
মেধা যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নীলফামারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সব স্তরের মানুষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ লাইন্সে পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ৩৮জনকে বরণ করে নেয়া হয়। এ সময় তাদের অভিনন্দন জানান পুলিশ সুপার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান এ সময় বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলবো, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে ৩৮জনের চাকুরী হচ্ছে তাদের একটিও পয়সাও খরচ হয়নি, ট্রেজারি চালানের ১০০টাকা ছাড়া। মাননীয় ডিআইজি স্যারের নির্দেশনা চাকুরী নয় সেবার ব্রত নিয়ে যারা পুলিশে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক তাদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচন করা হয়েছে এবং যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের পরিবারে কারো
সরকারী চাকুরী নেই।
জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের আইনুল ইসলাম বলেন, আমি যখন চাকুরীর পরীক্ষার জন্য এখানে আসি, আগে থেকেই মানুষজন টাকা ছাড়া চাকুরী হবে না বলে জানাতো এবং নিরুৎসাহিত করবো। কয়েকটি ধাপ পেড়িয়ে যখন আমি ভাইভার
জন্য মনোনীত হই, তখনও প্রতিবেশীরা ধরার লোক ছাড়া হবে না বলে আশাহত করতো। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিলো মেধার মুল্যায়ন হবে এবং হয়েছে। এজন্য এসপি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
সোনারায় ইউনিয়নের চকতদুবুলিয়া গ্রামের শিরিন আকতার নামে নির্বাচিত পুলিশ সদস্য বলেন, প্রতিটি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ভাবে করা হয়েছে। একটু ভুল হলেই বাদ দেয়া হয়েছে প্রার্থীদের। আমি আজকে যে নির্বাচিত হয়েছি আমি মনে করি নিয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্র পূরণ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম মুক্তারুজ্জামান বলেন, ১৫২০জন আবেদন করেছিলো পুলিশে নিয়োগের জন্য। এরমধ্যে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া শেষে ভাইভার জন্য ৭৬জনকে নির্বাচিত করা হয়। এরমধ্য থেকে ৩৮জনকে চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচন করা হয় এবং ৫জনকে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়। নারী কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পুলিশ পোষ্য কোটা ও এতিম কোটা পূরণ করা হয়েছে নিয়োগের ক্ষেত্রে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত ৩৮জনের মেডিক্যাল সম্পন্ন হবে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে। সেখানকার প্রক্রিয়া শেষে তারা নিয়োগ পত্র লাভ করবেন।