বীর বাঙালীদের জয়যাত্রার পরিচয় আপনি খুঁজে পাবেন তাদের অদম্য চেতনায়, ইচ্ছাশক্তিতে, আর অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃঢ় সাহসিকতায়। আমরা বাংলাদেশি, প্রগতির চেতনায় সদা উদ্ভাসিত। প্রতিকূলতাকে জয় করাই যেন আমাদের রক্তের ভাষা। আমরা আজ দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বকে জয় করতে শিখেছি। শিখেছি কিভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যেতে হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশি গবেষক ড. অঞ্জন দত্তের নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পাওয়া আমাদের এই এগিয়ে যাওয়াকে আরও একবার প্রমাণিত করেছে। ড. অঞ্জন দত্তের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই অর্জন কিভাবে সম্ভব হলো? চলুন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি।
নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ড. অঞ্জন দত্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অধ্যাপক প্রফেসর ওয়াই পি আবরোল মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নেন। তিনি মূলত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ অন নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট’ (জিপিএনএম) সংগঠনটির অংশ হিসেবে, যেখানে তিনি বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন।
কে এই অঞ্জন দত্ত?
ড. অঞ্জন দত্ত হলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান গবেষক। গবেষণা কাজের জন্য তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার আর সম্মাননা। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর সময়ানুবর্তিতার কারণেই মূলত তিনি এসব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কর্মরত রয়েছেন জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাজ করে যাওয়া গ্লোবাল পার্টনারশিপ অন নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট (জিপিএনএম) সংগঠনটিতে।
যে কারণে তিনি এই আন্তর্জাতিক পুরষ্কারটি পেলেন
নাইট্রোজেন খুবই মূল্যবান এক পুষ্টি উপাদান। উপাদানটি মাটিতে কিংবা পানিতে বিভিন্ন অনুজীব, গাছ ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। আবার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নাইট্রোজেন চক্রের ভূমিকাও অপরিসীম। কিন্তু প্রকৃতিতে নাইট্রোজেনের অস্বাভাবিক উপস্থিতি যেমন পরিবেশকে দূষিত করে, ঠিক তেমন জীবের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। যে কারনে নাইট্রোজেনের ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে ড. অঞ্জন দত্তের নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনায় ফলপ্রসূ অবদানই তাকে পুরস্কারটি পেতে সাহায্য করেছে।
যে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি পুরস্কারটি দেয়া হয়
গত ৩ জুন কনফারেন্স অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল নাইট্রোজেন ইনিশিয়েটিভ (আইএনআই২০২১) শীর্ষক সম্মেলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আন্তর্জাতিক এই পুরস্কারটি যৌথভাবে বাংলাদেশের ড. অঞ্জন দত্ত এবং নেপালের মহেশ প্রধানকে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত দুইজনই গ্লোবাল পার্টনারশীপ অন নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্টে (জিপিএনএম) নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার জন্য পুরস্কারটি পান।
জিপিএনএম মূলত পুষ্টি উপাদান দূষণ সমস্যা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আর ড. অঞ্জন দত্ত এবং নেপালের মহেশ প্রধান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি হিসেবে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
অঞ্জন দত্তের অভিব্যক্তি
পুরস্কৃত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অঞ্জন দত্ত নাইট্রোজেন, ফসফরাসের মত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলোর মাধ্যমে মাটি ও পানি দূষিত হওয়ার ব্যপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সাথে উপাদানগুলোর মাধ্যমে জীববৈচিত্র ধ্বংশ, স্বাস্থ্যহানি, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। জিপিএনএম উক্ত বিষয়গুলোর সমাধানে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অঞ্জন দত্তের এই অর্জন আমাদেরকে যেভাবে অনুপ্রাণিত করবে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অঞ্জন দত্তের এই অর্জন আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়ারই বার্তা দেয়। আমরা তরুণরা আমাদের ইচ্ছাশক্তি আর সময়কে কাজে লাগিয়ে যেকোনো কাজকেই সম্ভবপর করে তুলতে পারি। এজন্য আমাদের অবশ্যই পরিশ্রমী আর ধৈর্যশীল হতে হবে।
নিজেকে এগিয়ে রাখতে আমাদের অন্য ব্লগগুলো পড়ুন।
Sm. Shahin Ahmed Nazim
Content Writing Department Intern
YSSE