সময় বদলেছে, প্রজন্ম পাল্টেছে, তবুও এই বাড়িতে এখনও সংরক্ষিত রয়েছে নেতাজির ব্যবহৃত ইজি চেয়ার ও ছোট্ট একটি কাঠের টেবিল। এই ইজি চেয়ার এবং কাঠের টেবিল যেন আজও তাঁর উপস্থিতির স্মৃতি জাগিয়ে রেখেছে। এই বাড়ির মালিক ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজসেবী ও প্রখ্যাত চিকিৎসক ডক্টর গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
শুধু আন্দোলনে অংশ নেওয়াই নয়, বাংলার নানা বিপ্লবী সংগঠন ও বিপ্লবীদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রেই তাঁর ঘনিষ্ঠতার পরিধিতে এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও। গুণেন্দ্রনাথবাবুর নাতি রঘুনাথ মুখার্জীর কথায়, “১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের ২৯, ৩০ এবং ৩১ এই তিনটে দিন নেতাজি কাটোয়াতে ছিলেন। এটা যে সময়কার ঘটনা তখন আমার জন্ম হয়নি। আমরাও শুনেছি , বইয়ে বিভিন্ন লেখা পড়েছি যে নেতাজিসেই সময় আমাদের বাড়িতেই আতিথিয়তা গ্রহণ করেছিলেন। আমার ঠাকুমা রান্নাবান্না করতেন এবং সেই খাবার তিনি গ্রহণ করেছিলেন বলে আমরা জানি।”
তৎকালীন গুণীবাবুর বাড়ির সামনের দোতলায় ছিল বৈঠকখানা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একত্রিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানে বহু গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনা গড়ে উঠত। সেই বৈঠকখানায় যেতে হলে একটি বাঁকানো লোহার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হতো। নেতাজিও ১৯৩১ সালের সেই সফরে এই একই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে বৈঠকে অংশ নেন।
আশ্চর্যের বিষয়, প্রায় এক শতাব্দী পেরিয়েও সেই সিঁড়িটি আজও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। শুধু আসবাবপত্রই নয়, এই বাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে নেতাজির লেখা ও স্বাক্ষরিত একটি চিঠি। এই চিঠি নেতাজির সঙ্গে গুণীবাবুর দীর্ঘ যোগাযোগের প্রমাণ বহন করে। পরিবারের সদস্যরা আজও সেই চিঠি অত্যন্ত যত্নে রক্ষা করে রেখেছেন। রঘুনাথ মুখার্জী আরও জানিয়েছেন, “সেই চিঠি এখনও স্বযত্নে রাখা আছে আমাদের পরিবারের কাছে। নেতাজি এসেছিলেন এটা সত্যিই একটা গর্বের বিষয়। আমরা সবাইকে এই কথা বলি আনন্দ হয়।”
কাটোয়ার বারোয়ারীতলার গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের এই বাড়ি শুধু ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক জীবন্ত দলিল। নেতাজির পদচিহ্ন, ব্যবহৃত সামগ্রী ও চিঠি সবকিছুই এই বাড়িকে এক অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদে পরিণত করেছে। ইতিহাসপ্রেমী এবং দেশপ্রেমিক মানুষের কাছে এই বাড়ি আজও তীর্থক্ষেত্রের মতো।
-বনোয়ারীলাল চৌধুরী
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
August 11, 2025 5:49 PM IST