যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানেরযুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর পর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, নতুন এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতির ‘মূল চালিকা শক্তি’ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তবে ইরান বলছে, তাদের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারেরা ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপকে প্রতিহত করবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপগুলো ঘোষণা করেন। তবে সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে তিনি বিরত থাকেন।
তিনি বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে, তাদের ডলার-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিতাড়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে কোন কোন দেশকে লক্ষ্য করে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, তা জানাননি বেসেন্ট। এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কবে থেকে কার্যকর হবে, সেটিও উল্লেখ করেননি তিনি।
বেসেন্ট আরও বলেন, নতুন নির্দেশনা মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হবে। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এ তালিকায় ইরানের তেল–বাণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগ থাকা চীনের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেই।
এই খবর প্রকাশের আগে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অর্থনৈতিক পদক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রফতানি আরও কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর ইরানের অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেন, ‘আমরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
আলী মাদানিজাদেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, শত্রুরা আমাদের ওপর একটি অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। কিন্তু আমাদেরও নিজস্ব অস্ত্রশস্ত্র আছে এবং আমরা জানি কীভাবে এই খেলা খেলতে হয়। আমাদের প্রতিরক্ষা এখন আর ততটা রক্ষণাত্মক নয়; শত্রুদের একটি আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।’
তিনি আরও জানান, চীন বা রাশিয়া কেউই যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে অন্যান্য দেশ এর প্রতিরোধ করবে।
প্রেস টিভি জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি অঙ্গীকার করেছেন যে, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এবং জ্বালানি সরবরাহ পথের ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, কিন্তু ইসলামাবাদ স্মারকলিপি নামে পরিচিত এই চুক্তিটি দ্রুতই ভেস্তে যায়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান তেহরানের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে। যেখানে সংঘাত রোধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।