আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সাইপ্রাসে ইতিহাসের ভয়াবহতম দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি দেশ সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রিস, ইতালি ও ইসরাইল দেশটিতে দমকলকর্মী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। সাইপ্রাসে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের সেনা সদস্যরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
এর আগে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চায় সাইপ্রাস। সাইপ্রাসের এমন আহ্বানে সাড়া দিয়েছে এসব দেশ।
সাইপ্রাসে সপ্তাহজুড়ে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের পর দাবানল সূত্রপাত হয়। বাতাসের প্রবাহে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সাইপ্রাসের দক্ষিণ লিমাসোল জেলায় দাবানলের তেজ বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
রোববার (৪ জুলাই) দাবানলে চারজন মিশরিয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। দাবানলের তেজ প্রতিদিন বেড়েই চলছে। আরাকপাসের এক স্থানীয় কমিউনিটির নেতা ভাসোস ভ্যাসিলিও বলেন, আগুন ঝড়ের মতো সবকিছু ভেদ করে বাড়ছে। এটি সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস নিকোস আনাস্তাসিয়াডস দেশটির ট্রুডোস পর্বতমালার পাদদেশে দাবানলের আগুনকে মর্মান্তিক বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘সাইপ্রাসে ১৯৭৪ সালের পর এটি সবচেয়ে বড় আগুন’। উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে তুরস্কের আগ্রাসনে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। মূলত ওই আগ্রাসনের দিকেই ইঙ্গিত করে এবারের দাবানলের ভয়াবহতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইপ্রাসে এবারের তাপপ্রবাহ ও দাবানল বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের ফল। এ সপ্তাহের শুরুতে দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ৪০ সেলসিয়াস স্পর্শ করে। এ অঞ্চলে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামনের বছরগুলোতে আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সারাবাংলা/আইই