শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

চিকা মারা নিয়ে চবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩০

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১১৬ সময় দেখুন
চিকা মারা নিয়ে চবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩০


চবি করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চিকা মারাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৩০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়াও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কমপক্ষে ২৫টির বেশি কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্যার এ এফ রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ যৌথভাবে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের হলে ফিরিয়ে দেন। আহতদের নাম তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।

বিবাদমান দু’টি গ্রুপ ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিজয় গ্রুপ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের দেওয়ালে বিজয় গ্রুপের চিকা দেওয়া হয়। ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীরা চিকা মারতে গেলে বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা এ এফ রহমান হলের ক্যাফেটেরিয়া সামনে ও ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীরা এ এফ রহমান হলে অবস্থান নেয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসময় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দাওয়া পাল্টা ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আবাসিক হলের রুম ভাঙচুর করে। দেশীয় অস্ত্র রামদা, লোহার রড নিয়ে মহড়া দিতেও দেখা যায়। পরে রাত দেড়টার দিকে বিজয় গ্রুপ নেতাকর্মীরা এ এফ রহমান হলে ঢুকে যায়। এসময়ও বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুরের শব্দ শোনা যায়।

চিকা মারা নিয়ে চবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যারা একটু গুরুতর আঘাত পেয়েছে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চবি শাখা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা নয়ন চন্দ্র মোদক বলেন, ‘আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাংগঠনিকভাবে স্বাগতম জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেসময় তারা আমাদের অতর্কিত হামলা চালায়। পরে আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ব্যারিস্টার নওফেলের নির্দেশে আমরা সমাধানে এসেছি।’

চবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভিএক্স গ্রুপের নেতা মো মারুফ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৪ তারিখ চট্টগ্রামে আসবেন। সেই উপলক্ষে নেত্রীকে স্বাগতম জানাতে জুনিয়রদের নিয়ে টিভি রুমে প্রস্তুতি বিষয়ে কথা বলছি। এছাড়াও হলে চিকা নিয়ে একটা ঝামেলা চলছে। আমাদের চিকাগুলো তারা (বিজয় গ্রুপ) মুছে ফেলছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো কারও দলের চিকা মুছে ফেলা হয়নি। এভাবে আমাদের কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তারপরও আমরা ঘটনাকে সহজভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছি। এই ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন আহত হয়েছে শুনেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সারাবাংলা/সিসি/এমও





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর