রাবি করেসপন্ডেন্ট
রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ারের (২৬) মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাতে শহীদ হবিবুর রহমান হলের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নিহত শাহরিয়ার বাড়ি দিনাজপুরে বিরল উপজেলায়। রাবির মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ওই হলের ৩৫৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
শাহরিয়ারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, শাহরিয়ার অসুস্থ ছিলো না। বারান্দা থেকে তার পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি তদন্তের দাবি রাখে। কারণ তার মৃত্যুটা আমার কাছে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা মনে হচ্ছে না। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী এম হাসান হিমেল বলেন, শাহরিয়ার যখন নিচে পড়ে তখন বিকট একটা শব্দ হয়। চার তলায় কিছু ছেলে ছিল তারা পড়ে গেছে বলে চিৎকার করছিলো। পাশেই আমার রুম ছিল। জানালা দিয়ে দেখেছি সে উপুড় হয়ে পড়েছিলো।
তিনি আরও বলেন, শাহরিয়ারের কাছে কোনো মোবাইল ছিল না, ঘটনাস্থলেও পাওয়া যায়নি। তার মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিলো। কীভাবে পড়েছে বা পড়তে পারে তা আসলে তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। আমি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক! প্রতিটি ফ্লোরে উঁচু রেলিং আছে। নরমালি পড়ার সুযোগ নেই। যদি রেলিং-এ পা তুলে বসে থাকে তাহলে অসাবধানতাবশত পড়তে পারে। আর যদি তা না হয় তবে পরিকল্পিত হত্যাও হতে পারে। এটার তদন্ত হওয়াটা অতি জরুরি। তাহলেই আসল ঘটনাটা সবার সামনে আসবে। না হলে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, দুর্ঘটনা নাকি হত্যা?
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, যেহেতু শাহরিয়ারের পাশে কেউ ছিল না সেহেতু সে কীভাবে পড়ে গেছে এটা জানা যায়নি। আমাদের কাছে এমন কোনো আলামত আসেনি যা দেখে আমরা বলবো যে এটা পরিকল্পিত হত্যা। তবে তার আত্মীয়স্বজন বা সহপাঠীরা যদি তদন্তের জন্য দাবি জানায় তাহলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করবো।
উল্লেখ্য, বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে শহীদ হবিবুর রহমান হলের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন শাহরিয়ার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।
সারাবাংলা/এনইউ