বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হামের উপসর্গে প্রাণ হারাল আরও ৬ শিশু বাংলাদেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তায় ইরান ভূমিকা রাখতে পারে না: রাষ্ট্রদূত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী আদিবাসী উৎসব বৃহস্পতিবার হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপ চ্যাট এখন আরও সহজ New Film In Tamil Nadu Can Hold 6 Shows A Day, Vijay’s Government Passes Order | Bollywood News Shubman Gill opts to bowl, Mohammed Siraj and Kuldeep Yadav miss out as India go with four pacers against New Zealand | Cricket News ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত সংসদে ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২০১০ যৌন হয়রানির প্রতিবাদ: ২৭ দিন ক্লাসের বাইরে উদয়ন স্কুলের ১০ শিক্ষার্থী, বিক্ষোভ ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী প্রোডাকশন নেটওয়ার্ক গড়তে বাংলাদেশ কাজ করছে’

প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে মাদরাসার চাকরি চালাচ্ছেন রাবি ছাত্রদল নেতা জীবন

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১৪ সময় দেখুন
প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে মাদরাসার চাকরি চালাচ্ছেন রাবি ছাত্রদল নেতা জীবন


রাবি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদারাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকেও নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে নিজের পরিবর্তে মামাকে দিয়ে পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্ব পালন না করেও নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। তবে মাদরাসাটির অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, জীবন তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হলেও তার পরিবর্তে অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত নাফিউল ইসলাম জীবন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক। তিনি আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। এছাড়াও তিনি ২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচন করেন। প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর বিষয়টি নিজেও স্বীকার করেছেন এই ছাত্রদল নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদরাসায় ২০২৫ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নাফিউল ইসলাম জীবন। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত পাঠদান না করে তার মামা আসমত আলীকে দিয়ে ক্লাস করিয়ে আসছেন।

নিয়মিত ক্লাস নেন কি না, জানতে চাইলে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম বলেন, ‘জীবনের পরিবর্তে অন্য একজন প্রক্সি ক্লাস নেন। জীবন জানিয়েছিল, তার মাস্টার্স শেষ হয়নি। তাই আপাতত অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করে সে।’

এভাবে অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ানো নিয়মের মধ্যে পড়ে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিটির কেউ এতে বাধা দেন না। আমাদের পক্ষ থেকেও কেউ বাধা দিচ্ছেন না। এভাবেই চালিয়ে নিচ্ছি। আমাদের লোকজনও কিছু বলে না। শুরু থেকেই প্রক্সি ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। মাস্টার্স শেষ করলেই হয়তো সে নিয়মিত ক্লাস নেবে।’

জীবনের পরিবর্তে কে ক্লাস নেন জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জানান, ওই ব্যক্তির নাম আসমত আলী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাফিউল ইসলাম জীবন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘অনার্স শেষ করার পর ২০২৩-২৪ সালের দিকে নিবন্ধন আসে। তখন মনে হলো, এত ত্যাগ, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও বসে আছি। অন্তত নিজের ডাল-ভাতের ব্যবস্থা তো করতে হবে। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর নিবন্ধন পরীক্ষা হয়। সেখানে আমি উত্তীর্ণ হই। পরে বাসায় জানাই, রাজনীতি করে তো কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাই কিছু একটা করা দরকার। তখন পরিবার থেকেই আমাকে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের পর আমি চাকরিতে যোগ দিই। তখনও আমার মাস্টার্স শেষ হয়নি। বিষয়টি মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে জানিয়ে তার কাছে অনুরোধ করি, যেন আমাকে মাস্টার্স শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তখন স্যারেরা বলেন, ‘ঠিক আছে, তুমি মাস্টার্স করো। তবে ক্লাস তো আর বন্ধ রাখা যায় না, তাই কাউকে দিয়ে ক্লাস করিয়ো।’ তখন আমাদের এলাকায় কামিল পাস করা একজন ছিলেন, যিনি সম্পর্কে আমার মামা হন। তাঁকে বলি, আপনি আমার পরিবর্তে ক্লাসগুলো নেন। এভাবেই চলতে থাকে। বেতন যা পাই অর্ধেক তাকে দিতে হয় আর অর্ধেক আমি নেই।’

বিষয়টি কেন আড়াল করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি আড়াল করে রাখার চেষ্টা করেছি, কারণ এর সঙ্গে আমার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও জড়িত। আসলে এটাকে পুরোপুরি বৈধ বলা যায় না, কারণ আমার চাকরিটি অন্য একজন চালিয়ে যাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে কথা হয় বাঘা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: তকী ফয়সাল তালুকদারের সাথে। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। যেহেতু এরকম পক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর কোন নিয়ম নাই। আমরা এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিব এবং তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর