রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন

আটত্রিশ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সুন্দরবন জেলা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৫৫ সময় দেখুন
আটত্রিশ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি  সুন্দরবন জেলা


মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::

প্রতিশ্রুতির ৩৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি আব্দুস ছাত্তারের ঘোষণার সুন্দরবন জেলা। একে একে পার হতে যাচ্ছে প্রতিশ্রুতির প্রায় ৩৯ বছর। আজও বাস্তবায়ন হয়নি প্রস্তাবিত সুন্দরবন জেলা। অবহেলিত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সুন্দরবন জেলা দাবী নিষ্ফল ক্রোন্দনে পরিণত হতে চলেছে। প্রত্যেক জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এ ব্যাপারে জনগণকে বারবার মিথ্যা আশ্বাস দিলেও পরে বেমালুম ভুলে যান। এবারও তার ব্যাতিক্রম হচ্ছে না। সর্বমহলের একটাই প্রশ্ন আদৌও কি সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ন হবে? না কি সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে ভোট ব্যাংক মজবুত করা কৌঁশল মাত্র। জেলা গঠনের সকল উপাদান ও অবকাঠামো থাকলেও প্রস্তাবিত সুন্দরবন জেলা ঘোষণার ৩৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।

ফলে প্রস্তাবিত জেলাকে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে পাইকগাছাসহ দক্ষিণ জনপদর আবারো স্বোচ্ছার হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে কথা বলে এমনটি জানাগেছে। খুলনা জেলার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত উপজেলা পাইকগাছা ও কয়রা। যা খুলনা থেকে দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার। ১৭টি ইউনিয়ন বেষ্টিত প্রায় ৮ লাখ জনগোষ্ঠির বসবাস। এক সময় দুটি থানা পাইকগাছা থানা হিসেবে পরিগণিত হতো। যার আয়তন ছিল ৮৫০ বর্গ মাইল। খুলনা সদর থেকে যশোর জেলার দূরত্ব ৫৬ কি.মি, বাগেরহাটের দূরত্ব ৩৩ কি.মি., সাতক্ষীরার দূরত্ব ৫৬ কি.মি.। অথচ খুলনা সদর থেকে পাইকগাছার দূরত্ব ৬৮ কি.মি. ও কয়রার দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার। যার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন অঞ্চল। এ দূর্গম অঞ্চল থেকে খুলনা সদরে যাবতীয় কর্মকান্ড কষ্টসাধ্য হওয়ায় ১৯৮২ সালের প্রথম দিকে মহাকুমার জন্য দাবি তোলা হয়। যার প্রেক্ষিতে ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জায়গীরমহলের এক জনসভায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি আব্দুস সাত্তার মহাকুমার ঘোষণা দেন। সে সময় মহাকুমারগুলো জেলায় পরিণত হওয়ায় সংগতি কারণে পাইকগাছা আজ জেলার হওয়ার দাবী রাখে বলে সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অ্যাড. জি এ সবুর জানান।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতির ঘোষণা বাস্তবায়ন না হওয়ায় অ্যাড. জি এ সবুরকে আহবায়ক ও মরহুম অ্যাড. স. ম. ইউসুফ আলীকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০০১ সালে সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। যার আহবায়ক জি এম মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক প্রশাস্ত কুমার মন্ডল। সুন্দরবন জেলা গঠনে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন, দাকোপের ২/১ টি ইউনিয়ন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে জেলা গঠনে ম্যাপ তৈরি করা হয় বলে পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু জানান। এছাড়া পাইকগাছা উপজেলায় ১টি পৌরসভা, ১টি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র, ৯টি কলেজ, ২টি সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। দু’উপজেলায় পৃথক সহকারী জজ আদালত ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত রয়েছে।

এ ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছেন অসংখ্য বৈজ্ঞানিক, মনীষী ও পীর পয়গম। যার মধ্যে জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু, পীর জাফর আউলিয়া, আলমশাহী, দানবীর মেহের মুছল্লী, সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হক, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার শেখ রাজ্জাক আলীর মত কৃতি সন্তানরা। রয়েছে গৌরবগাঁথা মুক্তিযুদের ঐতিহাসিক ঘটনা ও স্মৃতিচিহ্ন। এখানে আরও রয়েছে দেশের ১৮টি বৃহত্তম পাইকারী বাজারের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি। কয়রায় গভীর সমুদ্র বন্দরসহ পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ। নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে ১৫-২০ লক্ষ মানুষের বসবাস। যোগাযোগ ব্যবস্তার মধ্যে নৌপথ, সড়ক পথ অন্যতম। জেলা দাবি একটি বাস্তবসম্মত দাবি। যতদিন দাবি পূরণ না হবে আমরা আন্দোলন করবো। অচিরেই আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব।

জেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক জি এ সবুর বলেন, এ দাবি আমাদের ন্যায্য দাবি। এটি যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয় সে ব্যাপারে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। জেলার দাবীতে ৮০’র দশক থেকে সর্ব দক্ষিণে গঠিত হয় সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ন কমিটি ও সুন্দরবন জেলা বাস্তবায়ন ছাত্র সংগ্রাম কমিটি। সুন্দরবনজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। উন্নয়নের পথ প্রদশক ও আধুনিক দেশ গঠনে চলতি মেয়াদে
সুন্দরবন জেলা ঘোষণা করবেন এমনটি প্রত্যাশা সুধিজনের।

Print Friendly, PDF & Email



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর