বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন

‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪৫ সময় দেখুন
‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

‎
পরিতোষ কুমার বৈদ্য
‎শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
‎
‎জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা ক্রমাগত বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘লবণাক্ততা নিরসন এবং উপকূলীয় কৃষি অভিযোজন’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎
‎বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এর আয়োজনে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এ প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ শ্রীফলকাটি এগ্রোইকোলজি লার্ণিং সেন্টার এর তত্ত্বাবধায়ক গোবিন্দ মণ্ডল। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট-তেরকাটি গ্রামের প্রবীণ কৃষক সাধন কুমার বিশ্বাস।
‎
‎প্রশিক্ষণে উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং অপরিকল্পিত চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের কারণে কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক আবাদি জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ সংকট মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণ, উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
‎
‎প্রশিক্ষণে কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ধানের জাত, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ, বেড পদ্ধতি, প্রাকৃতিক মালচিং, জলপট্টি, স্যালাইন পদ্ধতি ও টাওয়ার পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক বীজ ব্যাংক গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ এবং কৃষকদের মধ্যে বীজ বিনিময়ের প্রচলন জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
‎
‎পরিকল্পনা সভার মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা, স্থানীয় জ্ঞান ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
‎
‎কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য হীরা পারভীন, পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী, বারসিকের মনিকা পাইকসহ স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা।
‎
‎কর্মশালার শেষ পর্যায়ে উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর