সম্প্রতি বিভিন্ন খবরে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে বাংলাদেশের ফরিদপুরের এক ব্যক্তির পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়ার খবরটি। তবে এখানে এত আশ্চর্যান্বিত হওয়ার এমন কী ছিলো? চমকটি হলো, তিনি পুরো পদ্মা নদী তার নিজের বানানো একটি সৌরচালিত বাইসাইকেল দিয়ে পাড়ি দিয়েছেন। যা খুব শীঘ্রই খবরে এসে ভাইরাল হয়ে যায়।
৩২ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম কোন হঠাৎ আবিষ্কারক নন। তিনি একজন মাস্টারস ডিগ্রীপ্রাপ্ত ফরিদপুরের পাইকপারা গ্রামের বসবাসকারী মানুষ। সাইফুল ইসলামের বাবার ভাষ্যমতে, তার ছোট থেকেই আবিষ্কারের প্রতি এক ধরণের নেশা ছিলো। তিনি নানারকম জিনিস বানানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু পরিবারের পেট ভরতে সাইফুল বড় হয়ে কাজের পাশাপাশি এসব আবিষ্কার চালিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।
সৌরচালিত বাইসাইকেল:
ঠিক একইভাবে তিনি এই সৌর বাইসাইকেলটি তৈরি করেন। এটি তৈরি করতে সাইফুল ইসলামের প্রায় ৬ মাস সময় লাগে। সাইকেলটির সকল যন্ত্রাংশ স্থানীয় মার্কেট গুলো থেকে কেনা এবং খুবই সাধারণ ভাবে তৈরি করা। এটি তৈরি করতে তার প্রায় ৩০০০০ টাকা লেগেছে। সাইকেলটি মাটি এবং পানি উভয় স্থানেই চলতে পারবে। সাইকেলটির ব্যাপারে তিনি ঢাকা ট্রিবিউন কে জানান, তার বাইসাইকেলটির সাথে কিছু সৌর প্যানেল যুক্ত আছে। এছাড়াও, চাকাগুলোর সাথে ৪টি গোল টিউব যুক্ত আছে যা সাইকেলটিকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। তিনি আরো জানান, সাইকেলটিতে কষ্ট করে পেডেল মারারও প্রয়োজন হয় না যেহেতু এটি সৌরচালিত।
অন্যান্য আবিষ্কার:
সাইফুলের এই আবিষ্কার ফরিদপুরবাসীর মধ্যে একধরণের হৈচৈ তৈরি করেছে। সাইফুল ভবিষৎ এ এমন আরো কিছু আবিষ্কার করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কিন্তু এটি তার ১ম আবিষ্কার নয়। তার পূর্ববর্তী কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে- বাস, ফসল কাটার যন্ত্র, মোটরসাইকেল, ড্রোন এবং একটি রকেটের মডেল। তার এখন চলাকালীন প্রজেক্টের কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন যে বর্তমানে তিনি একটি স্পিড বোট বানানোর প্রচেষ্টা করছেন যা সৌর বিদ্যুৎের সাহায্যে মাটি এবং পানি উভয় স্থানেই চলবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে তিনি একটি প্লেন বানানোর ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কিন্তু যথাযথ ফান্ডিং এর অভাবে এটি এখনো পূরণ হওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। তার বানানো যন্ত্রগুলির বিশেষত্বই হচ্ছে এগুলো সৌর বিদ্যুৎের মাধ্যমে চলে থাকে। এবং আমরা জানি, আমাদের পরিবেশ এবং জলবায়ুর জন্য ভালো আবিষ্কার হিসেবে প্রমাণ হচ্ছে এসব সৌরচালিত যন্ত্রাংশ।
সাইফুল ইসলাম সরকার এবং বিভিন্ন NGO সংস্থাদের অনুরোধ করেছেন তাকে ফান্ড এর ব্যবস্থা করে দেয়ার যাতে তিনি আরো সৌরচালিত যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে, ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলার চেয়ারম্যান দুজন নিজেদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে সাইফুল ইসলাম নিজের স্বপ্ন দেশ ও সমাজের জন্য বাস্তবায়ন করতে একটু পিছিয়ে পড়েছেন। কিন্তু তার চেষ্টা একদিন সফল হবে বলে আশাবাদী ফরিদপুরবাসী।
সাবিকুন্নাহার আফরা
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE