রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন

আগাম ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে নজর ডেমোক্র্যাটদের

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৪ সময় দেখুন
আগাম ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে নজর ডেমোক্র্যাটদের


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট শুরু হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে মূল নির্বাচন। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এবারের নির্বাচন নিয়ে করা সব কয়টি জরিপে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

আগাম ভোটে ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলো এবারের নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আগাম ভোটের প্রবণতা, জনমত জরিপ এবং নির্বাচনি প্রচারণার গতিপ্রকৃতি ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ভোটের সংখ্যা বেশি হলেই কোন দল এগিয়ে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ফলাফল এবং নির্বাচনি এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। আগাম ভোটের প্রবণতা এবার জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বাড়াছে আগাম ভোট দানের প্রবণতা। যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য সুখবর।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পর্যন্ত দেশজুড়ে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি আগাম ও ডাকযোগে ভোট জমা পড়েছে। ২০২২ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০ লাখ। তবে আগাম ভোটের সুযোগ বৃদ্ধি এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণেও এ সংখ্যা বেড়েছে। ফলে শুধু ভোটের সংখ্যা দিয়ে কোনো দলের নির্বাচনি সাফল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল আকর্ষণ হলো কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ। বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত সীমিত। ফলে অল্প কয়েকটি আসনের ফলাফলই কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করে দিতে পারে।

অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ডেমোক্র্যাটদের জন্য তুলনামূলক কঠিন।

রয়টার্সের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসন বাড়াতে হবে। মিশিগান ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি আসনে জয় পাওয়াও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ডেমোক্র্যাটদের সামনে দুটি পৃথক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি করা এবং সিনেটে আসন বাড়িয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে আনা। দুটি ক্ষেত্রেই ফলাফল নির্ভর করবে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর।
এবারের নির্বাচনে অর্থনীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানির ব্যয় ভোটারদের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

জানা গেছে, প্রায় অর্ধেক ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়কে কংগ্রেস নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছেন।

মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ নিয়ে অসন্তোষ রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এসব বিষয়কে সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রভাব সব অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনি এলাকায় এক রকম হবে না। প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় সমস্যা এবং দলীয় প্রচারণাও ফলাফলে ভূমিকা রাখবে।

গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটের চিত্র

টেক্সাস, কানসাস, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এপির বিশ্লেষণে টেক্সাসে আগাম ভোটের সংখ্যা ৭৪ শতাংশ এবং কানসাসে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের কয়েকটিতে সিনেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন রয়েছে।

তবে সব অঙ্গরাজ্যে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। মিশিগান ও জর্জিয়ায় আগাম ভোটের সংখ্যা বেশি হলেও ২০২২ সালের তুলনায় তা কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।

আইওয়ায় আবার আগাম ভোটের সংখ্যা আগের মধ্যবর্তী নির্বাচনের একই সময়ের তুলনায় কম। অর্থাৎ ভোটারদের অংশগ্রহণের চিত্র অঙ্গরাজ্য ভেদে ভিন্ন।

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে আগাম ভোট

নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নিউ জার্সিতেও ২৪ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত আগাম ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। উভয় অঙ্গরাজ্যেই মূল নির্বাচনের তারিখ ৩ নভেম্বর। ডেমোক্র্যাটদের কি ক্ষমতা পুনরুদ্ধার সম্ভব?

আগাম ভোটের বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সীমিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সিনেটের আসনবিন্যাস, স্থানীয় নির্বাচনি সমীকরণ এবং ভোটারদের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকছে।

এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি না, কিংবা সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মতো অবস্থানে পৌঁছাবে কি না—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আগাম ভোটের সংখ্যা কোনো দলের নিশ্চিত বিজয়ের প্রমাণ নয়।

আগামী ৩ নভেম্বরের মূল ভোটে ভোটারদের উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ফলাফল এবং ভোট গণনার পরই স্পষ্ট হবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পরবর্তী রাজনৈতিক পথচলা এবং আগামী দিনের আইন প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জাতীয় জনমত জরিপগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা যাচ্ছে।

অক্টোবরের বিভিন্ন জরিপে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন রিপাবলিকানদের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ১২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি পাওয়া গেছে। CNBC, Economist/YouGov, Reuters/Ipsos, CNN/SSRS, New York Times/Siena, Echelon Insights, Rasmussen Reports ও Fox News-এর জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন। এই প্রবণতা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে দলটির সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়িয়েছে।

তবে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় ভোটে এগিয়ে থাকা মানেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হওয়া নয়। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটার উপস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকার ফলাফল এখানে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার ডেমোক্র্যাটদের জন্য তুলনামূলক কঠিন চ্যালেঞ্জ। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ এখনো অনিশ্চিত। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানির মূল্য নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে জরিপের ফলাফল নির্বাচনের আগের মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে এবং আগাম ভোটের সংখ্যা দিয়েও কোনো দলের বিজয় নিশ্চিত করা যায় না। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে আসনভিত্তিক ফলাফলের মাধ্যমে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর