মু. সাইফুল ইসলাম
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
শ্বশুরবাড়িতে রাতের শেষ ফোন—‘মা, তোমার সঙ্গে হয়তো আর কথা হবে না।’ এরপর সকালেই উদ্ধার হলো ২৭ বছর বয়সী মো. জুয়েলের ঝুলন্ত মরদেহ। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোররাতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু তাহেরের বাড়ি থেকে জুয়েলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে। জুয়েলের সাত বছরের একটি মেয়ে ও চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে কমলনগরের আবু তাহেরের মেয়ে সুরমা বেগমের সঙ্গে জুয়েলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করলেও প্রায় দুই বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে জুয়েল শ্বশুরবাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেন। পরে ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি।
নিহতের পরিবারের দাবি, জুয়েলের সারাদিনের আয়ের টাকা তার স্ত্রী নিয়ে নিতেন এবং টাকা নিয়ে প্রায়ই চাপ ও নির্যাতন করা হতো। ঘটনার আগের রাতে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঝামেলার কথা জানিয়ে জুয়েল তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
স্থানীয় দোকানদার মো. বেলাল জানান, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোবাইলে রিচার্জ করতে তার দোকানে এসেছিলেন জুয়েল। তখন তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। জুয়েল তার কাছে স্ত্রীকে ঘিরে ঝামেলার কথা বলেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জুয়েলের মা জোসনা বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলে বলেছিল, ‘মা, বউ ও তার পরিবার আমার ওপর নির্যাতন করছে, তোমার সঙ্গে হয়তো আর কথা হবে না।’ সকালে ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই ছেলের মৃত্যুর খবর পান।
তবে নিহতের স্ত্রী সুরমা বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, রাতে বাড়িতে ফিরে জুয়েল মেয়েকে মারধর করেন এবং তাকেও মারার জন্য খুঁজতে থাকেন। ভয়ে তিনি সন্তানদের নিয়ে পাশের ঘরে বাবার কাছে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে জুয়েলকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, জুয়েল নিয়মিত নেশা করতেন।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের সময় জুয়েলের কোমর মাটির সঙ্গে স্পর্শ করে ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছে। তবে শুধু এ অবস্থান দেখে মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন; ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।