শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

যেখানে ভালো মানুষ হওয়ার পাঠই সবচেয়ে বড় শিক্ষা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৮ সময় দেখুন
যেখানে ভালো মানুষ হওয়ার পাঠই সবচেয়ে বড় শিক্ষা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শুধু পাস–ফেল বা ভালো ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় শিক্ষা—মানুষ হওয়াটাই আসল সাফল্য। সেই বোধ আর মূল্যবোধের পাঠেই বেড়ে উঠছে নড়িয়ার সিংহলমুড়ি খঞ্জন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান যেন নতুন করে সে কথাই মনে করিয়ে দিল।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ১০২ নং সিংহলমুড়ি খঞ্জন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রূপ নেয় স্মৃতি, স্বপ্ন আর প্রত্যয়ের মিলনমেলায়। “আগামীর বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা, কৃতি শিক্ষার্থী ও সেরা মা সম্মাননা অনুষ্ঠানে মিলিত হন প্রশাসনের কর্মকর্তারা, শিক্ষক, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. তাজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন।

আলোচনা পর্বে অতিথিরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে মানুষের চরিত্র গঠনের ভিত্তি। এই সময় শিশুদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের বীজ বপন করা হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, “ভালো মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় সাফল্য—পেশা বা পদ তার পরের বিষয়।”

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্ত আসে যখন ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা মাইক্রোফোন হাতে নিজেদের স্বপ্নের কথা বলে। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাদিজা জানায়, সে মানুষের উপকার করতে চায়। দ্বিতীয় শ্রেণির লামিয়া বলে, “আমি অনেক পড়াশোনা করে বড় মানুষ হতে চাই।” আর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইমা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে, সে একদিন দেশের জন্য কাজ করবে। তাদের নিষ্পাপ কণ্ঠে উচ্চারিত এই স্বপ্নে মুগ্ধ হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

এদিন শিক্ষায় বিশেষ অবদান ও ভালো ফলাফলের জন্য কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্তান গঠনে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে সেরা মায়েদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণের সময় অনেক মায়ের চোখে দেখা যায় আনন্দাশ্রু—ত্যাগ আর ভালোবাসার নীরব স্বীকৃতি যেন এই মুহূর্তে পূর্ণতা পায়।

সন্তানকে নিয়ে গর্ববোধের অনুভূতি প্রকাশ করে অভিভাবক আসমা আক্তার বলেন, এই স্কুল আমার সন্তানের শুধু পড়াশোনাই শেখায়নি, মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। আমার সন্তান আজ যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলছে, সেটা একজন মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় গর্ব।

উপজেলার ১০২ নং সিংহলমুড়ি খঞ্জন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাছুম সরদার বলেন, আজ আমাদের স্কুলের সকল শিক্ষার্থীদের সপ্ন শুনে তাদের সপ্নের মানুষ গুলোকে তাদের সামনে আনার চেষ্টা করেছি। এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য দোয়া থাকবে এবং সকলের সপ্ন পূরনের জন্য দোয়া থাকবে।

দিনব্যাপী এই আয়োজন ছিল একদিকে স্মৃতির পুনর্মিলন, অন্যদিকে আগামীর স্বপ্ন বোনার এক অনন্য ক্ষেত্র। ৩৫ বছরের পথচলায় সিংহলমুড়ি খঞ্জন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রমাণ করেছে—এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ভালো মানুষ গড়ে তোলার এক নির্ভরযোগ্য বাতিঘর।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom