শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে, উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩
  • ১১৮ সময় দেখুন
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে, উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ


ইউনাইটেড নিউজ২৪ ডেস্ক :: চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ৬ দিনে চট্টগ্রামে ২৩১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন অফিসের ডেঙ্গু সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ইনচার্জ মিসেস ইনতেজার ফেরদৌস জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৪ জন ভর্তি হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ২৬ জন। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭২১। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে উদ্বেগের কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী এবং  রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালককে (সংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে পত্র দিয়েছেন।

মেয়র রেজাউল করিমকে দেয়া পত্রে সিভিল সার্জন বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগী দ্রুত বাড়ছে, যা গত বছরের তুলনায় আশঙ্কাজনক। এ মাসের প্রথম ৫ দিনে চট্টগ্রামে ১৯৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মশক নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর-এ পাঠানো পত্রে সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রণের অনুরোধ জানানো হয়।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করে তুলেছি। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। এডিস মশা নিধন কার্যক্রম জোরালোভাবে কার্যকর করা না গেলে আগামীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে পারে। তাই মশক নিধন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে চট্টগ্রামের মেয়র মহোদয়কে চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ জানিয়েছি।’

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গত ২২ জুন মাসব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ উদ্বোধন করে। গত তিনদিনে এ কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে। মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী গতকাল নগরীর ডেঙ্গুপ্রবণ বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ডেঙ্গু মশার প্রজনন রোধে কর্পোরেশনের চেষ্টার পাশাপাশি তিনি জনগণকেও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান।

এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নগরীতে মশার প্রজননস্থল হিসেবে ৪৩৩টি হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডে রয়েছে সর্বোচ্চ ৫২টি। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত এলাকা হিসেবে আরো ৫৭টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়। মশার প্রজনন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর হিসাব মতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৪৯০টি হটস্পট রয়েছে। এসব এলাকাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে কীটনাশক ছিটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কর্পোরেশন।

এদিকে, ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি মশার প্রজনন ক্ষেত্র থাকা ভবনগুলোতে অভিযান জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

গতকাল বৃহস্পতিবার খুলশী থানাধীন উত্তর খুলশী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মহাজন। এ সময় এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় আটটি ভবনের মালিককে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। অভিযান চলাকালে মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন মেয়রের একান্ত সচিব ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম।

Print Friendly, PDF & Email



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর