২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিকে ‘মানবতার জন্য লাল সংকেত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী দুই দশকের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প যুগের আগের তাপমাত্রার চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। এছাড়া এ শতকের শেষভাগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে ২ মিটার। অতীতে প্রতি ৫০ বছরে যে দাবদাহ বয়ে যেত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে, এখন তা প্রতিবছরই হচ্ছে।
এতদিন ধরে বিজ্ঞানীরা এসব বিষয়ে তাদের নানা গবেষণা ও পূর্বাভাস প্রকাশ করে আসছিলেন। এবার জাতিসংঘের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য কয়েক হাজার গবেষণার তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্ট প্যানেল অন ক্লাইমেট চ্যাঞ্জ (আইপিসিসি) এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আইপিসিসি বিভিন্ন দেশের সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগে গঠিত জলবায়ু বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ শাখা।
রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এতদিনের আশঙ্কা সত্য। এতদিন ধরে বিজ্ঞানীরা যেসব পূর্বাভাস দিয়েছেন এবং যেসব বিষয় নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তার সবই ঘটতে যাচ্ছে। এছাড়া পৃথিবীর জলবায়ুর নজিরবিহীন পরিবর্তনে মানুষের প্রত্যক্ষ দায় রয়েছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের কারণে এমন কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা আর সমাধানযোগ্য নয়। তবে ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি এখনও ঠেকানো সম্ভব। ঝুঁকি এড়াতে হলে খুব দ্রুতগতিতে এই দশকের মধ্যেই গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ ব্যাপক মাত্রায় কমাতে হবে।
১৪ হাজারের বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটিতে জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনছে— এবং সামনে কী হতে পারে— তার সবচেয়ে বিস্তৃত এবং বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে এ বছরের শেষের দিকে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনের তিন মাস আগে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ প্রতিবেদনটিকে ‘মানবতার জন্য লাল সংকেত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, দেরী করার মতো সময় আমাদের হাতে নেই। নেই কোনো অজুহাত দেখানোরও জায়গা। গ্লাসগো জলবায়ু সম্মেলন সফল করার জন্য সব দেশের সরকার ও অংশীদারদের ভরসায় রয়েছি।
সারাবাংলা/আইই