বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দাঁড়াতে দেবো না: নওফেল

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৫১ সময় দেখুন
সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দাঁড়াতে দেবো না: নওফেল


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সোমবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর যাত্রামোহন সেন হলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপমন্ত্রী একথা জানান। কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘সব ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে- মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করা। এই বাংলাদেশ রচিত হয়েছিল মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সবার রক্তের বিনিময়ে। সব ধর্মের সবাই মিলেমিশে এদেশে আমাদের বসবাস। এদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তি কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।’

জাতিগত হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ ও মঙ্গলময় দেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান উপমন্ত্রী নওফেল।

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। প্রত্যেকের স্ব-স্ব ধর্ম পালনের সমান অধিকার আছে। কিন্তু সেটা নস্যাৎ করতে একটি দুষ্টচক্র উঠে-পড়ে লেগেছে। ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’

জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুকুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি আশীষ কুমার ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার সেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক বিপ্লব গাঙ্গুলী, তপন কান্তি দাশ, অর্পণ ব্যানার্জী, চসিক কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, পুলক খাস্তগীর, নিলু নাগ, রুমকি সেনগুপ্ত, তসলিমা বেগম নুরজাহান ও হুরে আরা বেগম বিউটি প্রমুখ।

এর আগে, সকালে একইস্থানে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে প্রথম দফা আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, পরিষদের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দন তালুকদার ও বিমল কান্তি দে, পটিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তিমির বরণ চৌধুরী, প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘ধর্মকে আমরা ধারণ করব আমাদের আত্মবুদ্ধি ও আত্মবিকাশের জন্য, কিন্তু কখনো ধর্মান্ধতাকে নয়। ধর্মান্ধতা মানুষকে অজ্ঞতা ও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। ধর্ম হচ্ছে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য। অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।’

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘হাজার বছর ধরে সর্বধর্মীয় ঐক্যের শক্তিতে বীর বাঙালি নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার পারস্পরিক সহাবস্থান এই ভূখণ্ডের চিরকালীন ঐতিহ্য। সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার বেদিমূলে দাঁড়িয়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। যুগে যুগে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নানা অপকর্ম চালিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ-বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এখনও সেই অপশক্তি নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সম্মিলিত শক্তি নিয়ে, ঐক্যের ভিত্তিতে এই অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।’

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর