শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাম ও হামের উপসর্গে ৩০ দিনে ১৪৩ শিশুর মৃত্যু Youth-led Innovation Lab-এ ইপসার সাফল্য, জাতীয় পর্যায়ে যাচ্ছে TeaCycle ও Econova দৈনিক পূর্বকোণের সাংবাদিক পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার রাকসু নির্বাচন: মেয়াদ শেষ, দ্রুত নির্বাচনের দাবি ছাত্রনেতাদের কালিয়াকৈরে ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের উপরে ময়লার ভাগার সাধারণ পথচারীর চরম জনদুর্ভোগ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে তেলবাহী ৪ জাহাজে আগুন Ankur Rathee Calls Indian Cinema’s Fair-Skin Bias ‘Dangerous’: ‘West Idolises Lupita Nyong’O’ | Exclusive | Bollywood News ‘I was very happy’: Smriti Mandhana reveals MS Dhoni’s special WhatsApp message after World Cup win | Cricket News পিরোজপুরে মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

রক্তদানে মানবদেহে যেসব উপকার হয়

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৩৬ সময় দেখুন
রক্তদানে মানবদেহে যেসব উপকার হয়


তামান্না সুলতানা

জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবস আজ। আমাদের দেশে প্রতিবছর ২ নভেম্বর স্বেচ্ছায় রক্ত ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়। দিবসটির মুল উদেশ্যই থাকে স্বেচ্ছায় রক্ত ও মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে মানুষকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা। মানষকে এই দুই মহৎ কাজ সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী। ১৯৭৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে যাত্রা শুরু হওয়া স্বাস্থ্যখাতের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ১৯৭৮ সালের ২ নভেম্বর প্রথমবার স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে। পরবর্তীতে এই দিনটিকেই ‘জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

রক্তদান কী

অন্য কারো প্রয়োজনে নিজের রক্ত দান করাই রক্তদান। এজন্য রক্তদাতাকে অবশ্যই পূর্ণবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স হতে হয়। উন্নত দেশে বেশিরভাগ রক্তদাতাই স্বেচ্ছায় রক্তদাতা, যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদান করেন। উন্নয়নশীল বা দরিদ্র দেশগুলোতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বেশ কম, বেশিরভাগ রক্তদাতাই কেবল তাদের পরিচিতজনদের প্রয়োজনে রক্তদান করে থাকেন। বেশির ভাগ রক্তদাতাই সমাজসেবামূলক কাজ হিসেবে রক্তদান করেন, তবে কিছু মানুষ পেশাদার রক্তদাতা, অর্থাৎ তারা টাকার বিনিময়ে রক্তদান করে থাকেন।

রক্তদানে মানবদেহে যেসব উপকার হয়

কারা রক্ত দিতে পারবেন

প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ নারী ও পুরুষ রক্ত দিতে সক্ষম। এক্ষেত্রে পুরুষের ওজন থাকতে হবে অন্তত ৪৮ কেজি এবং নারীর অন্তত ৪৫ কেজি।

রক্তদাতার রক্তদানের সময় দেহের তাপমাত্রা ৯৯.৫ ফারেনহাইটের নিচে এবং নাড়ির গতি ৭০ থেকে ৯০ এর মধ্যে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকতে হবে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে রক্তের হিমোগ্লোবিন প্রতি ডেসিলিটারে ১৫ গ্রাম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১৪ গ্রাম থাকতে হবে।

রক্তদাতাকে অবশ্যই ভাইরাসজনিত রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং চর্মরোগ মুক্ত থাকতে হবে।

কতদিন পর পর রক্তদান

একজন রক্তদাতা কতদিন পরপর রক্তদান করতে পারবেন তা নির্ভর করে তিনি কী দান করছেন তার ওপর এবং যে দেশে রক্তদান সম্পন্ন হচ্ছে সে দেশের আইনের উপর। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে পাঁচ-ছয় লিটার রক্ত থাকে। এর মধ্যে সাধারণত ২৫০ থেকে ৪০০ মিলিলিটার রক্ত গ্রহণ করা হয়, যা শরীরে থাকা মোট রক্তের মাত্র ১০ ভাগের এক ভাগ। রক্তের মূল উপাদান পানি, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পূরণ হয়। প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন। এবং এতে স্বাস্থ্যে কোনো ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।

রক্তদানের উপকারিতাগুলো

তবে রক্তদানের পদ্ধতি ও পরবর্তী প্রভাব সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অযথা ভীতির কারণে অনেকেই রক্ত দিতে দ্বিধান্বিত হন। কিন্তু রক্তদানেরও রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা।

দানকৃত রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাবে। মুমূর্ষুকে রক্ত দিলে মেলে এই মানসিক তৃপ্তি।

রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। রক্তদানের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ‘বোনম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকা জন্ম হয়, ঘাটতি পূরণ হয়।

রক্তদানে মানবদেহে যেসব উপকার হয়

বছরে তিনবার রক্তদান শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলে ও নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়ায়।

নিয়মিত রক্তদানকারীর হার্ট ও লিভার ভালো থাকে। এটি রক্তে কোলস্টেরলের উপস্থিতি কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমাতেও রক্তদান সহায়ক।

শরীরে অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতিকে বলে ‘হেমোক্রোমেটেসিস’। নিয়মিত রক্তদান এই রোগ প্রতিরোধ করে।

স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে পাঁচটি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনা খরচে করা হয়। এর মাধ্যমে জানা যায় শরীরে অন্য বড় কোনো রোগ আছে কি না। যেমন—হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।

রক্তদান অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

রক্তদানের আগে মনে রাখবেন

ভরপেটে খাওয়ার চার ঘণ্টা পর রক্ত দেওয়া শ্রেয়।

কোনো রূপ এনার্জি ড্রিংক রক্তদানের আগে সেবন না করাই ভালো।

যাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তদান করতে পারেন।

দাতার রক্তের স্ক্রিনিং টেস্ট বা রক্ত নিরাপদ কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।

রক্তদানে মানবদেহে যেসব উপকার হয়

রক্তদান নিষেধ যাদের

যে কোনো ধরণের মাদক সেবনকারী।

গর্ভবতী নারী ও অ্যাজমার রোগী

হেপাটাইটিস-বি ও সি-র এন্টিজেন পজিটিভ যাদের। পরবর্তী সময় তা নেগেটিভ হলেও রক্ত দেওয়া যাবে না।

ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া, ম্যালেরিয়া, এইচআইভি বা এইডস আক্রান্তসহ জীবাণুঘটিত কোনো রোগী।

রক্তদানের পর করণীয়

রক্ত দেয়ার পর রক্তদাতা যদি ঘামতে থাকেন এবং অস্থিরতা হয়, তবে স্যালাইন খেতে পারেন।

রক্তদানের পর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা মাথা ঘুরতে পারে। তাই এ সময় হাঁটাহাঁটি না করে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে হবে।

রক্ত দেয়ার সময় শরীর থেকে রক্তের পাশাপাশি ২৫০-৩০০ মিলিগ্রাম আয়রন কমে যায় তাই তার ক্ষয়পূরণে আয়রন ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে।

সারাবাংলা/এসবিডিই/এএসজি





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর