ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শ দফতরের যৌথ আয়োজন ‘ওয়েলনেস ফেস্টিভ্যাল’-এ তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, আমরা চেষ্টা করব, সবার সহযোগিতায় প্রথম বর্ষের শিক্ষাথীদের বৃত্তির আওতায় নিয়ে আসার। যেন প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীরা ঝরে না পড়ে। পরে সক্ষমতা থাকলে দ্বিতীয় বর্ষকেও বৃত্তির আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে হল, বিভাগ, কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতা নেওয়া হবে। সব শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা আহছানিয়া মিশন সাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রাখী গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উপাচার্য জানান, আগামী জুলাই থেকে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের তিনদিনব্যাপী মানসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া বিভাগগুলোর প্রত্যেক বর্ষের সিআর, শিক্ষার্থী উপদেষ্টাদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কেউ কেউ আছে আত্মহত্যার পথে হয়ত যায় না। কিন্তু তাদের পরীক্ষার ফল খারাপ হয়, বছর গ্যাপ হয়, বারবার মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেয়। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য যদি ভালো থাকে, তাহলে তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা থেকে সহজে উত্তরণ করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেয়। তা থেকে আমরা মাত্র ছয় হাজারের মতো ভর্তি করি। অর্থাৎ প্রতি ৫০ বা ৫১ জনের মধ্যে একজন ভর্তির সুযোগ পায়। কী ধরনের প্রক্রিয়ায় এখানে শিক্ষার্থীরা আসে, তা সহজেই অনুমেয়। এই শিক্ষার্থীরা যদি পরিপূর্ণ বিকশিত হতে না পারে, তাহলে এর দায় বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্র, প্রাক্তনসহ আমরা-আপনারা কেউ এড়াতে পারব না।
এদিন ওয়েলনেস ফেস্টিভ্যালকে কেন্দ্র করে নানান আঙ্গিকে সাজানো হয় টিএসসি প্রাঙ্গণ। টিএসসির অভ্যন্তরে মনের কথা লেখার জন্য হোয়াইট বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কেউ লিখেছেন—’আমি স্বর্গ হারিয়েছে, তবে নরকও অতটা খারাপ নয়’ কেউ লিখেছেন—ঘুরোঘুরি, কেনাকাটা, পরিবারসহ সবকিছুর পেছনে টাকার প্রয়োজন’, মিজানুর নামে একজন মায়ের কথা মনে করে লিখেছেন—মাকে খুব মনে পড়ে। কেউ লিখেছেন—আমি নিজেকে ভালোবাসি, পৃথিবীকে ভালোবাসি’
পাশেই লাগানো হয়েছে ‘ওয়েলনেস-হ্যাপিনেস ট্রি’ নামে একটি সবার আকাঙ্খার বিষয় সেখানে স্টিকি নোটে জুড়ে দিচ্ছেন সবাই। সেখানে টাকা, সিজিপিএ, ভালোবাসা, সুখ, প্রেম, খাবার, আনন্দসহ নানা শব্দে লিখিত স্টিকিনোট লাগিয়েছেন অনেকেই।
কয়েকটি স্টল বসিয়ে সেখানে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা প্রচারণামূলক লিফলেট প্রদর্শন করছেন সংশ্লিষ্টরা। এগুলোতে মাদকের ভয়াবহতা, এর থেকে উত্তরণের উপায়, সিগরেটের ক্ষতিকর দিকসহ নানা বিষয়ে বই ও লিফলেট রয়েছে।
The post ‘ঢাবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির আওতায় আনা হবে’ appeared first on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.