আহমদ বিলাল খান :
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। সংগঠনটির দাবি, প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগকে ঘিরে ‘পার্বত্য চুক্তি লঙ্ঘন’ বলা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এ অবস্থান জানান। তারা বলেন, প্রশাসনিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ মন্ত্রণালয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বাঙালি ব্যক্তিত্বরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই বর্তমান প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ নতুন বা নজিরবিহীন নয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজেই এ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, লে. জে. (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরী, লে. জে. (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী ও ড. ফখরুদ্দীন আহমদের মতো ব্যক্তিত্বরা। সংগঠনটির মতে, এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাঙালি দায়িত্ব পালন করার ঐতিহাসিক নজির রয়েছে।
পিসিসিপি আরও জানায়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা স্মারক; এটি দেশের সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়। সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। তাই প্রতিমন্ত্রী নিয়োগকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয় বলেও দাবি করা হয়।
সংগঠনটি মনে করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সাবেক বিচারক দীপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত নেতৃত্ব পাহাড়ের ভূমি বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অঞ্চল। এ অঞ্চলকে ঘিরে বিভ্রান্তি বা বিভেদ সৃষ্টির যে কোনো প্রচেষ্টা রুখে দিতে সংগঠনটি সতর্ক অবস্থানে থাকবে। একই সঙ্গে শান্তি, সমতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পিসিসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জমির উদ্দিন।