ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হচ্ছে না এবং ভারতের মাটি থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। সরকার এ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে।
হাসিনাকে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পর্যালোচনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো অনুরোধ ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।
সংসদীয় কমিটি উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে মূলত দেশটির মানবিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে। জীবন ও নিরাপত্তার হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার নীতির আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বাংলাদেশের অনুরোধও আইনগত কাঠামোর মধ্যে বিবেচনার সুপারিশ করেছে কমিটি।
ভিসা সেবা স্বাভাবিক করার সুপারিশ
বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তাদের মতে, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে ভিসা সেবা স্বাভাবিক করা জরুরি।
কমিটি পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার এবং ভিসাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে দ্বিপাক্ষিক কনস্যুলার সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ থেকে কনস্যুলার কর্মীদের সরিয়ে নেয় ভারত। এরপর থেকেই দেশটিতে ভিসা সেবা সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচটি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসাসংক্রান্ত ভিসা। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে ভিসাকেন্দ্র ও ভিসার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গঙ্গা চুক্তি নবায়নের তাগিদ
সংসদীয় কমিটি ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরুর সুপারিশ করেছে।
কমিটির মতে, চুক্তি নবায়নের সময় হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক আলোচনায় এ বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।