শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে শিল্পাঞ্চল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পর অনেকটায় স্বাভাবিক কর্ণফুলীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫ অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী Ramayana Box Office Collection Day 1: Ranbir Kapoor, Yash’s Film Mints Rs 64.85 Crore On Opening Day | Bollywood News ‘Ordinary bowler’: Ex-India captain slams CSK’s ‘confusing’ trade, says SRH are the real winners | Cricket News শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে পলাতক আ.লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী মইজ্জ‍্যারটেকে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসার অভিযোগ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

যেভাবে ৭ দিনে ৫ কেজি ওজন কমাবেন

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩
  • ১৪০ সময় দেখুন
যেভাবে ৭ দিনে ৫ কেজি ওজন কমাবেন


লাইফস্টাইল ডেস্ক

বছরের পর বছর ধরে অনুসরণ করা হয় এমন সব নিয়মই যে আমাদের জন্য উপকারী তা নয়। আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারটাও তাই। ওজন কমানোর সব পদ্ধতি সবার জন্য ফলপ্রসূ হবে এমনটা নয়। দ্রুত ওজন কমায় এমন একটি খাদ্যাভ্যাস হল জি এম ডায়েট। তিন দশকেরও কিছু বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মটর নামের গাড়ির কোম্পানি তাদের কর্মচারীদের সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এই খাদ্যাভ্যাসের সাথে পরিচিত করায়। জি এম ডায়েটে সপ্তাহের সাতদিন আলাদা ধরণের খাবার খেতে হয়। জি এম ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এক সপ্তাহে দশ পাউন্ডের মত ওজন কমানো সম্ভব।

আসুন জেনে নেই এই ডায়েট অনুসরণ করে আপনিও কীভাবে বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলে একটি সুস্থ জীবন পেতে পারেন। প্রথমেই জেনে নেই জি এম ডায়েট কী।

জি এম ডায়েট

জেনারেল মটর কোম্পানি এই ডায়েট উদ্ভাবন করায় একে জি এম বা জেনারেল মটর ডায়েট বলা হয়। বলা হয়ে থাকে এই ডায়েট অনুযায়ী খাবার খেলে সপ্তাহে ছয় কেজির বেশি ওজন কমানো সম্ভব। এই খাদ্য পরিকল্পনায় সপ্তাহের সাত দিনে সাত রকম খাবার খেতে হয়। এই খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে দ্রুত চর্বি ঝরিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

জি এম ডায়েটে উচ্চ মাত্রার আঁশ সমৃদ্ধ খাবার ও কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট থাকে। এতে চর্বি থাকেই না বলতে গেলে। সেইসাথে চিনি, সোডিয়ামের মাত্রাও থাকে কম যা ডিটক্সিফিকেশন করে বা শরীরকে ক্ষতিকর পদার্থমুক্ত রাখে। আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ হজম প্রক্রিয়া বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য থেকে পুষ্টি উপাদান শোষন করতেও সাহায্য করে। যেহেতু জি এম ডায়েটে প্রচুর পরিমাণ ফল ও শাক সবজি খাওয়া হয় তাই এসব থেকে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। আর ডাল, দুধ, মাংস, মাছ, শিমের বিচি ইত্যাদি থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তো পাচ্ছেই শরীর। তাই বলা যায় জি এম ডায়েট মেনে চলার মানে কোন খাদ্য উপাদান থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা নয় বরং মাত্র এক সপ্তাহের জন্য সবরকম খাবারই খাওয়া তবে নিয়ন্ত্রিতভাবে।

আসুন নীচের খাদ্য পরিকল্পনাগুলো থেকে জেনে নেই সপ্তাহের সাত দিন কী কী ধরণের খাবার খেয়ে জি এম ডায়েট অনুসরণ করা যায়।

প্রথম দিন

ফল দিয়ে শুরু করতে পারেন জি এম খাদ্যাভ্যাসের প্রথম দিন। পানিজাতীয় ফল যেমন তরমুজ, লেবুজাতীয় ফল, শশা ইত্যাদি খেতে পারলেও এদিন কলা খেতে পারবেন না। ফলের পাশাপাশি অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে ভুলবেন না।

দ্বিতীয় দিন

দ্বিতীয় দিনে খেতে হবে শুধুই শাক সবজি। এসব শাক সবজি কাঁচাও খেতে পারেন আবার রান্না করেও খেতে পারেন। এদিন খেতে পারেন বড় একটি সেদ্ধ আলু। আবার এক চা চামচ লো ফ্যাট মাখন বা তেলে রান্না করা ফুলকপি, জুকিনি, ক্যাপসিকাম, বিটরুট, গাজর, পেঁয়াজ, শশা, লেটুস, বাঁধাকপি, আলু ইত্যাদিও খেতে পারেন। এই রান্নায় যোগ করে নিতে পারেন আপনার প্রিয় অন্য যেকোন সবজি। কিন্তু এদিন ভুলেও কোন ফল, ডিম, মাশরুম, কোনরকম কোন ডাল খাওয়া যাবে না। শাক সবজির সাথে পান করুন প্রচুর পানি।

তৃতীয় দিন

প্রথম দুই দিনের খাবার একসাথে মিলিয়ে খেতে হবে তৃতীয় দিন। কাঁচা অথবা সেদ্ধ সবজি, নানারকম ফল খেতে পারলেও কলা আর আলু খেতে পারবেন না এদিন। সেইসাথে বাদ দিতে হবে দুগ্ধজাত খাবার, সব ধরণের শস্য, মাংস এবং সব রকমের ডাল। এদিনও প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

চতুর্থ দিন

জি এম খাদ্য পরিকল্পনার মধ্যভাগে এসেই পড়লেন। অনেক তো নিয়ন্ত্রণ করলেন নিজেকে। আজ খেতে পারবেন কলা, দুধ আর স্যুপ। সারাদিনে আপনি আটটি কলা ও চার গ্লাস দুধ ছাড়া কিছুই খেতে পারবেন না। চাইলে মজাদার বানানা মিল্ক শেক বানিয়েও খেতে পারেন। তবে মিল্কশেকে কোনরকম চিনি যোগ করতে পারবেন না। আর সেইসাথে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকতে হবে আপনার খাদ্যতালিকায়।

পঞ্চম দিন

কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের অতি কাছে পৌঁছে গিয়েছেন আপনি। পঞ্চম দিনে এসে আপনি নিজেকে কিছুটা ব্রাউন রাইস ট্রিট দিতেই পারেন। শুধু শস্যদানাই নয় এদিন আপনি খেতে পারেন টমেটো, যেকোন চর্বিমুক্ত লাল মাংস, মুরগি, মাছ, কটেজ চিজ বা পনির, টকদই আর শসা। জি এম ডায়েটের পঞ্চম দিনের ডিনারে আপনি খেতে পারেন পেঁয়াজ, টমেটো, বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম, সেলেরি পাতা, লবণ, মরিচ, ভিনেগার, লেবুর রস ও নানারকম হার্বস সহযোগে তৈরি সুস্বাদু স্যুপ। জি এম ডায়েট অনুসরণ করা অতটাও খারাপ না কী বলেন!

ষষ্ঠ দিন

গত পাঁচ দিন নানারকম মুখরোচক খাবার থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা আপনার জন্য ষষ্ঠ দিনটা হতে যাচ্ছে একটা আনন্দময় দিন। কারণ, এদিন আপনার হাতে প্রচুর বিকল্প। খেতে পারেন লাল চাল, চর্বিমুক্ত মাংস, কাঁচা বা রান্না করা সবজি, ছোলা, শিমের বিচি, মুরগি, মাছ, মাশরুম আর সবরকমের ডাল। তবে যেকোন দুগ্ধজাত খাবার, গরুর মাংস, সাদা চাল, আম, কলা ও চেরির মত ফল ও কন্দ জাতীয় সবজি যেমন আলু, মূলা ইত্যাদি খেতে পারবেন না।

সপ্তম দিন

এ কদিনের নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে অনেক তো কষ্ট করলেন। আর মাত্র একদিন। শেষের দিন আপনি খান ফলের রস, ব্রাউন রাইস বা লাল চাল ও শাকসবজি। তবে আলু, মিষ্টি আলু, কলা, আম, পিয়ারস, দুগ্ধজাত খাবার, হাঁসের মাংস, মুরগির মাংস, মাসরুম, শিমের বিচি আর সব রকমের ডাল খাওয়া যাবে না।

জি এম ডায়েটে কি করবেন আর কি করবেন না

১. যেদিন ফল খাওয়ার দিন সেদিন অন্য কোন খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
২. যত কষ্টই হোক না কেন শুধুমাত্র খাদ্য তালিকায় থাকা খাবারই খান।
৩. যেদিন শুধু দুধ খাওয়ার দিন সেদিন দুধের বদলে অন্য কোন দুগ্ধজাতীয় খাবার যেমন দই, পনির, পুডিং ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৪. যতই মুখরোচক হোক না কেন তেল জাতীয় খাবার থেকে নিজেকে সামলে রাখুন। একইসাথে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও টিনজাত খাবার খাওয়া যাবে না।
৫. জি এম ডায়েট মেনে চলার সপ্তাহে ভিনেগার, লেবুর শরবত এবং নানারকম হার্বস যেমন ধনেপাতা, পার্সলে পাতা, পুদিনা পাতা ইত্যাদি খেতে পারবেন।
৬. সালাদ ড্রেসিং,মসলাযুক্ত খাবার,আচার এবং সস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৭. যতই ভালো লাগুক না কেন পনিরকে না বলুন।
৮. যেদিন মাংস এবং দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার কথা শুধুমাত্র সেদিনই খান।
৯. জি এম ডায়েটের সাত দিন গ্রিন টি এবং ব্ল্যাক কফি চলতে পারে।
১০. ওজন কমাতে চাইলে জি এম ডায়েটে চিনি বাদ দিতে হবে পুরোপুরি।
১১. স্টিম করা বা ভাপ দেওয়া এবং প্রেশার কুকারে রান্না খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চেষ্টা করুন।

সারাবাংলা/এসবিডিই





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর