শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে শিল্পাঞ্চল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পর অনেকটায় স্বাভাবিক কর্ণফুলীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫ অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী Ramayana Box Office Collection Day 1: Ranbir Kapoor, Yash’s Film Mints Rs 64.85 Crore On Opening Day | Bollywood News ‘Ordinary bowler’: Ex-India captain slams CSK’s ‘confusing’ trade, says SRH are the real winners | Cricket News শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে পলাতক আ.লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী মইজ্জ‍্যারটেকে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসার অভিযোগ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

হারানো জৌলুস ফেরাতে চাই গবেষণা ও উন্নয়ন

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৮১ সময় দেখুন
হারানো জৌলুস ফেরাতে চাই গবেষণা ও উন্নয়ন


প্রযুক্তি, একুশ শতকের চালিকাশক্তি, প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে আমাদের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও সমাজ। এই প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন ও সম্ভাবনাকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে প্রযুক্তি মেলাগুলো। বিশ্বের বুকে সিবিট, জাইটেক্স, সিইএস, কমিউনিক এশিয়া, ইনফোকম, ভিটনাম এক্সপো, চায়না হাই-টেক মেলা, ক্যান্টন ফেয়ার এবং মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলাগুলো বছর বছর ধরে শুধু জৌলুসই বাড়ায়নি, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

কিন্তু এখানেই থমকে গেছে বাংলাদেশ। দেশের প্রযুক্তি মেলাগুলো বছর বছর ধরে জৌলুস হারাচ্ছে, আর এর নেপথ্যে স্পষ্ট কাঠামোগত দুর্বলতা, অনিয়ম, পরিকল্পনার অভাব ও নেতৃত্বের অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিগত বেশ কয়েক বছরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত প্রযুক্তি মেলার অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিশেষ প্রতিবেদনটি লিখেছেন ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইমরাদ (তুষার) এবং মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মৃধা (সোহেল মৃধা)।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলার সাফল্যের নেপথ্যে

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি মেলাগুলো শুধু পণ্যের প্রদর্শনী নয়, বরং নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন, ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন এবং জ্ঞান বিনিময়ের কেন্দ্র। প্রযুক্তি মেলাগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। মেলাগুলোর সাফল্যের প্রধান কয়েকটি দিক হলো-

তথ্য ও প্রস্তুতিতে সুসংগঠিত: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলাগুলোর ওয়েবসাইট অত্যন্ত তথ্যবহুল থাকে, যেখানে প্রদর্শনীর সম্পূর্ণ পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য, সেমিনার ও বক্তাদের তালিকা, প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীদের তথ্য এবং এমনকি পরবর্তী বছরের মেলার তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করা থাকে।

সময়ানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব: প্রযুক্তি মেলাগুলোর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সহ সকল আয়োজন ঘড়ির কাঁটা ধরে শুরু হয়। এখানে বিলম্ব মানেই পেশাদারিত্বের অভাব এবং নির্ভরযোগ্যতা তুলে ধরে।

উদ্ভাবন ও নতুন পণ্যের উন্মোচন: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলাগুলোতে নতুন পণ্যের উন্মোচন একটি রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। এই মেলাগুলোতে বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গবেষণা ও উন্নয়নের সর্বশেষ ফসল বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব: এই মেলাগুলো লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী ও বিলিয়ন ডলারের লেনদেন আকর্ষণ করে। চীনের কিছু উচ্চ-প্রযুক্তি মেলায় ১৭০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি ব্যবসায়িক চুক্তি রেকর্ড করা হয়েছে। এমডব্লিউসি বার্সেলোনা স্থানীয় অর্থনীতিতে যোগ করে ৪০০ মিলিয়ন ইউরো। এই মেলাগুলো নতুন বিনিয়োগ, চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজার ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

এই মেলাগুলো একক কোনও দেশের সরকারি সংস্থা বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান দ্বারা আয়োজিত হয় না। বরং, আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, বাণিজ্য সংস্থা এবং শিল্প সমিতিগুলো এর আয়োজন করে থাকে। যেমন, জিএসএম অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বব্যাপী মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস আয়োজন করে। ইনফর্মটেক জাইটেক্স গ্লোবাল-এর অন্যতম আয়োজক।

দেশীয় প্রযুক্তি মেলা ও জনপ্রিয়তা হারানোর কারণ

বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজন করে থাকে, যদিও বর্তমানে এই মেলা চলমান নেই। দেশের আইসিটি খাতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠন বিসিএস ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো’; বেসিস ‘বেসিস সফটএক্সপো’; আইএসপিএবি ‘ইন্টারনেট ফেয়ার’; বাক্কো ‘বিপিও সামিট’ এবং ‘ই-ক্যাব ই-কমার্স ফেয়ার’ আয়োজন করে থাকে। পাশিপাশি বিসিএস কমপিউটার সিটি ‘সিটি আইটি মেগা ফেয়ার’ এবং মাল্টিপ্ল্যান কমপিউটার সিটি সেন্টার ‘ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার’ আয়োজন করে থাকে। কিন্তু সমস্যা একটাই মেলা বাড়ছে, মান বাড়ছে না।

জনপ্রিয়তা হারানোর প্রধান কারণগুলো হলো

সময়ানুবর্তিতার অভাব: দেশের প্রযুক্তি মেলাগুলোতে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন সেশনের সময় শতভাগ ঘড়ির কাঁটা ধরে অনুসরণ করা হয় না, যা পেশাদারিত্বের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষত ভিভিআইপি ও অতিথিদের উপস্থিতির কারণে শুরুতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্ব হয়। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলায় যা অকল্পনীয়।

নতুনত্বের অভাব ও পণ্য উন্মোচনে ব্যর্থতা: বেশিরভাগ দেশীয় প্রযুক্তি মেলা নতুন বা উদ্ভাবনী পণ্যের জাতীয় বা আন্তর্জাতিক উন্মোচনের জন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। উদ্ভাবনের অভাবে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তো দূরের কথা, স্থানীয় বিনিয়োগকারীর আগ্রহও কমছে। ফলে মেলায় ইনোভেশন শোকেস নামমাত্র হয়। স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনকে সামনে আনার পরিবর্তে পণ্য বিক্রি করাই হলো মূল লক্ষ্য এখানে বেশি দেখা যায়, আইটি প্রতিষ্ঠানের সাধারণ প্রচারণা এবং ভোক্তা-কেন্দ্রিক গেম/লটারির ব্যবস্থা।

কাঠামোগত দুর্বলতা ও তথ্যের ঘাটতি: দেশীয় প্রযুক্তি মেলাগুলোর ওয়েবসাইট সচরাচর তথ্যবহুল থাকে না। এমনকি মেলা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেও অনেক সময় ওয়েবসাইটে থাকে না পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি, এমনকি বুথ লেআউটও অনুপস্থিত। মেলা শুরুর আগে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারি প্রতিষ্ঠানদের তালিকা ও তথ্য, সেমিনার শিডিউল, দর্শনার্থিদের তথ্য এবং পরবর্তী বছরের তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করা হয় না। যা কোনও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলার সঙ্গে তুলনাই চলে না।

বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ: প্রাপ্তি বনাম ব্যর্থতা

সরকারের নীতিনির্ধারক এবং দেশের আইসিটি খাতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে।

অংশগ্রহণের সুফল: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও আইটিএস প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এটি দেশের আইটি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

ব্যর্থতা/সীমাবদ্ধতা: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলাগুলোতে প্রায়শই নতুন বা উদ্ভাবনী পণ্য বা সেবার বদলে কেবলমাত্র বিদ্যমান পণ্যের প্রদর্শন করা হয়। উদ্ভাবনী পণ্য কম থাকায় আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়। এ ছাড়া, দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কৌশলগত ফলো-আপের অভাবে মেলা থেকে কার্যকর ব্যবসায়িক চুক্তি বা কাঙ্ক্ষিত সুফল আনতে ব্যর্থ হয়। বেশিরভাগ অংশগ্রহণ বাস্তব প্রয়োজনের বদলে প্রটোকল বা ‘ট্যুর’ টাইপ মানসিকতা হয়ে থাকে।

বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ: উদ্দেশ্য বনাম অর্জন
দেশের আইসিটি খাতের বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর (যেমন- বিসিএস, বেসিস, আইএসপিএবি, বাক্কো, ই-ক্যাব) নেতাদের নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণ প্রশ্নাতীত নয়। এই অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য থাকা উচিত ব্যক্তি-ব্যবসার ঊর্ধ্বে গিয়ে শিল্প খাতের সম্মিলিত স্বার্থ রক্ষা করা।

নেতাদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশিত উদ্দেশ্য

নীতি ও জ্ঞান আহরণ: বিশ্বের নেতৃস্থানীয় প্রযুক্তিবিদ, নীতিনির্ধারক ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য এবং সেমিনার থেকে আগামী দিনের প্রযুক্তির ধারা, বৈশ্বিক ডিজিটাল নীতি ও ভবিষ্যৎ বাজারের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা। এই জ্ঞানকে দেশে এনে পলিসি ডায়ালগ এবং সদস্যদের ব্যবসায়িক কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করা।

ব্র্যান্ডিং ও বাজার প্রতিনিধিত্ব: মেলায় দেশের আইসিটি খাতকে একটি সম্মিলিত ও একক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করা।

বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব আকর্ষণ: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থা, কর্পোরেট ক্রেতা এবং বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দেশের স্টার্টআপ ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশী বিনিয়োগ বা রফতানি চুক্তি আনার ভিত্তি স্থাপন করা।

শিল্প-ভিত্তিক শিক্ষা: আন্তর্জাতিক মেলাগুলোর সুসংগঠিত কাঠামো, সময়ানুবর্তিতা এবং বিটুবি ম্যাচমেকিং প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে দেশের মেলাগুলো কীভাবে উন্নত করা যায়, তা শেখা।

বিতর্ক ও প্রশ্ন

ব্যক্তিগত ব্যবসার দিকে মনোযোগ: অনেক সময় সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে নেতাদের প্রধান মনোযোগ সংগঠনের সামগ্রিক লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক চুক্তি বা যোগাযোগ স্থাপনে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

জ্ঞান স্থানান্তরে ব্যর্থতা: মেলা থেকে অর্জিত জ্ঞান বা শেখা আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলনগুলো সাধারণ সদস্যদের কাছে বা দেশের নীতিনির্ধারকদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানো বা প্রয়োগ করা হয় না। ফলে, দেশের আইসিটি খাত সামগ্রিকভাবে সেই ভ্রমণের সুফল পায় না।

জবাবদিহিতার অভাব: সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ভ্রমণের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব এবং অর্জিত চুক্তির পরিসংখ্যান সম্পর্কে স্বচ্ছ ও নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের অভাব থাকলে এই অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলার অর্থনৈতিক ও পরিসংখ্যানগত প্রভাব

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলাগুলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এদের আর্থিক প্রভাব বহু-মাত্রিক-

লেনদেনের বিশাল অঙ্ক: বিশ্বের বৃহত্তম মেলাগুলোতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়। চীনের কিছু উচ্চ-প্রযুক্তি মেলায় ১৭০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি ব্যবসায়িক চুক্তি রেকর্ড করা হয়েছে।

বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ: এই মেলাগুলো প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল হাতিয়ার। এমডব্লিউসি-এর মতো মেলা স্থানীয় অর্থনীতিতে ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে।

রফতানি বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলাগুলোতে অংশগ্রহণকারী দেশের আইটি ও আইটিইএস রফতানি বৃদ্ধি হয়। বাংলাদেশের আইসিটি খাত বর্তমানে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি করে এবং এই অঙ্ক বাড়াতে আন্তর্জাতিক মেলাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

দেশীয় মেলার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের দিক থেকে প্রভাব সীমিত

স্থানীয় অর্থনীতির উদ্দীপনা: দেশীয় মেলা চলাকালীন স্থানীয় আইটি পণ্য বিক্রিতে ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি দেখা যায়।

সীমিত বিটুবি লেনদেন: পরিসংখ্যানগত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মেলাগুলোর মতো এখানে বড় আকারের বিুটবি রফতানি চুক্তি বা সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের ঘোষণা তুলনামূলকভাবে কম হয়।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পরিমাপে ঘাটতি: দেশের প্রযুক্তি মেলাগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট সংক্রান্ত শক্তিশালী এবং নিয়মিত পরিসংখ্যানগত তথ্য প্রকাশের ঘাটতি রয়েছে।

প্রযুক্তি মেলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে উপায়

দেশের প্রযুক্তি মেলাগুলোকে হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য-

উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু: মেলাগুলোকে শুধুমাত্র প্রদর্শনীর বদলে নতুন প্রযুক্তি ও দেশীয় উদ্ভাবনী পণ্যের জাতীয় উন্মোচনের জন্য বাধ্যতামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ: কঠোর সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক মেলার মতো আগাম ও তথ্যবহুল পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে।

বিনিয়োগ ও পলিসি সেমিনার: দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য মেলা চলাকালীন বিনিয়োগ পলিসি নিয়ে বিশেষ সেমিনার এবং বিটুবি ম্যাচমেকিং সেশন আয়োজন করতে হবে।

গবেষণা ও উন্নয়নে প্রণোদনা: সরকারকে আইটি শিল্পে গবেষণা ও উন্নয়নে বিশেষ ট্যাক্স সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে মেলায় আসতে উৎসাহিত হয়।

ছাত্র ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণ: কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতে হবে, যা নতুন উদ্ভাবক তৈরির সুযোগ করে দেবে।

সামগ্রিকভাবে, প্রযুক্তি মেলাগুলোকে কেবল প্রদর্শনী হিসেবে না দেখে, জাতীয় উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং জ্ঞান বিনিময়ের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তবেই দেশের আইসিটি খাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি সফলতা লাভ করতে পারবে। প্রযুক্তি মেলা কোনও উৎসব নয়, একটি দেশের বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণের কৌশলগত অস্ত্র। বাংলাদেশ যদি প্রযুক্তি খাতে নতুন উচ্চতায় উঠতে চায়, তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পুনর্গঠন ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। জৌলুস ফেরাতে হলে এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নইলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি দুনিয়ায় বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়বে এবং মেলার মাঠে থাকবে শুধু ফাঁকা আবরণ, হারানো সম্ভাবনা।

লেখক: ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইমরাদ (তুষার) এবং মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মৃধা (সোহেল মৃধা)





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর