বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা: প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের কালিয়াকৈর হাইটেক সিটির লাখ টাকা মূল্যের তামার তার ও পাইপ চুরির ঘটনায় ৬ জন আটক তিতুমীর কলেজে ৫ম ‘মেমোরি লেন’ আর্ট প্রদর্শনী শুরু ‘No Competition’: Abhay Verma Roots For ‘Lovely Guy’ Ahaan Panday, Feels ‘Proud’ Of Aneet Padda | Exclusive | Bollywood News ‘You’re going to get in trouble’: Ex-India cricketer warns Yashasvi Jaiswal after ugly clash | Cricket News সরকারের কাজ দেখে বিচারের আহ্বান চিফ হুইপের উন্নত চিকিৎসাসেবায় প্রশিক্ষণ নিতে চীন যাচ্ছেন বিএমইউর ৭ চিকিৎসক ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪ স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের ফের উপবৃত্তি চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কালিয়াকৈরে শিক্ষার মান উন্নয়নে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশসহ সার্বিক শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণ করেন ইউএনও

শিক্ষার্থীদের কাছে আবেগঘন অনুরোধ— ‘আমার চাকরিটা খাইয়ো না’

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬৫ সময় দেখুন
শিক্ষার্থীদের কাছে আবেগঘন অনুরোধ— ‘আমার চাকরিটা খাইয়ো না’


কুমিল্লা: কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে সাত শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন জেলায় বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ঘটনাকে ঘিরে কলেজজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার। বদলির প্রতিবাদে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে বদলিকৃত ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না।’ তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদদুসের সই করা এক আদেশে সাত শিক্ষককে ওএসডি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে পদায়ন দেওয়া হয়। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বদলিকৃত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন।

শিক্ষকদের দাবি, বদলির সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না এবং নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে কলেজের শিক্ষকরা নিজেরাও সহযোগিতা করেছেন।

জানা গেছে, বদলিকৃতদের মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম সরাসরি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে ছিলেন না; তার ছেলে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক কনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও জ্যেষ্ঠদের অনাগ্রহে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন। সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই সকালে ভারী বর্ষণে কলেজ প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। সে সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর উদ্যোগে ডিঙি নৌকা ও ভ্যানগাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

এদিকে গত ১৮ জুলাই কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারের ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন।

একসঙ্গে সাত শিক্ষকের বদলির ঘটনা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর