শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Youth-led Innovation Lab-এ ইপসার সাফল্য, জাতীয় পর্যায়ে যাচ্ছে TeaCycle ও Econova দৈনিক পূর্বকোণের সাংবাদিক পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার কালিয়াকৈরে ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের উপরে ময়লার ভাগার সাধারণ পথচারীর চরম জনদুর্ভোগ Ankur Rathee Calls Indian Cinema’s Fair-Skin Bias ‘Dangerous’: ‘West Idolises Lupita Nyong’O’ | Exclusive | Bollywood News ‘I was very happy’: Smriti Mandhana reveals MS Dhoni’s special WhatsApp message after World Cup win | Cricket News পিরোজপুরে মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা: লাল সংকেত ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে তদন্ত Josh Inglis, Alex Carey put Australia in control of third Test against South Africa | Cricket News Siddharth Pens Sweet Birthday Note For ‘Jaan’ Aditi Rao Hydari: ‘Thank You For Taking The Time To Be Born’ | Bollywood News

সারাদেশে গণঅনশন ও গণঅবস্থানের ডাক ঐক্য পরিষদের

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩১৬ সময় দেখুন
সারাদেশে গণঅনশন ও গণঅবস্থানের ডাক ঐক্য পরিষদের


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত প্রতিরোধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ২৩ অক্টোবর ভোর ছয়টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে গণঅনশন ও গণঅবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঢাকায় শাহবাগ চত্বরে এবং চট্টগ্রামে আন্দরকিল্লায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি হামলার জন্য একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মা এবং সরকারি দলের অভ্যন্তরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে দায়ী করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রানা দাশগুপ্ত বলেন, করোনা অতিমারি পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসায় এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিল। আমরা ভেবেছিলাম, এবারের দুর্গাপূজা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সম্মিলনের উৎসবে পরিণত হবে। কিন্তু সব আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে মহাষ্টমীর দিনে ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়ার দিঘীর উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের অস্থায়ী পূজামণ্ডপ ও চানমনি কালীবাড়ির বিগ্রহ ও ফটক অগ্নিসংযোগ করে ভস্মীভূত করা এবং ১৭টি তোরণ ভেঙে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। ধর্ম অবমাননার মিথ্যা জিগির তুলে সেই-যে পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলা শুরু হল, তা একনাগাড়ে চলে ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন পর্যন্ত।

লিখিত বক্তব্যে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, গাজীপুর, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ভোলা, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে শতাধিক পূজামণ্ডপ, বাড়িঘর, হিন্দুদের মালিকানাধীন দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের তথ্য তুলে ধরা হয়। নোয়াখালীর চৌমুহনীতে দুইজন এবং চাঁদপুরে একজন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত এবং শ’খানেক লোক আহত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ও নাপোড়া গ্রামে হামলায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় মোহাম্মদ সাবের আহমেদ, মোহাম্মদ রিদোয়ান, মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম। তবে বাঁশখালীতে হামলা প্রতিরোধে স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মহানবমীর দিন ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা জেলেপাড়া পূজামণ্ডপে স্থানীয় ‘জয় বাংলা ক্লাব’ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় ইলিয়াস মেম্বার, জয়নাল ও মনির। জয়নাল ও মনির আপন ভাই, তারা সম্প্রতি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘এই হামলায় জড়িত তারা, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে সহযোগিতা করেছিল, একাত্তরের পরাজিত শক্তির সেই প্রেতাত্মারা। একইসঙ্গে সরকারি দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী মুজিব কোট গায়ে দিয়ে এই হামলায় অংশ নিয়েছে।’

২০১১ সাল থেকে পরিকল্পিতভাবে পর্যায়ক্রমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে আজ আর উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি, এর সবটাই পরিকল্পিত। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে, একদিকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পরিসরে বিনষ্ট করা, অন্যদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় অগ্রসরমান উন্নতিকে ব্যাহত করা। তদুপরি বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশ থেকে বিতাড়ন করে গোটা দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করা।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার বাস্তবায়ন চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সংখ্যালঘু হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় হচ্ছে, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। এরপর হচ্ছে আমরা কে কোন ধর্ম পালন করি। দুঃখজনক হচ্ছে গত ১০ বছরে রামু থেকে নাসিরনগর, সুনামগঞ্জ- একটি ঘটনারও বিচার পেলাম না। কারও শাস্তি হল না। এতে সরকারের ভেতরে-বাইরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী উৎসাহিত হচ্ছে।’

আগামী ফেব্রুয়ারি সারাদেশ থেকে রোডমার্চ করে ঢাকায় গিয়ে সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে দাবিনামা পেশের সিদ্ধান্ত হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আছে বলে জানিয়েছেন রানা দাশগুপ্ত।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতাদের মধ্যে অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে, জীনবোধি ভিক্ষু, তাপস হোড়, শ্যামল পালিত, নিতাইপ্রসাদ ঘোষ, মিটুল দাশগুপ্ত, রুবেল পাল উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে আধাবেলা হরতাল পালন

এদিকে পূজামণ্ডপে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে আধাবেলা হরতাল পালন করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। হরতাল চলাকালে শনিবার সকাল থেকে নগরীর কিছু এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। দোকানপাটও তেমন খোলেনি।

সারাদেশে গণঅনশন ও গণঅবস্থানের ডাক ঐক্য পরিষদের

হরতাল চলাকালে নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে সমাবেশ করে ঐক্য পরিষদ। এতে বক্তব্যে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালে, কুমিল্লায় হামলার পর যে ভাষণটি দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন, আমরা আশা করেছিলাম, তারপর থেকে আমরা অনেক বেশি শান্তি পাব। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একইসুরে একই ভাষায় কথা বলেছিলেন, স্বস্ত্বি অনুভব করেছিলাম। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে গতকাল বিজয়া দশমীর দিনে নোয়াখালীতে মন্দিরে, পূজামণ্ডপে আক্রমণ চালানো হয়েছে। একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চট্টগ্রামেও হামলা হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রধান পূজামণ্ডপ জে এম সেন হলে আক্রমণ চালানোর ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা।

‘প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিকে যারা বিন্দুমাত্র সম্মান দেখানোর প্রয়োজন মনে করেনি, তাদের প্রতি ক্ষোভ থেকেই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, প্রতি নিরঞ্জন স্থগিত থাকবে। ছয় ঘণ্টা হরতালের ঘোষণা দিয়েছিলাম। এই হরতালের উদ্দেশ্য সরকারের বিরোধিতা করা নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতি আমাদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর নানা চাপ এসেছিল। পুলিশ কমিশনার আমাকে অনুরোধ করেছেন যে, প্রতিমা নিরঞ্জন করা হোক। আমি বলেছি, হবে না। আমি তাকে বলেছি, আপনাদের কথায় আস্থা রাখার কোনো বাস্তবতা নেই। আপনারা অনেক কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে আমাদের সাথে প্রতারণা করেন। আপনারা কথা ও কাজে এক- সেটা প্রমাণ করুন। সরকারের উর্দ্ধতন পর্যায় থেকে যোগাযোগ করেছে, তাদেরকেও একই কথা বলেছি। পূজার্থীদের বিভ্রান্ত করে কিছু প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে। বিভ্রান্তি যারা ছড়িয়েছে, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন।’

এর আগে শুক্রবার বিজয়া দশমীর দিনে চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লায় একটি মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে একদল মুসল্লি বের হয়ে জে এম সেন হলে পূজামণ্ডপে হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে আন্দরকিল্লায় তাৎক্ষণিক অবস্থান কর্মসূচি থেকে রানা দাশগুপ্ত হরতাল ঘোষণা করেছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/এএম





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর