বিশ্বের অর্ধ শতাংশ মহাসৃষ্টি আর কল্যাণের ভার যার উপর বর্তায় তিনি হচ্ছেন একজন নারী। ছোট্ট দুইটি বর্ণের বহিঃপ্রকাশ হলেও এর বিশালতা পাহাড় কিংবা সমুদ্রের তুলনায় কম নয়। নারী শ্রেষ্ঠা, নারী বিজয়া, নারী একটি জাতির কর্ণধার, নারী দশভুজা, নারীই মা। সৃষ্টিকর্তা একজন নারীর অন্তরকে ভঙ্গুর করলেও তার মধ্যে তীব্র চেতনা দিয়েছেন বহুগুন।
আপনি একজন নারী। নারী হয়ে আপনি অধ্যাপিকা কিংবা শিল্পী হতেই পারেন। নিজের হাতে প্রতিমা গড়ার যোগ্যতাও হয়তো আপনার আছে। আপনি চাইলেই হাজার হাজার প্রতিমা নিজ হাতে গড়তে পারেন। কিন্তু তাই বলে কি সেই প্রতিমাকে পূজো করার ক্ষমতা আপনাকে দেওয়া হবে? একজন নারী কী পৌরহিত্য অর্জন করতে পারবে?
অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় অভিনীত একজন অত্যন্ত সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত চরিত্র শবরী, যিনি সমাজের প্রতিটি নারীর প্রতিনিধিত্ব করেন। বিয়ের পরেও তাঁর কাজ এবং পরিবারের সকল বাধা একসাথে একলা হাতে সামলে নিয়েছেন যিনি। পুরো চলচ্চিত্র জুড়ে, শবরী কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির দ্বারা গ্রহণযোগ্যতার জন্য লড়াই করে গেছেন, যারা কেবল তাকে শুধু অসম্মানই করেনি বরং তার জীবনের প্রতিটি সুযোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শবরী পেশায় একজন প্রভাষক, একটি কলেজে সংস্কৃত পড়ান। একই কলেজে নাটক ও অভিনয়ের সাথেও তিনি যুক্ত।
মুভিটি শুরু হয়েছে ‘মহাভারতের দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ’ নাটকের মাধ্যমে, যেখানে শবরী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই নাটকটির মাধ্যমে নারীদের মধ্যে সাহসী মনোভাব যোগান দিতে তিনি ‘স্যানিটারি প্যাডস ফর উইমেনস প্রোটেকশন’ ধারণাটি যুক্ত করেছেন যা আন্তঃ কলেজের প্রতিযোগিতার বিচারকগণ দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল।
একমাত্র বিচারক বিক্রমাদিত্য যিনি প্রক্সি হিসেবে এসেছিলেন, তিনি শবরীর অভিনয়ের প্রশংসা করেন। ঘটনাচক্রে তার সাথেই শবরীর বিয়ে হয়। বিয়ের পূর্বে এক সাক্ষাতের সময় বিক্রমাদিত্য শবরীর কাছে তিনি কী করেন সে সম্পর্কে জানতে চাইলে শবরী বলেন ‘আমি পুজো করি’। তার এই বক্তব্য মুভিটিতে পরে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছে।
কীভাবে পুরো গল্প জুড়ে শবরী তার লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন? কী করে তিনি সকলের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন? আদৌ পেরেছিলেন কী না? এই সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অবশ্যই একবার মুভিটি দেখবেন।
এই মুভিটি ‘শবরীমালা মন্দির’ কেসকেও নির্দেশ করে, যেখানে কেরালার শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল তাদের ঋতুস্রাবের জন্য। চলচ্চিত্রটি এই জাতীয় বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই প্রশ্নগুলোই ঘুরে ফিরে প্রতিটি মহিলার মনে আসে যার উত্তর কখনোই তারা পায়না।
অরিত্র মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ মুভিটির রূপকথার মতো সমাপ্তি হয়েছে, বাস্তবতা থেকে যার দূরত্ব বেশ অনেকটাই। চলচ্চিত্রটি জীবন ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নির্মিত।
আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন- এখানে
Sharna Sarker
Inter at Admin & HR
YSSE