শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে শিল্পাঞ্চল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পর অনেকটায় স্বাভাবিক কর্ণফুলীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫ অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী Ramayana Box Office Collection Day 1: Ranbir Kapoor, Yash’s Film Mints Rs 64.85 Crore On Opening Day | Bollywood News ‘Ordinary bowler’: Ex-India captain slams CSK’s ‘confusing’ trade, says SRH are the real winners | Cricket News শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে পলাতক আ.লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী মইজ্জ‍্যারটেকে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসার অভিযোগ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

বৈশাখের প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকুক শিশু

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১৩৭ সময় দেখুন
বৈশাখের প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকুক শিশু


লাইফস্টাইল ডেস্ক

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রতি বছরই উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন এই দিনে। তবে বৈশাখ যেমন উৎসবের মাস, তেমনি গরমেরও। বৈশাখের এই তীব্র দাবদাহে দেখা দিতে পারে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ। জ্বর, ডায়রিয়া, বমি, পানিশূন্যতাসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন অনেকেই। তবে এতে শিশুরাই বেশি কষ্ট পায়। তাই এই গরমে শিশুদের জন্য দরকার বাড়তি যত্নের। শিশুদের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সংগীতা হালদার।

শিশুর খাবার

ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট। ছয় মাসের পর থেকে শিশুকে ঘরে রান্না করা পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। সেক্ষেত্রে পেঁপে, লাউ, পটল, শাক ও ডাল দিয়ে রান্না করা সবজি ভাতের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন খাওয়াতে হবে। মাছ, মাংস ও ডিম- যে কোনো একটি খাদ্য উপাদান শিশুকে এক বেলা খাওয়াতে হবে। এই সময়ে প্রচুর ফল পাওয়া যায়। শিশুকে প্রতিদিন ফল খাওয়াতে হবে। এছাড়া শিশুর দেহে জলীয় অংশের পরিমাণ ঠিক রাখতে নিয়মিত দুধ ও ডাবের পানি খাওয়াবেন। খেয়াল রাখবেন, শিশুর প্রস্রাবের রঙ যেন গাঢ় না হয় ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে না ভোগে।

শিশুর পোশাক

বেশিরভাগ সময় গরমে ঘেমে গিয়েই শিশুদের ঠান্ডা লাগে। তাই আপনার শিশুর পোশাকের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। শিশুকে সুতির নরম ও পাতলা পোশাক পরাতে হবে। পোশাকের হাতা ছোট হলে শিশুর জন্য আরামদায়ক হবে। বিভিন্ন দোকানে শিশুদের জন্য ঘরে পরা নিমা কিনতে পাওয়া যায়। অথবা সুতি কাপড় কিনেও নিমা বানিয়ে নিতে পারেন।

শিশু যখন খেলবে তখন শিশুর গায়ে মাঝে মাঝে হাত দিয়ে দেখতে হবে ঘেমে গেছে কিনা। মা যদি কর্মজীবী হন, তবে বাসার সদস্যদের খেয়াল করতে হবে বাচ্চা যেন ঘেমে না যায়। ঘেমে গেলে একটি পাতলা রুমাল ডেটলযুক্ত পানিতে ভিজিয়ে চেপে নিয়ে ভালো করে বাচ্চার শরীর মুছে দিতে হবে। আর ঘামে ভেজা পোশাক বদলে দিতে হবে। শিশুকে একটি ডায়াপার ৪ ঘন্টার বেশি পরিয়ে রাখা যাবে না। এতে র‍্যাশ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর র‍্যাশ যদি হয়েই যায় তবে ন্যাপি র‍্যাশ ক্রিম ব্যবহার করতে হবে ও চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়াতে হবে। তবে ডায়াপার কম পরানোই ভালো। আর শিশুকে রাতে কাপড়ের ডিজপোজ্যাবল ন্যাপি পরানো যেতে পারে।

ত্বক ও চুল

এই সময়ে শিশুদের ত্বকে র‌্যাশ ওঠে ও অনেক সময় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন শিশুকে গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে সামান্য ডেটল দিতে হবে। গোসলের সময় শিশুর ঘাড়, কুচকি ও বগলের মতো ভাঁজযুক্ত জায়গাগুলো পরিষ্কার করে দিতে হবে। একদিন পরপর বডিওয়াশ দিয়ে গোসল করাতে হবে যেন ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বা ময়লা হতে না পারে।

যদি শিশুর কসমেটিকস এলার্জি থাকে তাহলে গোসলের পর ভেজা ত্বকে অল্প গ্লিসারিন দেওয়া যেতে পারে। আর কসমেটিকে এলার্জি না থাকলে শরীর শুকিয়ে গেলে পিঠে বা পায়ের ভাঁজে অল্প পরিমাণে বেবি পাউডার লাগাতে পারেন। তবে কসমেটিকস কোম্পানিগুলো অধিকাংশ পণ্যেই ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করে। তাই আপনার শিশুর ত্বকে যে কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এই গরমে শিশুর চুলের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। গরমে বেশিরভাগ শিশুরই চুলের গোড়া ঘেমে যায়। ফলে খুশকি ও ঘামাচি হয়। একটু বড় শিশুদের গোসলের সময় শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে ঝুঁটি করে দিলেই বাকি দিনটা ঘাম কম হবে। আর এক বছরের কম বয়সী শিশুদের গরমের শুরুতেই ন্যাড়া করে দেওয়া যেতে পারে। তবে এই গরমে সব বয়সী শিশুদেরই চুল ছোট করে কেটে দিলেই ভালো। এতে শিশু আরাম পাবে।

শিশুর ঘর

শিশু যে ঘরে ঘুমায় ও বেশি সময় থাকে, সেই ঘরে যেন প্রচুর আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। শিশু যখন ওই ঘরে থাকে না, তখন কয়েল বা ধুপ দিয়ে মশা তাড়াতে হবে। ঘুমের সময়ে শিশুর হাত-পা অর্থাৎ খোলা অংশে মসকিউটো রেপেলেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। দিনের বেলাতেও মশারি টাঙ্গানো ভালো। কেননা ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহিত মশা দিনেই কামড়ায়।

ঘুমের সময় এসি ব্যবহার করলে ঘরের এক কোণে একটি বাটি বা গ্লাসে পানি রাখতে হবে। এতে ত্বকের ময়েশ্চার শুকিয়ে যাবে না। খেলাধুলার জন্য বিকেলবেলা শিশুকে মাঠে কিংবা বাসার ছাদে নিয়ে যেতে পারেন। এতে শিশুর ত্বক ও চুল প্রাকৃতিকভাবেই ভিটামিন ডি পেতে পারে। এখন অনেক শিশু ছাদে বা বাইরে যেতে ভালোবাসে না। ঘরে বসে টিভি, ভিডিও গেমস কিংবা আইপ্যাডে থাকতেই পছন্দ করে। আপনার শিশু যেনো বাইরে থাকার সময়টুকু উপভোগ করতে পারে সেই চেষ্টা করতে হবে। শিশু বাইরে খেলাধুলা করলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ভালো হবে।

এই গরমে শিশুর যে কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। শুভকামনা রইল এই বৈশাখের।

সারাবাংলা/এসবিডিই





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর