বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীবাড়ী ইসলামী ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ঢাকার বার্তা মোদিকে জানাতে দিল্লি গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮৪ ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয় Bigg Boss 20’s ScoutOP Hints At Feelings For ‘Sister’ Love Gill: ‘Usse Pehle Friend Hota Hai Naa…’ | Television News Head coach Zinedine Zidane celebrates first home win as France crush Belgium 4-1 at Nations League | Football News কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট ও মশক নিধন সামগ্রিক বিতরণ কূটনীতিকদের সম্মানে খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কর্ণফুলীতে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন, দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন ‘আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে’

দেশে প্রতিদিন নিউমোনিয়ায় ৬৬ শিশুর মৃত্যু

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ২৫৬ সময় দেখুন
দেশে প্রতিদিন নিউমোনিয়ায় ৬৬ শিশুর মৃত্যু


ঢাকা: দেশে হামে আক্রান্ত ৯৫ ভাগ রোগী সুস্থ হচ্ছে। এছাড়া হামে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। আর বাকি মৃত্যু নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগে হচ্ছে। দেশে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ নিউমোনিয়া। দেশে নিউমোনিয়ায় বছরে প্রায় ২৪ হাজার শিশু মারা যাচ্ছে। ফলে দৈনিক প্রায় ৬৬ শিশুরই মৃত্যু হচ্ছে নিউমোনিয়ায়।

শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘হাম জনিত নিউমোনিয়া- বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডা.গোলাম সরোয়ার।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পর এরই মধ্যে ৯৩ শতাংশ টিকা কাভার হয়ে গেছে। দেশে হামে ৯৫ ভাগ রোগী সুস্থ হয় এবং নিউমোনিয়ায় ৫ ভাগ রোগীর মৃত্যু হয়। তবে হামে আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, দেশে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ নিউমোনিয়া। এতে বছরে প্রায় ২৪ হাজার শিশু মারা যায়। এর প্রধান কারণ শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানো। আর দুটি কারণ হলো কৌটার দুধ খাওয়ানো এবং ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতি।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, অপুষ্টি হামকে বাড়িয়ে দেয়। হামে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। মানুষ দোকান থেকে এন্টিবায়টিক খেতে খেতে এখন আর শরীরে এন্টিবায়টিক কাজ করে না। আমরা রোগীকে যদি সঠিক সময়ে অক্সিজেন দিতে পারি তাহলে হামে মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব। নিউমোনিয়ায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

তিনি বলেন, হামকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায় কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আগামী দুই তিন সপ্তাহ আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। বর্তমানে মিসেল ছাড়াও এমিনো ভাইরাসের কারণে নিউমনিয়া হচ্ছে। এতে আতঙ্কের কিছু নাই।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, হাম জনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে পড়া, সে কারণে আমরা দেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি। বক্ষব্যাধি বিষয়ক চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন এবং চেষ্ট এন্ড হাট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সহায়তায় দেশব্যাপী হামের উপসর্গ সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা চিকিৎসকরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় সাবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা ব্যাপক ভিত্তিতে সারাদেশব্যাপি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করেছি। কোনো শিশুর মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ডা. জিয়াউল হক বলেন, আমরা দেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞসহ সকল চিকিৎসক পরিস্থিতি দেশের সার্বিক হাম নিয়ে উদ্বিগ্ন কিন্তু শংকিত নই। হামের সঙ্গে গুটি বসন্তও হতে দেখা যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, হাম একটি অতিমাত্রায় সংক্রমোসযোগ্য রোগ, যা খুব দ্রুত মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে শতকরা ৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। আমরা সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ম্যূনতম পর্যায়ে কমিয়ে আনতে সক্ষম হবো এবং যারা এরই মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়েছে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে সুস্থ করে তুলতে পারব।

এদিকে, সরকারকে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। যে ৪টি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো- অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হামের টিকাদান কর্মসুচি অব্যাহত রাখা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ফিভার কর্নার স্থাপনের মাধ্যমে হাম প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্বকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা। হামের চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত একটি চিকিৎসা নির্দেশিকা প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থকর্মীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর