শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে শিল্পাঞ্চল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পর অনেকটায় স্বাভাবিক কর্ণফুলীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫ অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী Ramayana Box Office Collection Day 1: Ranbir Kapoor, Yash’s Film Mints Rs 64.85 Crore On Opening Day | Bollywood News ‘Ordinary bowler’: Ex-India captain slams CSK’s ‘confusing’ trade, says SRH are the real winners | Cricket News শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে পলাতক আ.লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী মইজ্জ‍্যারটেকে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসার অভিযোগ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটভুক্ত নন ১৩ প্রার্থী

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯০ সময় দেখুন
সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটভুক্ত নন ১৩ প্রার্থী


রাবি: ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি সার্ভিস কমিশন (বিজেএস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর নাম গেজেটভুক্ত হয়নি। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কঠিন প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গেজেটে তাদের নাম বাদ পড়ায় প্রার্থীরা এবং তাদের পরিবারসহ শিক্ষাঙ্গনে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন মোট ১০২ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে। প্রায় ১০ মাস অপেক্ষার পর ২৭ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয় যে নিয়োগ-গেজেট প্রকাশ করে, সেখানে মাত্র ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বাকি ১৩ জনকে কোনো কারণ উল্লেখ না করেই বাদ দেওয়া হয়। এতে চরম হতাশায় ভুগছেন বাদ পড়া এসব শিক্ষার্থীরা।

সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটভুক্ত না হওয়া ১৩ জন হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তানসেনা হোসেন মনীষা, অনিক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মুন্না ও গগন পাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশাত মনি, নাহিম হাসান, মো. রেজাউল ইসলাম ও সাজ্জাদুল হক। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিকুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মামুন হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুব্রত পোদ্দার এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হুমায়রা মেহনাজ।

গেজেটভুক্ত না করা এসব শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কারও বিরুদ্ধেই কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা ফৌজদারি মামলা নেই। তারা সম্পূর্ণরূপে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই বিচারক হওয়ার সুপারিশ লাভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, বরং আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা তাদের ভাষায় সংবিধান, ন্যায়সংগত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তানসেনা হোসেন মনীষা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ১৭শ বিজেএস পরীক্ষায় ২৫তম মেধাক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। মেডিকেল পরীক্ষা ও ভেরিফিকেশনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করি। আমার নামে কোনো প্রকার দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা নেই। আমার ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসের বাইরে কোথাও কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও প্রকাশিত গেজেটে আমাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। আমি জানি না কেন বা কী কারণে আমাকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত করার পরেও বাদ দেওয়া হলো। আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছি।’

আরেক ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ বলেন, ‘আমার নামে কোনো দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলা নেই। আমার ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসের বাইরে বা এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং-সভা কোনো কিছুতেই অংশগ্রহণ করিনি। কিন্তু গতকাল প্রকাশিত গ্যাজেটে নিজের নাম না দেখে আমার মন ভেঙে যায়। কোন ইস্যুতে আইন মন্ত্রণালয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদৌ জানি না। রিকমন্ডেড হওয়ার দীর্ঘ সময় ধরে গেজেটের অপেক্ষায় ছিল আমার পুরো পরিবার। আমার বৃদ্ধ মা যার বয়স ৮৬ বছর যিনি তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। আমার মা অসুস্থ হয়ে গেছেন। গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার কারণে আমার পরিবার হেনস্তার শিকার হবেন। এর দায় কে নেবেন? আমি রিভ্যারিফিকেশন চাই না। আমি বাকিদের সঙ্গে ১ তারিখ জয়েন করতে চাই।’

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমার পুরো অ্যাকাডেমিক জীবনে আমি কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিটিং, মিছিল বা কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমার নামে কখনোই কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। আমার পরিবার কোন ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের না। এমনকি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেই। জুডিশিয়ারিতে টিকতে কত পরিশ্রম করতে হয় তা কাকে বোঝাব? আমাদের পরিশ্রমের কোনো মূল্য নেই? আমি বাকিদের সঙ্গেই ১ ডিসেম্বর জয়েন করতে চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী মাহমুদুল হোসেন মুন্না বলেন, ‘আমাদের জুডিশিয়ারির লিখিত পরীক্ষা পেছানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে গেছি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে। বৈষম্য দূর হবে এমন আশা নিয়ে নতুন বাংলাদেশে আমিসহ ১৩ জন সুপারিশপ্রাপ্ত বিচারক গেজেট বঞ্চিত হয়ে এক বিশাল বৈষম্যের শিকার হলাম। খুবই কষ্ট পাচ্ছি। আমাদের একটাই দাবি আগামী কর্মদিবস, রোববারে আমাদের সকলের গেজেটের ব্যবস্থা করা হোক।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাহিম হাসান বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই এবং আমি আমার ক্যাম্পাস লাইফে হলের অনাবাসিক ছাত্র ছিলাম। আমার নামে কোনো প্রকারের দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা নেই। তবুও গেজেট বঞ্চিত হলাম। এ দুঃখ কই রাখি? আমি চাই বৈষম্য না করে সবাই যেন একসঙ্গে চাকরিতে জয়েন দিতে পারি সেই ব্যবস্থা করা হোক।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরদার কাইসার আহমেদ ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘সুব্রত পোদ্দার (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী—যাকে সংগ্রাম, অধ্যবসায়, সততা ও নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। আমরা তার প্রতি কোনো ধরনের অবিচার আশা করি না, কিংবা তার সঙ্গে কোনো অন্যায় হোক, তা মেনে নেওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, ‘এ সমস্ত প্র্যাকটিস তো আগে ছিল এবং যেকারণে গণআন্দোলন হলো। বলা হলো যে, মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, এ সমস্ত প্র্যাকটিস বন্ধ হবে, পরিবর্তন হবে দেশের। সে কারণে মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল; তবে সেই গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী একটি কাজ হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমার এর বেশি মন্তব্য করার কিছু নাই।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, ‘এটা চরম অযৌক্তিক। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার চাকরি হবে না— এটা তো অসাংবিধানিক। সে যদি কোনো নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত থাকে সেটা ভিন্ন বিষয়। বিগত সরকারের আমলে এগুলো হতো— তখনও আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। পৃথিবীর কোথাও বাবার পরিচয়ে ছেলের চাকরি হয় না। বাবার জন্য ছেলে চাকরি পাবে না, এটা মোটেও ভালো কিছু না এবং আমি মনে করি কর্তৃপক্ষের এটা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।’





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর