বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হামের উপসর্গে প্রাণ হারাল আরও ৬ শিশু বাংলাদেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তায় ইরান ভূমিকা রাখতে পারে না: রাষ্ট্রদূত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী আদিবাসী উৎসব বৃহস্পতিবার হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপ চ্যাট এখন আরও সহজ New Film In Tamil Nadu Can Hold 6 Shows A Day, Vijay’s Government Passes Order | Bollywood News Shubman Gill opts to bowl, Mohammed Siraj and Kuldeep Yadav miss out as India go with four pacers against New Zealand | Cricket News ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত সংসদে ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২০১০ যৌন হয়রানির প্রতিবাদ: ২৭ দিন ক্লাসের বাইরে উদয়ন স্কুলের ১০ শিক্ষার্থী, বিক্ষোভ ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী প্রোডাকশন নেটওয়ার্ক গড়তে বাংলাদেশ কাজ করছে’

৫ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিল রাকসু

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩২ সময় দেখুন
৫ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিল রাকসু


রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) আয়োজনে দুই দিনের বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ৫ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী। গত ১১ ও ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ক্যাম্পে ১৬টি বিভাগে প্রায় ৭০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি, বিভিন্ন রোগ শনাক্ত করতে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা।

রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ (ডিসিআর) এবং ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ), রাজশাহী।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের ক্যাম্পে ৩ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন এবং ১ হাজার ৮৬০ জন বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করিয়েছেন। নাক-কান-গলা, লিভার, কিডনি, বক্ষব্যাধি, গাইনি ও মেডিসিনসহ ১৬টি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, রিফ্র্যাকশন টেস্ট ও ফিজিওথেরাপিসহ প্রায় ১৫ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল।

ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চের (ডিসিআর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের ক্যাম্পে রোগী পরামর্শ নিয়েছেন ১ হাজার ৪৩৯ জন। এ ছাড়া ৩৮৭ জন রিপোর্ট-সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়েছেন। ওই দিন ৫০ জন আলট্রাসনোগ্রাম, ৫৩ জন ইসিজি, ৭৫ জন প্রস্রাব পরীক্ষা এবং ৯৮ জন রক্তে শর্করা পরীক্ষা করিয়েছেন। এ ছাড়া ১০ জন HbA1C (রক্ত পরীক্ষা), ১১ জন CRP (যকৃৎ বা লিভার পরীক্ষা), ৫৫ জন TSH (থাইরয়েড পরীক্ষা) এবং ৩২ জন চোখের লেন্সের পাওয়ার পরীক্ষা করিয়েছেন। মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল বোর্ডের সেবা নিয়েছেন একজন।

প্রতিবেদনে প্রথম দিনের ক্যাম্পে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য সেবা মিলিয়ে ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকার সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দিনের ক্যাম্পে রোগী পরামর্শ নিয়েছেন ২ হাজার ৭১ জন এবং রিপোর্ট-সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়েছেন ৮৫০ জন। এ ছাড়া ২৫ জন ফিজিওথেরাপি, ৮৫ জন আলট্রাসনোগ্রাম, ৮৩ জন ইসিজি, ১৬০ জন প্রস্রাব ও কিডনি পরীক্ষা এবং ২৯২ জন রক্তে শর্করা পরীক্ষা করিয়েছেন। এদিন ১৯৫ জন হিমোগ্লোবিন, ২০ জন HbA1C, ২৫ জন CRP, ৮৫ জন TSH এবং ৭৫ জন চোখের লেন্সের পাওয়ার পরীক্ষা করিয়েছেন। এ ছাড়া তিনজন MDT মেডিকেল বোর্ডের সেবা নিয়েছেন।

দ্বিতীয় দিনের ক্যাম্পে ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকার সেবা দেওয়া হয়েছে বলে ডিসিআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দিনের হিসাব অনুযায়ী, মোট সেবার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৩৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯০০ টাকা।

মেডিক্যাল ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাকসু শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক ভালো কাজ করছে। মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্যোগটি তার মধ্যে অন্যতম। আমি তিনটি সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছি। চিকিৎসকেরা বেশ সময় নিয়ে আমার কথা শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের ব্যবহারও ছিল খুবই আন্তরিক। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানেও রাকসুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাকসুর এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপকারী। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারেন না। মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে তারা সহজেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন। চিকিৎসকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের কথা শুনছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিসিআরের প্রতিনিধি ড. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একই জায়গায় চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্টভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের পোর্টেবল ল্যাবে পরীক্ষা করে দুই ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হবে। রোগীর বয়স, উচ্চতা, ওজন ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূল লক্ষ্য হলো, রোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে জটিলতা ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার ঝুঁকি কমানো। এ লক্ষ্যে ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ গত ১৮ বছর ধরে কাজ করছে।’

রাকসুর সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, একই ছাদের নিচে একটি সমন্বিত ও অস্থায়ী মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেখাতে চেয়েছি, আন্তরিক উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। এমনকি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্টও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া সম্ভব, যা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমাতে পারে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের এ ধরনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবাও ঠিকমতো পান না। সেখানে এক জায়গায় এতগুলো সেবা পাওয়া এবং মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়া অবিশ্বাস্য।’

রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমরা দোয়া করি, অসুস্থ শিক্ষার্থীরা এই চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠুক।’

 





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর