শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে শিল্পাঞ্চল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পর অনেকটায় স্বাভাবিক কর্ণফুলীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫ অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী Ramayana Box Office Collection Day 1: Ranbir Kapoor, Yash’s Film Mints Rs 64.85 Crore On Opening Day | Bollywood News ‘Ordinary bowler’: Ex-India captain slams CSK’s ‘confusing’ trade, says SRH are the real winners | Cricket News শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে পলাতক আ.লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী মইজ্জ‍্যারটেকে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসার অভিযোগ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ সময় দেখুন
ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী


যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই জয়ী হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলো তারা। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান, গাজা ও ইউক্রেনের সংঘাতগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব।

এই নির্বাচনকে মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগুলোর ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় এসেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় নেতারা বুধবার (৪ নভেম্বর) নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণকারী ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন আইনপ্রণেতারা আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের (ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র) ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবেন। একইসঙ্গে, রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনের প্রতি ওয়াশিংটনের কমে আসা সমর্থনকে পুনরায় জোরদার করবেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি জ্বালানি সংকটের জন্য রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের শুরু থেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। যা ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের ক্ষেত্রে বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলকে নিবৃত্ত করার জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ না নিলেও, মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের একটি নতুন গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের ওপর চালানো নৃশংস হামলারও তারা তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

এদিকে, বৃহষ্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানকে পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি যদি এমন পদক্ষেপ নেন, তবে মানুষ তা ‘খুব দ্রুতই জানতে পারবে’। এমনকি তিনি ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের ভেটোর কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে চাইবে। তা না হলে আমি সবকিছুতেই ভেটো দেব। আর তারা নিশ্চয়ই সেটা চাইবে না।’ কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো বাতিল করা সম্ভব নয়।

তাহলে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে এবং ইরান, গাজা ও ইউক্রেনের সংঘাতের ভবিষ্যত কী? আল জাজিরার বিশ্লেষণে তা তুলে ধরা হয়েছে-

ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে এর অর্থ কী?

এই নির্বাচনে ভোটারদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ। বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে এটি একটি বড় কারণ ছিল। তবে তিনি এও বলেছেন যে, এই পদক্ষেপটি নেওয়া সার্থক ছিল।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনবেন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস করবেন।

তেহরানে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশ। রয়টার্স।

তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছেন। ডেমোক্র্যাটরা এর বিরোধিতা করার চেষ্টা করলেও খুব একটা সফল হননি, কারণ ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটাতে নির্বাহী আদেশের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন। তার প্রশাসনের প্রতি জনগণের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার জনপ্রিয়তা হ্রাসের মধ্য দিয়ে।

এদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন যে, আইনপ্রণেতাদের হাতেই রয়েছে অর্থ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাব। আমেরিকার জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট যদি যুদ্ধ শুরু করেন, তবে তাকে নিবৃত্ত করার উপায় হিসেবে ‘অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ’ (power of the purse) ক্ষমতাটি আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা আমাদের হাতেই ন্যস্ত করেছিলেন।’

তবে, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের হাতে অর্থের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, যুদ্ধের জন্য বরাদ্দ সীমিত করা খুব একটা সহজ কাজ নাও হতে পারে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ‘সেন্টার অন ইউএস পলিটিক্স’-এর রিসার্চ ফেলো জেমস বয়েস বুধবার আল জাজিরাকে বলেন, ‘যেহেতু মার্কিন সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছে, তাই এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে এবং এতে আমেরিকানদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করা হবে।’

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবের মাধ্যমে ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। ১৯৭৩ সালের এই ফেডারেল আইনটি প্রয়োগের আগের প্রচেষ্টাগুলো হয় ব্যর্থ হয়েছে, নতুবা অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিক আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেই সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট চাইলে এই সিদ্ধান্তের ওপর ভেটো দিতে পারেন; আর সেই ভেটো বাতিল করতে হলে প্রতিনিধি সভা ও সিনেট-উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে, যা ডেমোক্র্যাটদের নেই।

সুতরাং, নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায়, ইরান এখন হয়তো যুদ্ধ অবসানের জন্য তাদের শর্তগুলো মেনে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

রিপাবলিকানদের পরাজয় কি গাজার ভাগ্য বদলাবে?

ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘকাল ধরেই ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর, যখন সেখানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হচ্ছিল, তখনও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছিল।

৩ বছরের আগ্রাসন গাজা নগরীকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। গেটি ইমেজেস।

তবে মঙ্গলবার নির্বাচিত হওয়া বেশ কয়েকজন তথাকথিত ‘প্রগতিশীল’ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন। তারা গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যা, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী ও অবিচল আর্থিক ও সামরিক সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

এদের মধ্যে আব্দুল এল-সাইদ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা বন্ধের পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র যেন ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধ করে দেয়।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আগেই একমত হয়েছি যে, এই বছরের শেষ নাগাদ আমরা ইসরায়েলকে আর কোনো অর্থ দেব না। যদি ইসরায়েলের প্রয়োজন হয়, তবে আমরা তাদের সাহায্য করব।’

নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও ইউক্রেনকে সমর্থন করবে?

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তিনি তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উলটো তিনি ইউক্রেন এবং এর ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ভলোদিমির জেলেনস্কি হোয়াইট হাউস সফরে গেলে, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলেন।

এছাড়া, ট্রাম্প রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার নিজের দল, রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি কিয়েভে রাশিয়ার হামলার সময় ইউক্রেন অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে আসা ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য গোপন করেছে এবং ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করে দিয়েছে।

এই সবকিছুই বাইডেন প্রশাসনের আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। বাইডেন প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ওয়াশিংটন ইউক্রেনের পাশ থেকে ‘কখনোই সরে আসবে না’।

এখন ইউক্রেন আশা করছে, জানুয়ারি মাসে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ইউক্রেন ইস্যুটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসবে।

 





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর