পোষা প্রাণীরা একাকীত্ব নিরাময়ের জন্য বিশ্বজুড়েই পরিচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এই পোষা প্রাণীরা হয় জীবন্ত, প্রাণবন্ত ভালবাসা এবং স্নেহ করতে সক্ষম কোন জীব- কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোন প্রাণী।
কিন্তু যদি আপনাকে একদিন কোনও রোবোটিক কুকুরের সাথে উপস্থাপন করা হয় তা এই ভালবাসা এবং স্নেহ অনুভব করতে সক্ষম?
তাকে কি পোষা প্রাণী হিসাবে গ্রহণ করতে পারবেন? বা প্লাস্টিকের দেহযুক্ত রোবোটিক কুকুরটি কি আপনার একাকিত্ব আসলেই কমিয়ে আনতে পারবে?
রাহাতুল আমিন অনন্ত হলেন কানাডায় বসবাসরত একজন বাংলাদেশী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, যিনি ঠিক এই প্রশ্নের সূত্র ধরেই রোবোটিক পোষা প্রাণী মানুষের মনে কিরকম প্রভাব ফেলতে পারে তার উপর গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু এআইবিও (AIBO) সোনি (Sony) কম্পানি দ্বারা নির্মিত একটি রোবোটিক কুকুরের সিরিজ।
কেউ কেউ হয়তো পোষা প্রাণী রোবোটকে ভালবাসতে পারেন বা মেনে নিতে পারেন তবে কেউ কেউ রোবটের এই আবেগ ‘অনুভব’ করার যে সক্ষমতা, তি নিয়ে অস্বস্তিও বোধ করতে পারেন।
এই রোবোটিক কুকুরগুলি বাড়ির চারপাশে হাঁটতে এবং দৌড়াতে, ইংরাজী এবং জাপানিজ ভাষা বুঝতে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম, পাশাপাশি বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কমান্ড এবং তারা যে বাড়িতে বাস করে তার পুরো ম্যাপিং করতে সক্ষম।
যেহেতু ক্রমবর্ধমান মনস্তাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতার যুগে মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং বিচ্ছিন্নতা বা বিসর্জনের তীব্রতা অনুভব করছে- যেখানে একসাথে থাকাও কষ্টসাধ্য বলে মনে হয়, এআইবিওর মতো রোবোটিক কুকুর একটি বিশ্বাসযোগ্য সঙ্গী হতে পারে যখন মানুষের সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্ডারওয়াটার রোবোটিকস এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি মেজর সহ কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করেন অনন্ত।
তিনি কানাডায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিকল্পগুলি খোঁজ করতে শুরু করেছিলেন, যা তাকে ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে একটি শিক্ষাগত সুযোগের সন্ধান দেয় যেখানে তিনি বর্তমানে মানব-রোবোট ইন্টারেকশন নিয়ে গবেষণা করছেন।
তাঁর গবেষণাটি মূলত একা বসবাসকারী ব্যক্তিদের বা যারা একাকী তাদের উপর কেন্দ্র করে। অনেকটা জীবন্ত কুকুরের মতোই, এআইবিওকে (AIBO) তার অত্যন্ত উন্নত এআই (AI) সিস্টেমের মাধ্যমে মানব ভাষা বোঝার জন্য ‘প্রশিক্ষিত’ করা যেতে পারে।
হাই ফাইভের মতো সাধারণ কৌশলগুলি সহজেই এআইবিওতে শেখানো যেতে পারে। এটি কিছুক্ষণের জন্য তার মানব সঙ্গীকে না দেখলে চিৎকার করে।
এর শরীর এবং মাথার উপরের অংশে সেন্সর রয়েছে বলে এআইবিও পেটিংও (Petting) বুঝতে পারে। সর্বোপরি তারা শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতা, এলার্জির জন্য কোন জীবিত প্রাণী পুষতে অক্ষম, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ!
যদি আমরা কেবল কোনও পোষা প্রাণীর- হোক তা রোবট কিংবা জীবিত, স্নেহময় প্রকৃতি বিবেচনা করি তবে এটি কি রোবোটিক এবং জীবিত কুকুরের মধ্যে পার্থক্যগুলো ঝাপসা করার পক্ষে যথেষ্ট হবে?
অথবা ‘জীবিত / শ্বাস প্রশ্বাসের’ দিকটি কি এই জাতীয় রোবটিক পোষা প্রাণীর ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে ছাড়িয়ে যাবে?
উত্তর যাই হোক না কেন, এটি অনস্বীকার্য যে সময়ের সাথে সাথে মানুষ একাকী হয়ে উঠছে এবং যদি আরাধ্য প্রযুক্তির আকারে এর বিপরীতে সহায়তা আসে তবে তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার দাবিদার।
নাদিয়া নওশের
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE