শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

দুর্দিনে ছেড়ে যাবেন না— প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট শিক্ষার্থীদের চিঠি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১১১ সময় দেখুন
দুর্দিনে ছেড়ে যাবেন না— প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট শিক্ষার্থীদের চিঠি


ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘অভিভাবক’ সম্বোধন করে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ রাখার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তারা বলেন, আপনি সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন। আমরা জানি এই দুর্দিনে আপনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে চিঠি পড়ে শোনান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে নতুন কোনো কর্মসূচির কথা জানাননি তারা।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা এই চিঠিতে ‘ছাত্ররাজনীতিবিহীন সময়ে’ বুয়েটে নিজেদের নানান আবিষ্কার ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন তারা। চিঠিতে তারা বলেন, ‘আমরা করোনার সেই বিপদ মুহূর্তে বানিয়েছি লো কস্ট ভ্যান্টিলেটর। ক্লিন সিটির আশায় পরিত্যক্ত মাস্ক থেকে বানিয়েছি কনক্রিট। খুঁজছি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সহজ উপায়। বানাচ্ছি আর্টিফিশিয়াল আর্মস। পদ্মাসেতুর নির্মাণে আমাদের বুয়েটের শিক্ষক এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের অবদান অনবদ্য।’

প্রধানমন্ত্রী নিঃশর্তে এসব কার্যক্রমে অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তারা লেখেন, ‘শুধু দেশেই না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্য দেশের দলগুলো যাদের জন্য বরাদ্দ থাকে আমাদের চেযে কয়েকগুণ বেশি অর্থ এবং গবেষণাগারের সুবিধা, তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা ছিনিয়ে আনছি বিজয়।’

শিক্ষার্থীরা ‘রাজনীতির মারপ্যাঁচ’ বুঝতে পারে না জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ত্রাসের রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝি না। আমরা শুধু দেশকে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে জানি। নিজেদের কাজ দিয়ে তা আমরা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর। আপনি আমাদের সবার অভিভাবক, দেশের অভিভাবক। আমরা জানি দেশের কোথাও কোনো দুঃখজনক পরিস্থিতি চললে, দেশের কোথাও সংকট চললে, আপনার হৃদয়ে গভীর রক্তক্ষরণ হয়।’

বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে জনমত গঠনে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকার কথা স্বীকার করে বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারা বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মাঝে সূচনা ঘাটছে আধিপত্য, দাপট, র‌্যাগিং, শিক্ষকদের অপমান, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থী নিপীড়ন, খুনোখুনিতে মেতে ওঠার মত ঘটনা। শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং কিংবা ছাত্ররাজনৈতিক দাপটে অমানসিকভাবে নিপীড়িত হওয়ার ঘটনা বুয়েটের র‌্যাগিং স্টোরি আর্কাইভে সারি সারি আকারে লিপিবদ্ধ আছে।’

বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে— নানান মহল থেকে উত্থাপিত এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা চিঠিতে বলেন, ‘আমরা নির্দ্বিধায় বলতে চাই, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি কোনোসময় এসব নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যেকোনো কার্যকলাপ ক্যাম্পাসে চলমান দেখি, শিগগিরই তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবো এবং প্রশাসনকে অবহিত করব। এমনকি ভবিষ্যতে যদি ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেটার বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান দৃঢ় থাকবে।’

আইনিভাবে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ থাকার পরও গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছেন— এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন ২৯ মার্চ থেকে আন্দোলনে নামেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রাতেই তড়িঘড়ি করে প্রতিষ্ঠানটির পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাহীম রাব্বীর হলের সিট বাতিল করে করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

পরে বুয়েট শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাব্বীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে সিদ্ধান্ত, তা ফের স্থগিত করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া এমন সিদ্ধান্তের পর বুয়েট উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার জানান, আদালাত অবমাননার সুযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় পুরো বিষয়টি সম্পন্ন করা হবে জানান তিনি।

সারাবাংলা/আরআইআর/পিটিএম





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর