নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় নোবিপ্রবি কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করেছে ১৭ হাজার পরীক্ষার্থী। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও তাদের স্বজনদের জন্য বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির’সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে যাতায়ত, আবাসন, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, মেডিকেল সেবা’সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে।
শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ পরীক্ষার কার্যক্রম। আজ গুচ্ছ ‘সি’ ইউনিটের ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা প্রতি আসনের বিপরীতে ১০ জন করে মোট ১হাজার ৭০৫জন শিক্ষার্থী লড়ছেন।
এদিকে আগামী ২মে ‘বি’ ইউনিটে মানবিক বিভাগের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ও ৯ মে ‘এ’ বিজ্ঞান ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আর্কিটেকচার ব্যবহারিক (ড্রয়িং) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তিনটি ইউনিটে তিন ধাপে মোট ১২হাজার ৭২৬জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো ভোগান্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে পরিবহন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন’সহ সব দিকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সহায়তায় চৌমুহনী ও সোনাপুর মোড়ে যানজট এড়াতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ভাড়া বৃদ্ধি রোধে হোটেল ও যানবাহন কর্তৃপক্ষকে নজরদারির আওতায় আনা হয়। পরীক্ষা চলাকালে স্থানীয় ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্বজনদের জন্য অডিটোরিয়াম ও প্যান্ডেলের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আগত পরীক্ষার্থীরা জানান, কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়া তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে পেরেছেন। বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবেশ অতন্ত সুন্দর ও শিক্ষা বান্ধব বলে জানিয়েছেন তারা।
ছাত্রদল নেতা ও সভাপতি প্রার্থী জাহিদ হাসান জানান, ছাত্রদল সবসময়ই শিক্ষার্থীদের সুবিধা দিতে সর্বাগ্রে উপস্থিত থাকে। নোবিপ্রোবিতে ভর্তি পরীক্ষা আগত শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা নাছির উদ্দীন ভাইয়ের নির্দেশনা আমরা যেমন বুথ স্থাপন করে সেবা দিয়েছি, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের যাতায়াত, মেডিকেল সেবাসহ বিভিন্ন সুবিধা দিতে আমরা কাজ করছি। এছাড়া যাতায়ত, আবাসন, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, মেডিকেল সেবা’সহ বিভিন্ন সহযোগিতা আগামী পরীক্ষাগুলোতে অব্যহত থাকবে বলে জানান এ ছাত্র নেতা।
ছাত্র শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা আগত শিক্ষার্থীদের জন্য একটা গাইডলাইন তৈরী করেছি যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এবং উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোন কোন সাবজেক্ট নিয়ে কিভাবে সুবিধা পাবে বা পড়তে পারবে সে পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামালের জন্য এই প্রথম লকার সিস্টেম রেখেছি। এ ছাড়া কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান করছি।
ছাত্রদলের আরেক নেতা হাসিব হোসেন বলেন, আমরা জেলার বিভিন্ন স্থানে হেল্প ডেস্ক স্থাপনের মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছি এবং একইসাথে খাবার পানি, স্যালাইন ও কলমসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহযোগীতা করছি।
পরীক্ষা শুরু পর বিভিন্ন হল পরিদর্শন শেষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাঈল জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিতি প্রায় শতকরা ৯৮ ভাগ। সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা আপনাদের মাধ্যমে নোয়াখালী বাসীকে ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় সুন্দর ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।