সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

নাগরপুরে শ্যালকের লাঠির আঘাতে ভগ্নিপতি নিহত; থানায় মামলা দায়ের

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭৩ সময় দেখুন
নাগরপুরে শ্যালকের লাঠির আঘাতে ভগ্নিপতি নিহত; থানায় মামলা দায়ের

গোপাল সরকার, নাগরপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে তুচ্ছ রসিকতাকে কেন্দ্র করে গোলাম মিরাজ সিদ্দিক (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার শ্যালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মিতু বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেলে উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে গোলাম মিরাজ সিদ্দিকের বাড়িতে স্থানীয় ‘পাগল সেন্টু’ নামের এক ব্যক্তি এসে প্রতিবেশী ও নিহতের শ্যালক জয়নাল খানকে (৪৫) ডাকাডাকি করেন। এ সময় গোলাম মিরাজ রসিকতা করে জয়নালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তোর বন্ধু আসিয়াছে।” এই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে জয়নাল খান ওই দিনই বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় গোলাম মিরাজকে একা পেয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে প্রথমে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউ বেড খালি না থাকায় সবশেষে ঢাকার ডেল্টা হেলথ কেয়ার লিমিটেড (রামপুরা)-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মিতু বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর- ১৭, তারিখ: ২৬/০১/২০২৬। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই বাদী পক্ষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা অবস্থায় জয়নাল খান মোবাইলের মাধ্যমে মামলার বাদী মিতু, তার স্বামী এবং তার ছোট ভাই আশিককে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছেন। এর ফলে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। নিহতের মেয়ে মিতু বলেন, “আমার বাবাকে জয়নাল খান পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এখন মামলা করায় সে আমাদেরও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এক মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো মূল আসামিকে ধরতে পারেনি। আমরা এখন আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আমি প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত আমার বাবার খুনিকে গ্রেপ্তার করা হোক। এ বিষয়ে সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন ভূঁইয়া মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সামান্য একটা কথা কাটাকাটির জেরে এমন হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা নিহতের পরিবারের পাশে আছি এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুরাদ হোসেন মুঠোফোনে  জানান, মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom